পুলিশের উপস্থিতিতে কোল্ড স্টোরেজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাট
রাজশাহীতে পুলিশের উপস্থিতিতে কোল্ড স্টোরেজে হামলা-ভাঙচুর ও লুটপাটের অভিযোগ তুলেছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের নেতৃবৃন্দ। এঘটনায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তারের দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন।
মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) বিকেলে রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের বোর্ড মিটিং রুমে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবি জানান সংগঠনটির নেতারা। সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক ফজলুল হক।
তিনি বলেন, সোমবার (২১ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী নগরীর এয়ারপোর্ট থানাধীন দৌলতপুর এলাকার রহমান সিডস স্টোরেজ প্রাইভেট লিমিটেডে প্রতি কেজি ৬ টাকা দরে বস্তা হিসেবে ওজন করে আলু ডেলিভারি দেওয়া হচ্ছিল। এ সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ৩০ থেকে ৩৫ জন বহিরাগত স্টোরেজে গিয়ে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে। ডেলিভারি অর্ডার কর্মকর্তা আজিজুর রহমানকে সরকারি নির্ধারিত ৬ টাকা কেজির পরিবর্তে ৫ টাকা দরে ডিও কাটতে চাপ দেওয়া হয়। এতে রাজি না হওয়ায় তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করা হয়।
একপর্যায়ে হামলাকারীরা হিসাবরক্ষক রায়হান রানাকে মারধর করে। তাকে রক্ষা করতে এগিয়ে গেলে শ্রমিক সালাউদ্দিনকেও মারধর করা হয়। এ ছাড়া সহকারী ম্যানেজার আজিজুর রহমানসহ স্টোরেজের অন্যান্য কর্মকর্তা-কর্মচারির ওপরও হামলা করা হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।
হামলাকারীরা স্টোরেজের অফিস কক্ষের চেয়ার-টেবিল, কম্পিউটার, ক্যাশ কাউন্টারের কাচ ও ম্যানেজারের টেবিল ভাঙচুর করে। এতে প্রায় ১০ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে। পরে তারা স্টোরেজের ভেতরে ঢুকে আলুর বস্তা নিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে। স্থানীয়রা এগিয়ে এলে হামলাকারীরা স্টাফদের ভয়ভীতি দেখিয়ে ও প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে চলে যায় বলে সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে রাজশাহী কোল্ড স্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মো. আবু বাক্কার বলেন, একটি স্বার্থান্বেষী মহল সরকার নির্ধারিত ভাড়াও দিতে চাইছে না। তারা বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করছে। এ অবস্থায় কোল্ড স্টোরেজের কর্মকর্তা-কর্মচারী ও মালিকপক্ষ নিরাপত্তাহীনতায় রয়েছে।
তিনি বলেন, রহমান সিডস স্টোরেজে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের ঘটনায় ইতোমধ্যে থানায় অভিযোগ দেওয়া হয়েছে। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে আইনের আওতায় আনার পাশাপাশি রাজশাহীর সব কোল্ড স্টোরেজের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।
সংবাদ সম্মেলনে আরও উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী চেম্বার অব কমার্সের সভাপতি হাসেন আলী, সহসভাপতি শামসুর রহমান শান্তন, জিয়াউর আহমেদসহ কোল্ড স্টোরেজের নেতৃবৃন্দ ও মালিকরা।
রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী বলেন, প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৫ টাকা করা এবং প্রতি বস্তার প্রথম ৫ কেজি আলু ভাড়ামুক্ত রাখা। কিন্তু কোন কোল্ড স্টোরেজ ৬টার নিচে ভাড়া রাখতে চাচ্ছে না। এনিয়ে কথা বলতে সেখানে গিয়েছিলাম। উল্টো তারা আমাদের উপরে হামলা করেছে। আমাকে তারা আহত করেছে।
এয়ারপোর্ট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) রবিউল ইসলাম বলেন, হিমাগারভাড়া নিয়ে দুইপক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিনের বিরোধ রয়েছে। সোমবার এ নিয়ে ঘটনা ঘটেছে এবং থানায় দুইপক্ষই লিখিত অভিযোগ দিয়েছে। আমরা বিষয়টি নিয়ে তদন্ত করছি। এরপর আইনগত ব্যবস্থা নেব।