ডিজিটাল যুগে অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকার নিশ্চিতের আহ্বান
ডিজিটাল যুগে নির্ভরযোগ্য ও সঠিক তথ্যপ্রাপ্তি নিশ্চিত এবং অপতথ্য মোকাবিলায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর কার্যকর বাস্তবায়নের ওপর গুরুত্ব দিয়েছেন রাজশাহীর নাগরিক সমাজের প্রতিনিধিরা। তাঁরা বলেন, তথ্যের অবাধ প্রবাহ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করা গেলে নাগরিকের ক্ষমতায়ন, জনঅংশগ্রহণ এবং পরিবেশগত ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার পথ আরও সুগম হবে।
আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস ২০২৬ উপলক্ষে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী নগরের অলোকার মোড়ের একটি রেস্তোরাঁয় বাংলাদেশ পরিবেশ আইনবিদ সমিতি (বেলা) আয়োজিত আলোচনা সভা ও ফোকাস গ্রুপ ডিসকাশনে (এফজিডি) বক্তারা এসব কথা বলেন।
এবারের দিবসের প্রতিপাদ্য ছিল—‘ডিজিটাল যুগে সঠিক তথ্য নিশ্চিতকরণ: অপতথ্য রোধে তথ্য অধিকারের ভূমিকা’। একই দিনে অনুষ্ঠিত এফজিডির বিষয় ছিল—‘তথ্য অধিকার: জ্ঞান থেকে প্রয়োগ—অভিজ্ঞতা, সুযোগ ও প্রতিবন্ধকতা’।
আলোচনা সভায় সভাপতিত্ব করেন রুলফাও-এর নির্বাহী পরিচালক আফজাল হোসেন। অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন দৈনিক সোনার দেশের সম্পাদক আকবারুল হাসান মিল্লাত ও রাজশাহী কলেজের বাংলা বিভাগের সহকারী অধ্যাপক জুয়েল কিবরিয়া। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বেলার রাজশাহী ও রংপুর বিভাগের সমন্বয়কারী তন্ময় কুমার সান্যাল।
আলোচনায় আইন বিভাগের শিক্ষার্থী, এনজিওকর্মী, যুব সংগঠক, পরিবেশকর্মী ও সাংবাদিকরা অংশ নেন।
বক্তারা বলেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, অনলাইন সংবাদমাধ্যম ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। একই সঙ্গে ভুল, বিভ্রান্তিকর ও বিকৃত তথ্যও দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। এ পরিস্থিতিতে তথ্যের উৎস ও সত্যতা যাচাইয়ের সুযোগ তৈরি, নির্ভরযোগ্য ও সময়োপযোগী সরকারি তথ্য প্রকাশ এবং নাগরিকদের তথ্য যাচাইয়ের সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
আলোচনায় তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ দিক তুলে ধরা হয়। নাগরিকের তথ্য পাওয়ার অধিকার, স্বতঃপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশ, তথ্য চাওয়ার আবেদন, নির্ধারিত সময়ে তথ্য প্রদান এবং তথ্য না পেলে আপিল ও অভিযোগের সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন বক্তারা। তাঁরা বলেন, এসব বিধানের কার্যকর প্রয়োগ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াতে সহায়ক হতে পারে।
এফজিডিতে আইনে দেওয়া অধিকার এবং বাস্তবে তথ্য পাওয়ার অভিজ্ঞতার পার্থক্য নিয়েও আলোচনা হয়। অংশগ্রহণকারীরা তথ্যের প্রাপ্যতা, কর্তৃপক্ষের সহযোগিতা, তথ্যের মান ও পূর্ণতা এবং নির্ধারিত সময়সীমা নিয়ে মতামত দেন।
একই সঙ্গে জনসচেতনতার ঘাটতি, আবেদন প্রক্রিয়ার জটিলতা, সময় ও খরচ, প্রশাসনিক অনাগ্রহ এবং তথ্য চাইতে গিয়ে হয়রানি বা চাপের আশঙ্কাকে গুরুত্বপূর্ণ প্রতিবন্ধকতা হিসেবে তুলে ধরেন অংশগ্রহণকারীরা।
আলোচনায় সরকারি সিদ্ধান্ত, ব্যয়, উন্নয়ন প্রকল্প, জনসেবা ও পরিবেশগত ব্যবস্থাপনা পর্যবেক্ষণে তথ্য অধিকারের মাধ্যমে নাগরিক ও নাগরিক সমাজের ভূমিকা আরও কার্যকর করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। পাশাপাশি দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তাদের সক্ষমতা বৃদ্ধি, তথ্য ব্যবস্থাপনা, মনিটরিং, জনসচেতনতা এবং আপিল ও অভিযোগ নিষ্পত্তির ব্যবস্থা আরও কার্যকর করার প্রয়োজনীয়তার কথাও বলা হয়।
বক্তারা বলেন, তথ্য অধিকারকে শুধু আইনগত অধিকার হিসেবে দেখলে হবে না; নাগরিক অংশগ্রহণ, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করার কার্যকর মাধ্যম হিসেবে এর ব্যবহার বাড়াতে হবে।