গরিব-দুস্থদের না দিয়ে ত্রাণের চাল বিক্রি করে দিয়েছেন প্যানেল চেয়ারম্যান
৩০ কেজি চাল—যমুনাপাড়ের দুর্গম চরাঞ্চলের মানুষের কাছে অনেক কিছু। বন্যা, নদীভাঙন আর প্রাকৃতিক দুর্যোগে বারবার ঘরহারা এসব মানুষের অনেকেরই একবেলা খাবারের নিশ্চয়তা যেখানে অনিশ্চিত, সেখানে সরকারি সহায়তার এই চালই হয়ে ওঠে তাদের ভরসা। সেই চাল অসহায় মানুষের হাতে পৌঁছানোর আগেই ৮০ বস্তা গোপনে বাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। আর অভিযোগের পর থেকেই পাওয়া যাচ্ছে না ইউনিয়নবাসীর সেবক হিসেবে দায়িত্বে থাকা সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নের প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানকে।
জানা গেছে, সিরাজগঞ্জের চৌহালী উপজেলার বাঘুটিয়া ইউনিয়নে বন্যা ও নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্ত, দুস্থ ও অসহায় মানুষের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল ৬০০ বস্তা সরকারি চাল। কিন্তু গোপন সংবাদের ভিত্তিতে প্রশাসনের অভিযানে গোডাউনে পাওয়া গেছে ৫২০ বস্তা। বাকি ৮০ বস্তা চালের কোনো হদিস নেই। এ ঘটনায় গোডাউনে থাকা চাল সিলগালা করেছে উপজেলা প্রশাসন।
গত ৩০ জুন দুর্গম চরাঞ্চল চৌহালী উপজেলার সাত ইউনিয়নে সাম্প্রতিক বন্যা, নদীভাঙনসহ বিভিন্ন প্রাকৃতিক দুর্যোগে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সহায়তায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরে মোট ৫৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়। এসব চাল সাধারণ মানুষের মধ্যে ৩০ কেজি করে বিতরণের কথা ছিল।
এর মধ্যে বাঘুটিয়া ইউনিয়নের জন্য বরাদ্দ করা হয় ১৮ মেট্রিক টন বা ৬০০ বস্তা চাল। ইউনিয়নের মানুষের মধ্যে বিতরণের জন্য এসব চাল হস্তান্তর করা হয় প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের কাছে। কিন্তু বিতরণের আগেই ৮০ বস্তা চাল কালোবাজারে বিক্রি করে দেওয়ার অভিযোগ ওঠে।
অভিযোগের বিষয়টি জানতে পেরে গত মঙ্গলবার (২২ সেপ্টেম্বর) রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট গোডাউনে অভিযান চালান চৌহালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. মেহেদী হাসান শাকিল। সেখানে ৬০০ বস্তার পরিবর্তে ৫২০ বস্তা চাল পাওয়া যায়। পরে পাওয়া ৫২০ বস্তা চাল সিলগালা করে দেয় উপজেলা প্রশাসন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ইউনিয়নের এক বাসিন্দা ঢাকা পোস্টকে বলেন, আমরা খবর পেয়েছিলাম প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমান ৮০ বস্তা চাল আগেই বিক্রি করে দিয়েছেন। তাই বিষয়টি আমরা ইউএনও মহোদয়কে জানিয়ে রেখেছিলাম।
বুধবার দুপুর ১২টার দিকে ইউএনও মো. মেহেদী হাসান শাকিল বলেন, আমরা ৬০০ বস্তা চাল না পেয়ে ৫২০ বস্তা চাল পেয়েছি। তাই আপাতত ৫২০ বস্তা চালও সিলগালা করে রাখা হয়েছে। প্যানেল চেয়ারম্যানকে আজকে ডাকা হয়েছিল। তবে তিনি আসেননি। তিনি পলাতক রয়েছেন। মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে অভিযুক্ত প্যানেল চেয়ারম্যান মো. সাইদুর রহমানের বক্তব্য জানতে তার মুঠোফোনে কল করা হলে নম্বরটি বন্ধ পাওয়া যায়। ফলে তার বক্তব্য নেওয়া সম্ভব হয়নি।
তথ্যসূত্র: ঢাকাপোস্ট