বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

কারুশ্রী জুয়েলার্স চুরি : আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৮

নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২২ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৯:৫৭ অপরাহ্ন
কারুশ্রী জুয়েলার্স চুরি : আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার, গ্রেফতার ৮

রাজশাহী মহানগরীর সাহেববাজার স্বর্ণপট্টির কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির ঘটনায় আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করেছে রাজশাহী মহানগর পুলিশের গোয়েন্দা শাখা (ডিবি)। এ ঘটনায় এরই মধ্যে চোর চক্রের সাত সদস্য ও চোরাই মালামাল কেনার অভিযোগে এক স্বর্ণ ব্যবসায়ীসহ মোট আটজনকে গ্রেফতার করা হয়েছে।


রাজশাহী মহানগর পুলিশের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তির তথ্য অনুযায়ী, এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত ৩১ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়েছে। গ্রেফতারকৃতদের মধ্যে চারজন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছে।


পুলিশ জানায়, গত ১৯ জুন ভোরে ১০ থেকে ১২ জনের একটি চোর চক্র রাজশাহী নগরীর সাহেববাজার এলাকায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের সামনে আসে। তারা দোকানের সামনে বিভিন্ন সামগ্রী বিক্রির দোকান বসিয়ে কৌশলে জটলা তৈরি করে। পরে পাশের একটি স্বর্ণের দোকানের তালা খুলে ভেতরে প্রবেশ করে এবং কারুশ্রী জুয়েলার্সের পশ্চিম পাশের দেয়াল কেটে দোকানে ঢোকে।


চোরেরা দোকানের সিন্দুক থেকে বাদীর দাবি অনুযায়ী আনুমানিক ২০০ ভরি স্বর্ণ, ১ হাজার ২০০ ভরি রুপা, তিন বক্স স্বর্ণের নাকফুল এবং নগদ ২০ লাখ টাকা নিয়ে পালিয়ে যায়।


এ ঘটনায় কারুশ্রী জুয়েলার্সের মালিক তুর্য সরকার বাদী হয়ে বোয়ালিয়া মডেল থানায় মামলা করেন। পরে মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে পুলিশ কমিশনার মোহাম্মদ ফয়েজুল কবিরের নির্দেশে ডিবিতে হস্তান্তর করা হয়। ডিবি, সাইবার ইউনিট ও সিসি ক্যামেরা ইউনিটের সমন্বিত তদন্তে চক্রটির সদস্যদের শনাক্ত করা হয়।


পুলিশের দাবি, চক্রটি অত্যন্ত কৌশলী। তারা একই মোবাইল ফোন একবারের বেশি ব্যবহার করত না। ব্যবহৃত সিমকার্ডও এমন ব্যক্তিদের নামে নিবন্ধিত ছিল, যারা তাদের চিনতেন না এবং নিজেদের নামে সিম নিবন্ধনের বিষয়েও অবগত ছিলেন না। চক্রের সদস্যরা দ্রুত স্থান পরিবর্তন করত এবং কোনো এলাকায় স্থায়ীভাবে অবস্থান করত না।


তদন্তে আরও জানা যায়, চক্রটি বছরে এক থেকে দুটি বড় ধরনের চুরি করত। কোনো স্থানে চুরি করার আগে তারা তিন থেকে চার মাস ধরে ওই এলাকা এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের বিষয়ে তথ্য সংগ্রহ করত। চুরির পর কীভাবে নিরাপদে পালিয়ে যাবে, সেটিও আগে থেকেই পরিকল্পনা করত। কারুশ্রী জুয়েলার্সে চুরির প্রায় চার মাস আগে চক্রের সদস্যরা এলাকায় এসে বিভিন্ন হোটেলে অবস্থান করে ব্যবসার কথা বলে দোকান ও আশপাশের পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে।


পুলিশের তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালিয়ে গত ৮ সেপ্টেম্বর দিবাগত রাতে বাগেরহাটের মোংলা থানার শেহলাবুনিয়া মোর্শেদ সড়ক গ্রামের ফজলুল হকের ছেলে রুস্তম আলী শেখকে (৬৪) খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) লবণচড়া থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে রুস্তমসহ আগে গ্রেফতার আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ঢাকার বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালিয়ে পিরোজপুরের ভান্ডারিয়া থানার মাধবপুরা গ্রামের স্বপন (৬২), ইউনুস (৪৫), উজ্জল (৩৭), রিয়াজ ওরফে সুমন ওরফে সুজন ওরফে গেদু (৩৯), বাগেরহাটের শরণখোলা থানার খোন্তাকাটা গ্রামের আবু তালেব (৪৫) এবং পূর্ব খোন্তাকাটা গ্রামের মো. কালাম শেখকে (৪৮) গ্রেফতার করা হয়।


গ্রেফতারদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ৯ সেপ্টেম্বর চোরাই মালামাল কেনার সঙ্গে জড়িত স্বর্ণ ব্যবসায়ী মো. রবিউল হাসানকে (৪৫) ঢাকার সবুজবাগ থানা এলাকা থেকে গ্রেফতার করা হয়। পরে তার ‘আরাফাত হাসান জুয়েলার্স’ নামের দোকান থেকে ২৬ ভরি ৭ আনা স্বর্ণ, ৬২ ভরি রুপা এবং চোরাই স্বর্ণ ও রুপা বিক্রির ২৫ লাখ টাকা উদ্ধার করা হয়।


এ ছাড়া গ্রেফতার উজ্জল ও অন্য আসামিদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে গত ১৬ সেপ্টেম্বর ঢাকার কোতোয়ালি থানার তাঁতীবাজার স্বর্ণপট্টি থেকে আরও ৫ ভরি স্বর্ণ উদ্ধার করে ডিবি পুলিশ।


পুলিশ জানিয়েছে, চুরি যাওয়া বাকি মালামাল উদ্ধার এবং ঘটনার সঙ্গে জড়িত অন্য ব্যক্তিদের শনাক্ত ও গ্রেফতারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।