মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রুয়েট শিক্ষার্থী, ঢাকায় নেওয়া হলো এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে
রাজশাহীর বিনোদপুরে মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (রুয়েট) শিক্ষার্থী রাফিদ শাহরিয়ারকে উন্নত চিকিৎসার জন্য এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে ঢাকায় পাঠানো হয়েছে। চিকিৎসকদের পরামর্শে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে তাকে ঢাকার ইউনাইটেড হাসপাতালে নেওয়া হয়। তার মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ ও গুরুতর আঘাতের কারণে অস্ত্রোপচারের প্রয়োজন হওয়ায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
রাফিদ শাহরিয়ার রুয়েটের কম্পিউটার সায়েন্স অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং বিভাগের ২০২১-২২ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী। বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাত আনুমানিক ৯টার দিকে বিনোদপুর বাজার এলাকায় মোটরসাইকেল দুর্ঘটনায় তিনি গুরুতর আহত হন।
রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তর সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার সকালে দপ্তরের একটি প্রতিনিধি দল রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে গিয়ে রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে খোঁজ নেয়। এ সময় হাসপাতালের মহাপরিচালকের সঙ্গে কথা বলে তারা জানতে পারেন, মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমাট বেঁধেছে। রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় দ্রুত তাকে ঢাকায় নেওয়ার পরামর্শ দেন চিকিৎসকরা।
রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, উপ-উপাচার্য অধ্যাপক ড. মো. আখতার হোসেন এবং সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী সাইফের উদ্যোগে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সের ব্যবস্থা করা হয়। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে এ জন্য ২ লাখ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বুক করা হয়।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিপরীত দিক থেকে আসা একটি মোটরসাইকেল হঠাৎ ইউ-টার্ন নেওয়ার চেষ্টা করলে সেটিকে এড়িয়ে যেতে গিয়ে রাফিদ তার মোটরসাইকেলের নিয়ন্ত্রণ হারান। একপর্যায়ে তিনি ছিটকে পড়ে সড়কের ডিভাইডারে মাথায় আঘাত পান।
দুর্ঘটনার পর স্থানীয়রা তাকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে জরুরি বিভাগের ৮ নম্বর ওয়ার্ডে তাকে চিকিৎসা দেওয়া হয়। একপর্যায়ে তাকে অপারেশন থিয়েটারেও নেওয়া হয়েছিল বলে জানা গেছে।
রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, রাফিদের শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন। মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে তার মস্তিষ্কে রক্ত জমে গেছে। চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত অস্ত্রোপচার প্রয়োজন হলেও রাজশাহীতে তা সম্ভব না হওয়ায় তাকে ঢাকায় স্থানান্তরের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এয়ার অ্যাম্বুলেন্স আসতে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছুটা বিলম্ব হয়। পরে বৃহস্পতিবার দুপুর ১টা ১৫ মিনিটের দিকে রাফিদকে নিয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা দেয় এয়ার অ্যাম্বুলেন্স।
রাফিদের চিকিৎসার বিষয়ে রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন, “দুর্ঘটনার খবর পাওয়ার পর থেকেই আমরা রাফিদের চিকিৎসার বিষয়টি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দেখছি। রাতে তাকে আইসিইউতে ভর্তি করা থেকে শুরু করে বৃহস্পতিবার সকালে হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসকদের সঙ্গে কথা বলেছি। তার মাথায় গুরুতর আঘাতের কারণে মস্তিষ্কে রক্ত জমেছে। রাজশাহীতে প্রয়োজনীয় অস্ত্রোপচার সম্ভব না হওয়ায় চিকিৎসকদের পরামর্শে তাকে ঢাকায় নেওয়ার ব্যবস্থা করা হয়েছে।”
তিনি আরও বলেন, “রাফিদ আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের একজন মেধাবী শিক্ষার্থী। তার এই সংকটময় সময়ে রুয়েট প্রশাসন পাশে রয়েছে। প্রয়োজন অনুযায়ী তার চিকিৎসায় সর্বাত্মক সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে। সে দ্রুত সুস্থ হয়ে আমাদের মাঝে ফিরে আসুক—এটাই আমাদের প্রত্যাশা। রাফিদের জন্য সবার কাছে দোয়া চাই।”
দুর্ঘটনার সময় ঘটনাস্থলের কাছে থাকা রুয়েটের ২০২৩-২৪ শিক্ষাবর্ষের সিএমই বিভাগের শিক্ষার্থী মো. হিমেল ইসলাম বলেন, “বিনোদপুর বাজারে হঠাৎ একটি শব্দ শুনে আমরা সেখানে যাই। পরে দেখি দুর্ঘটনা ঘটেছে। এরপর রাফিদ ভাইকে দ্রুত রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসি। বর্তমানে তার অবস্থা অবনতির দিকে বলে জানতে পেরেছি।”
এদিকে রাফিদের চিকিৎসা ব্যয় মেটাতে রুয়েটের ছাত্রকল্যাণ দপ্তর ও শিক্ষার্থীদের উদ্যোগে অর্থ সংগ্রহ শুরু হয়েছে। গতকাল থেকে ক্রাউডফান্ডিংয়ের মাধ্যমে এরই মধ্যে ২ লাখ টাকার বেশি সংগ্রহ হয়েছে। পরবর্তী চিকিৎসায় আরও প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টাকা প্রয়োজন হতে পারে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
রাফিদের দ্রুত সুস্থতার জন্য রুয়েটের শিক্ষক-শিক্ষার্থী, সাবেক শিক্ষার্থী ও সর্বস্তরের মানুষের কাছে দোয়া চেয়েছে তার পরিবার।