জরুরি সভায় সিদ্ধান্ত : রাজশাহীতে আলুর হিমাগার ভাড়া ৬ টাকা থেকে ২৫ পয়সা কমলো
রাজশাহীতে আলু সংরক্ষণের হিমাগার ভাড়া প্রতি কেজিতে ৬ টাকা থেকে ২৫ পয়সা কমিয়ে ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণ করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীদের আন্দোলন এবং সর্বশেষ হিমাগারে মারামারির ঘটনার পর জেলা প্রশাসনের জরুরি সভায় এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) বেলা সাড়ে ১১টায় জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রাজশাহীর হিমাগারগুলোর সার্বিক বিষয় নিয়ে এ জরুরি সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক কাজী শহিদুল ইসলাম। সভা পরিচালনা করেন অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মোহা. সবুর আলী। হিমাগার ভাড়া কমানোর সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছে দীর্ঘদিন ধরে এ দাবিতে আন্দোলন করে আসা রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতি। তবে জেলা প্রশাসনের নির্ধারিত ৫ টাকা ৭৫ পয়সা ভাড়া এখনই মেনে নেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়নি হিমাগার মালিকদের সংগঠন। জেলার সব হিমাগার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান। এর আগে গত ২৬ জুলাই আলু সংরক্ষণের ভাড়া নির্ধারণে গঠিত রাজশাহী জেলা কমিটি প্রতি কেজি আলুর জন্য ৫ টাকা ২০ পয়সা ভাড়া নির্ধারণের সুপারিশ করে। একই সঙ্গে প্রতি বস্তায় ৫ কেজি আলুর সংরক্ষণ বাবদ কোনো ভাড়া না নেওয়ারও সুপারিশ করা হয়।
জেলা কমিটির ওই সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে আন্দোলনে নামে আলু চাষি ও ব্যবসায়ীদের সংগঠন। রাজশাহীর আলু উৎপাদনকারী এলাকাতেও এ দাবিতে কর্মসূচি পালন করা হয়। তাঁদের দাবি ছিল, রাজশাহীর ভৌগোলিক ও উৎপাদন পরিস্থিতি বিবেচনায় নিয়ে হিমাগার ভাড়া নির্ধারণ করতে হবে। পরে গত ৩১ আগস্ট হিমাগার মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করে কৃষি বিপণন অধিদপ্তর প্রতি কেজি আলু সংরক্ষণের ভাড়া ৬ টাকা ৭৫ পয়সা থেকে কমিয়ে ৬ টাকা নির্ধারণ করে। তবে রাজশাহীর ভৌগোলিক ও উৎপাদন পরিস্থিতি বিবেচনায় জেলা কমিটির সুপারিশ বাস্তবায়নের দাবিতে রাজশাহীতে আন্দোলন চলতে থাকে।
এ দাবিতে আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা কয়েক দফায় সংবাদ সম্মেলন ও মানববন্ধন করেন। ভাড়া নিয়ে হিমাগার মালিক ও ব্যবসায়ীদের মধ্যে কয়েক দফা আলোচনা হলেও বিরোধের পুরোপুরি নিষ্পত্তি হয়নি।
এর মধ্যে গত সোমবার দুপুরে পবা উপজেলার দৌলতপুর এলাকায় রহমান সিডস্ কোল্ড স্টোরেজে ভাড়া নিয়ে বিরোধের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে মারামারি ও ভাঙচুরের ঘটনা ঘটে। এতে কয়েকজন আহত হন। রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলীও আহত হয়ে হাসপাতালে চিকিৎসা নেন। ওই ঘটনার পর বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জরুরি সভা ডাকা হয়। সভায় হিমাগার মালিক, আলু ব্যবসায়ী, কৃষি বিপণন কর্মকর্তা, পুলিশ ও প্রশাসনের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। ভাড়া নির্ধারণের পাশাপাশি সাম্প্রতিক মারামারি, হামলা ও ভাঙচুরের বিষয়েও আলোচনা হয়। সভায় সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পর জেলা প্রশাসক হিমাগারে আলু সংরক্ষণের ভাড়া ২৫ পয়সা কমিয়ে প্রতি কেজি ৫ টাকা ৭৫ পয়সা নির্ধারণের কথা জানান।
হিমাগার মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান বলেন, জেলা প্রশাসকের দেওয়া সিদ্ধান্ত নিয়ে তাঁদের সব হিমাগার মালিকের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। এরপর তাঁরা সিদ্ধান্ত জানাবেন। কারণ, সভায় তাঁদের পক্ষ থেকে মাত্র তিনিসহ দুজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। ফজলুর রহমান বলেন, ‘আমরা বলেছি, এই ভাড়ায় আমাদের পক্ষে হিমাগার চালানো সম্ভব হবে কি না, সেটা মালিকদের সঙ্গে আলোচনা করতে হবে। জেলা প্রশাসক মহোদয় তাঁর পর্যবেক্ষণ ও প্রস্তাব দিয়েছেন। এখন আমরা সব মালিকের সঙ্গে বসে সিদ্ধান্ত নেব।’ তিনি বলেন, হিমাগার পরিচালনায় বিদ্যুৎ, ডিজেল, শ্রমিকসহ বিভিন্ন খরচ বেড়েছে। এসব বিষয়ও বিবেচনায় নিতে হবে। অন্যদিকে রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম বলেন, দীর্ঘদিন ধরে তাঁরা আলু সংরক্ষণের ভাড়া কমানোর দাবিতে আন্দোলন করে আসছেন। ৬ টাকা থেকে ২৫ পয়সা কমানোর সিদ্ধান্তকে তাঁরা ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তারা বলছেন, আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা কয়েক বছর ধরে নানা সংকটের মধ্যে রয়েছেন। ভাড়া কমানোর দাবিতে সংবাদ সম্মেলন, মানববন্ধনসহ বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে। এর মধ্যে হিমাগারে মারামারির ঘটনাও ঘটেছে।
সভায় পবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. ইবনুল আবেদীন, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) সাবিনা ইয়াসমিন, আরএমপির শাহমখদুম বিভাগের সহকারী পুলিশ কমিশনার প্রণব দাস, সিনিয়র কৃষি বিপণন কর্মকর্তা মিজানুর রহমান, রাজশাহী চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিজের সভাপতি মো. হাসেন আলীসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা উপস্থিত ছিলেন। এ ছাড়া কোল্ডস্টোরেজ অ্যাসোসিয়েশন রাজশাহীর সভাপতি আবু বাক্কার আলী, সাধারণ সম্পাদক ফজলুর রহমান, জেলা কোল্ডস্টোরেজ ম্যানেজার অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এম ওহিদুর রশিদ এবং রাজশাহী জেলা আলু ও কাঁচামাল ব্যবসায়ী সমবায় সমিতির সভাপতি আহাদ আলী ও সাধারণ সম্পাদক ইফতেখারুল ইসলাম সভায় উপস্থিত ছিলেন।