বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেললাইনে আগুন-ভাঙচুর, বরখাস্ত ৪ আরএনবি সদস্য

রাবি প্রতিবেদক, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক, ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:৪৫ পূর্বাহ্ন
রাবি শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেললাইনে আগুন-ভাঙচুর, বরখাস্ত ৪ আরএনবি সদস্য

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) শিক্ষার্থীকে রেলওয়ের কর্মচারীদের  হামলার প্রতিবাদে রাজশাহী রেলস্টেশনে ভাঙচুর ও রেললাইনে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ-মিছিল করেছেন শিক্ষার্থীরা। এ ঘটনায় জড়িত রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।


রোববার রাত সাড়ে ৯টার দিকে রাজশাহী  রেলওয়ে স্টেশনে ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের তৃতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আইয়ুব আলী হামলার শিকার হন। ঘোরতর  আহত অবস্থায় তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


‎পরে  আইয়ুব আলীকে দেখতে হাসপাতালে  যান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম ও প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান।


‎উপাচার্য অধ্যাপক ফরিদুল ইসলাম বলেন, সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকেরা আইয়ুবকে ২৪ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে রাখবেন। তার অবস্থা আশঙ্কাজনক। বিষয়টি রাজশাহী মহানগর পুলিশ কমিশনার ও পশ্চিমাঞ্চল রেলের মহাব্যবস্থাপককে দৃষ্টিগোচর করা হয়েছে।আগেও দুই-তিনবার রাবির শিক্ষার্থীদের রেলওয়ের কর্মচারীরা মারধর করেছেন। এসব ঘটনায় দৃষ্টান্তমূলক ও দৃশ্যমান শাস্তি দাবি জানাচ্ছি ।


রাকসু জিএস সালাউদ্দিন আম্মার জড়িত ব্যক্তিদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়ে  ফেইসবুক পোস্টে এক ঘণ্টার আলটিমেটাম দেন।

‎দাবি মানা না হলে প্রতিটি ট্রেন থেকে দুজন করে কর্মচারী তুলে নেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন তিনি।

‎রাত সাড়ে ১০ টার দিকে শিক্ষার্থীরা রাবি স্টেশনে জড়ো হতে থাকেন। এক পর্যায়ে আগুন জ্বালিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করেন।


রাকসুর এজিএস সালমান সাব্বির বলেন, রেললাইন ও স্টেশনকে কেন্দ্র করে রেলওয়ের কর্মচারী, কর্মকর্তা ও টিটিইদের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বারবার হয়রানি ও নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। এসব ঘটনার প্রতিবাদ এবং পুনরাবৃত্তি ঠেকাতেই তাঁরা অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। রাতের মধ্যে সমাধান না এলে এবং বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন সহযোগিতা না করলে আন্দোলন আরও কঠোর করার কথা জানান তিনি।


‎শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভের মধ্যে রাজশাহী রেলস্টেশনে ঘটে যাওয়া অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত সন্দেহে আরএনবির চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্ত নেয় রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ। বাংলাদেশ রেলওয়ের রাজশাহী শাখার চিফ কমান্ড্যান্ট আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য নিশ্চিত হয়।


‎বরখাস্ত হওয়া চার সদস্যরা হলেন মো. আরিফ হোসেন, মো. রোকন উদ্দীন, মো. শফিকুল ইসলাম ও মো. শাহাদত হোসেন।

‎তবে এই সিদ্ধান্তে সন্তুষ্ট না হয়ে শিক্ষার্থীরা রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের দিকে রওনা হন। সেখানে প্রায় পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থী জড়ো হন। পরে তাঁরা স্টেশনে ভাঙচুর চালান। এ সময় স্টেশনের সিসিটিভি, হেল্প ডেস্ক ও জানালার কাচ ভাঙচুর করা হয়।


‎পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টরিয়াল বডির সদস্যরা ঘটনাস্থলে যান। পরে প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমানসহ প্রায় ২০ থেকে ৩০ জন শিক্ষক স্টেশনে গিয়ে শিক্ষার্থীদের শান্ত করেন। রাত ২টার দিকে শিক্ষার্থীরা স্টেশন ত্যাগ করেন।


প্রক্টর অধ্যাপক মাহবুবর রহমান বলেন, প্রক্টরিয়াল টিম ঘটনাস্থলে যাওয়ার পর শিক্ষার্থীরা তাঁদের কথা শুনেছেন। পরে তাঁরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে সক্ষম হন। এখন সবাইকে নিজ নিজ জায়গা থেকে দায়িত্বশীল আচরণ করতে হবে, যাতে নতুন কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা না ঘটে।