বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

রাজশাহী রেলস্টেশন ভাঙচুর শিক্ষার্থীদের

রাষ্ট্রীয় সম্পদ ক্ষতির ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেবে রেল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১১:০১ অপরাহ্ন
রাজশাহী রেলস্টেশন ভাঙচুর শিক্ষার্থীদের

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের অভিযোগ রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনের ভাঙচুর করেছে শিক্ষার্থীরা। এসময় ট্রেনে থাকা যাত্রীরা আতঙ্কিত হয়ে ছোটাছুটি করেন।


রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাত ১১টার পর রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে এ ঘটনা ঘটে।  শিক্ষার্থীরা ‘মার্চ টু রাজশাহী রেলস্টেশন’কর্মসূচির ঘোষণা করে এবং স্টেশনে ভাঙচুর করেন। তবে ঢাকাগামী ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেনটি ছেড়ে যেতে পারিনি। এই ট্রেনে প্রায় হাজারের বেশি যাত্রী ছিল।


জানা গেছে, আইয়ুব আলী নামের এক রাবি শিক্ষার্থী তার চাচাকে নিতে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে গিয়েছিলেন। এ সময় স্টেশনে ইংরেজি বিভাগের দুই শিক্ষার্থীর সঙ্গে দায়িত্বরত আনসার সদস্যদের কথা-কাটাকাটি হয়। একপর্যায়ে আইয়ুব আলী এর প্রতিবাদ করলে তাকে মারধর করা হয়। এ ঘটনার ২৬ সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।


মারধরের শিকার আইয়ুব আলী বিশ্ববিদ্যালয়ের ইসলামের ইতিহাস ও সংস্কৃতি বিভাগের ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। তিনি বর্তমানে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন। আইয়ুবের সহপাঠী মোহাম্মদ মিজান বলেন, রেলস্টেশনে রাবির কয়েকজন শিক্ষার্থীর সঙ্গে রেলওয়ের কর্মচারীদের বাগ্বিতণ্ডা হচ্ছিল। পরে আইয়ুব তাদের পক্ষে কথা বললে তাকে বেধড়ক মারধর করা হয়। বর্তমানে তিনি রামেক হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।


এ আন্দোলনের নেতৃত্ব দিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদের (রাকসু) সাধারণ সম্পাদক (জিএস) সালাহউদ্দিন আম্মার। এ ছাড়া ট্রেন থামিয়ে দুই কর্মকর্তাকে আটকের হুঁশিয়ারিও দিয়েছেন তিনি। ঢাকাগামী আন্তনগর ধূমকেতু এক্সপ্রেস ট্রেন রাত ১১টা ২০ মিনিটে রাজশাহী থেকে ছাড়ার কথা থাকলেও ছাড়া হয়নি। একদল বিক্ষুব্ধ শিক্ষার্থী বিশ্ববিদ্যালয় স্টেশনের রেললাইনে অগ্নিসংযোগ করেছেন। 


এদিকে রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) এক শিক্ষার্থীকে মারধরের ঘটনায় রেলওয়ে নিরাপত্তা বাহিনীর (আরএনবি) চার সদস্যকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। রাতেই রাজশাহী রেলওয়ের চিফ কমান্ড্যান্ট মোহা. আশাবুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক দপ্তরাদেশে এ সিদ্ধান্ত জানানো হয়। সাময়িক বরখাস্ত হওয়া আরএনবির সদস্যরা হলেন আরিফ হোসেন, রোকন উদ্দীন, শফিকুল ইসলাম ও শাহাদত হোসেন। 


দপ্তরাদেশে বলা হয়েছে, রবিবার সন্ধ্যায় রাজশাহী রেলওয়ে স্টেশনে সংঘটিত অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনায় জড়িত থাকার সন্দেহে তাদের সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত তাদের কমান্ড্যান্ট (সদর)-এর কাছে নিয়মিত দৈনিক হাজিরা দিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।


রাজশাহী রেলস্টেশনে রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের ভাঙচুরে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে, তা মূল্যায়নের পর আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হবে বলে জানিয়েছেন পশ্চিমাঞ্চল রেলওয়ের মহাব্যবস্থাপক আহম্মদ হোসেন মাসুম।


তিনি বলেছেন, এ ঘটনায় দুটি তদন্ত কমিটি কাজ করবে। তদন্ত প্রতিবেদন ও ক্ষয়ক্ষতির হিসাব পাওয়ার পর ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। একই সঙ্গে রেলওয়ে ও বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের মধ্যে যেন ‘প্রতিপক্ষ’ সম্পর্ক তৈরি না হয়, সেজন্য নিয়মিত বৈঠকের মাধ্যমে বিরোধ মীমাংসার উদ্যোগ নেওয়া হবে।


সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) বিকালে রাবি শিক্ষার্থীদের হামলায় ক্ষতিগ্রস্ত রাজশাহী রেলস্টেশন পরিদর্শনে এসে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেছেন আহম্মদ হোসেন মাসুম। এর আগে সকালে বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠকে রেলওয়ে, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা সর্বশেষ ঘটনার বিষয়ে আলোচনা করেন।


চার আরএনবি সদস্যকে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেছেন, তাদের বিরুদ্ধে দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়েছে। তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তিনি বললেন, কর্মচারীদের সাময়িক বরখাস্তের সিদ্ধান্তে রেলওয়ের শ্রমিক সংগঠনের মধ্যে অসন্তোষ তৈরি হয়েছিল। তদন্ত ছাড়া কর্মচারী বরখাস্ত করা হয়েছে— এমন অবস্থান থেকে তারা ক্ষুব্ধ ছিলেন। পরে তাদের সঙ্গে আলোচনা করে পরিস্থিতি বোঝানো হয়েছে। তদন্ত শেষ হওয়ার পর প্রতিবেদনের আলোকে চার কর্মচারীর বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


রেলস্টেশনে ভাঙচুরের ঘটনায় শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে আহম্মদ হোসেন মাসুম বলেছেন, বিষয়টি এখন মূল্যায়ন করা হচ্ছে। রাষ্ট্রীয় সম্পদের ক্ষতি হয়েছে। তাই একটি ব্যবস্থা নেওয়ার আইনগত বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তবে শিক্ষার্থীরা জড়িত থাকায় সার্বিক বিষয়টি মূল্যায়ন করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।


রেলওয়ের জিএম বললেন, প্রথমে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হবে। এরপর বিভাগীয় কমিশনারের কার্যালয়ের বৈঠকে হওয়া আলোচনা এবং ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে পরামর্শ করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। রেলস্টেশন পরিদর্শনের সময় রেলওয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও তার সঙ্গে ছিলেন। স্টেশনের বিভিন্ন স্থাপনা ঘুরে দেখে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নির্ধারণের প্রক্রিয়া শুরু করার কথা জানালেন তিনি।


ভাঙচুরের সময় রাজশাহী স্টেশনে একটি আন্তঃনগর ট্রেনের যাত্রী ছিলেন। ধূমকেতু এক্সপ্রেসের যাত্রা বাতিল হওয়ায় ট্রেনের যাত্রীরাও ভোগান্তিতে পড়েন। পরদিন সকালে ঢাকা থেকে রাজশাহীগামী একই ট্রেনের চলাচলও প্রভাবিত হয়।