চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তদের দ্রুত কমছে প্লাটিলেট, ১৭ হাজারে নেমেছে কারও
চাঁপাইনবাবগঞ্জে ডেঙ্গু আক্রান্তদের একটি অংশের রক্তে প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ায় উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। আক্রান্ত হওয়ার চতুর্থ দিনেই শহরের মিস্ত্রিপাড়ার আবু রায়হানের প্লাটিলেট নেমে আসে মাত্র ১৭ হাজারে। একইভাবে ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার দিনই ব্যাংক কর্মকর্তা আসাদুল ইসলামের প্লাটিলেট কমে দাঁড়ায় ২১ হাজারে। দুজনেরই শরীরে দেখা দেয় দুর্বলতা, মাথা ঘোরাসহ বিভিন্ন উপসর্গ।
শহরের মিস্ত্রিপাড়ার বাসিন্দা আবু রায়হান জানান, ডেঙ্গু আক্রান্ত হওয়ার কয়েক দিনের মধ্যেই তাঁর শারীরিক অবস্থার দ্রুত অবনতি হয়। একপর্যায়ে এতটাই দুর্বল হয়ে পড়েন যে হাসপাতালের বিছানায় শুয়ে এপাশ-ওপাশ হওয়ার শক্তিও ছিল না।
শহরের নিউ ইসলামপুরে ভাড়া বাসায় থাকা ব্যাংক কর্মকর্তা আসাদুল ইসলামও একই অভিজ্ঞতার কথা জানান। ডেঙ্গু শনাক্ত হওয়ার দিন তাঁর প্লাটিলেট নেমে আসে ২১ হাজারে। এ সময় শরীর অসাড় হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মাথা ঘোরার উপসর্গ দেখা দেয়।
চিকিৎসকদের মতে, সাধারণত রক্তে প্লাটিলেটের স্বাভাবিক মাত্রা দেড় লাখ থেকে সাড়ে চার লাখের মধ্যে থাকে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে প্লাটিলেট কমে যেতে পারে। তবে শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে যাওয়াই রোগীর অবস্থা গুরুতর হওয়ার একমাত্র নির্দেশক নয়; রোগীর শারীরিক অবস্থা, রক্তক্ষরণসহ অন্যান্য উপসর্গ বিবেচনা করে চিকিৎসার সিদ্ধান্ত নিতে হয়।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. জমির মো. হাসিবুস সাত্তার বলেন, এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের বেশিরভাগই ডেন-৪ ভ্যারিয়েন্টে আক্রান্ত বলে তাঁরা মনে করছেন। তাঁর দাবি, এ কারণে অনেক রোগীর প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, আইসিডিডিআর’বি ও আইইডিসিআর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষা করেছে। তাদের দেওয়া নির্দেশনা অনুযায়ী রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
হাসপাতাল তত্ত্বাবধায়ক বলেন, “প্লাটিলেট কমে গেলেও রোগীর শারীরিক অবস্থা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়। আমাদের হাসপাতালে রক্তসহ প্রয়োজনীয় চিকিৎসার ব্যবস্থা রয়েছে। ডেঙ্গু আক্রান্ত হলে দেরি না করে হাসপাতালে আসতে হবে।”
চিকিৎসাবিজ্ঞানের প্রচলিত নির্দেশনা অনুযায়ী, শুধু প্লাটিলেটের সংখ্যা কমে গেলেই নিয়মিতভাবে প্লাটিলেট দেওয়ার প্রয়োজন হয় না। সক্রিয় রক্তক্ষরণসহ রোগীর সামগ্রিক শারীরিক অবস্থা বিবেচনা করেই প্লাটিলেট দেওয়ার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, শুক্রবার চাঁপাইনবাবগঞ্জ ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেলা হাসপাতালে ৬৯ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন। চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে মোট ১ হাজার ৪৪৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। একই সময়ে বহির্বিভাগে ডেঙ্গু শনাক্ত হয়েছে ১ হাজার ১০৩ জনের।
এদিকে জেলায় ডেঙ্গুর বিস্তার নিয়ে উদ্বেগের মধ্যে কীটতাত্ত্বিক জরিপেও ঝুঁকির চিত্র উঠে এসেছে। আইইডিসিআরের জরিপে চাঁপাইনবাবগঞ্জ পৌর এলাকার ১৫০টি বাড়ির মধ্যে ৫৪টিতে এডিস মশার লার্ভা বা পিউপা পাওয়া গেছে। অর্থাৎ প্রায় ৩৬ শতাংশ বাড়িতে এডিস মশার প্রজননস্থল পাওয়া গেছে।
ফলে একদিকে জেলায় ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে, অন্যদিকে আক্রান্তদের একটি অংশের প্লাটিলেট দ্রুত কমে যাওয়ায় রোগী পর্যবেক্ষণ ও চিকিৎসা ব্যবস্থাপনায় বাড়ছে চাপ। পরিস্থিতি মোকাবিলায় আক্রান্তদের দ্রুত চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার পাশাপাশি বাড়িঘর ও আশপাশের পরিবেশে এডিস মশার প্রজননস্থল ধ্বংসের ওপর জোর দিচ্ছেন সংশ্লিষ্টরা।