বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নাটোরে শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী কারাগারে

নাটোর প্রতিনিধি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩০ অপরাহ্ন
নাটোরে শিশুর আঙুল বিচ্ছিন্নের অভিযোগে কনস্টেবল ও স্ত্রী কারাগারে

নাটোরে সাত বছরের এক শিশুর ডান হাতের আঙুল বটি দিয়ে কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগে এক পুলিশ কনস্টেবল ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পরে আদালতের মাধ্যমে তাদের কারাগারে পাঠানো হয়েছে।


গ্রেপ্তার ব্যক্তিরা হলো, পুলিশ কনস্টেবল শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাসরিন। শাকিল নাটোর পুলিশ সুপারের কার্যালয়ের হিসাব শাখায় কর্মরত ছিলেন। তারা জয়পুরহাট জেলার নিজামপুর চকবরকত এলাকার স্থায়ী বাসিন্দা। নাটোর শহরের বড়হরিশপুর পশ্চিম চেয়ারম্যানপাড়া এলাকায় একটি বাড়ির দ্বিতীয় তলায় ভাড়া থাকতেন তারা।


আহত শিশুরি নাম বায়েজিদ বিন মাহমুদ (৭)। তার বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন বাদী হয়ে বৃহস্পতিবার (২৪ সেপ্টেম্বর) রাতে নাটোর সদর থানায় শাকিল ও নাসরিনকে আসামি করে মামলা করেন।


মামলা ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) রাতে বাসার মালিক ও ভাড়াটিয়া পরিবারের সদস্যদের নিয়ে পিকনিকের আয়োজন করা হয়। এ সময় শিশুদের খেলাধুলাকে কেন্দ্র করে বায়েজিদসহ দুই শিশুর মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটে। পরে উভয় শিশুর মা বিষয়টি মীমাংসা করে দেন।


অভিযোগ রয়েছে, ওই ঘটনার জেরে বৃহস্পতিবার সকাল ১০টার দিকে শাকিল বাড়ির মালিক মাহমুদুল হাসানের দরজায় নক করেন। দরজা খোলার পর তিনি বায়েজিদকে জোর করে নিজের কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে খাটের ওপর শিশুটির হাত রেখে বটি দিয়ে কোপ দিলে তাঁর ডান হাতের একটি আঙুল বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।


শিশুটির কান্নার শব্দ পেয়ে পরিবারের সদস্যরা তাকে গুরুতর আহত অবস্থায় উদ্ধার করে নাটোর সদর হাসপাতালে নিয়ে যান। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


শিশুটির বাবা মাহমুদুল হাসান মিলন অভিযোগ করেন, তার ছেলেকে জোর করে নিয়ে যাওয়ার সময় তার স্ত্রী ও বড় ছেলে হুজাইফা বিন মাহমুদ বাধা দেন। এ সময় তাদের ধাক্কা দিয়ে সরিয়ে দিয়ে শিশুটিকে কক্ষে নিয়ে যাওয়া হয়। তিনি ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি করেন।


পরিবারের দাবি, আঙুলটি বিচ্ছিন্ন হওয়ার কয়েক ঘণ্টার মধ্যে হাসপাতালে নেওয়া সম্ভব হলে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জোড়া লাগানোর সম্ভাবনা ছিল। তবে প্রায় ১০ ঘণ্টা পেরিয়ে যাওয়ায় চিকিৎসকেরা জানিয়েছেন, বিচ্ছিন্ন আঙুলটি পুনরায় জোড়া লাগানো সম্ভব হয়নি।


বর্তমানে বায়েজিদ রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের নারী ও শিশু বিভাগের ১ নম্বর ওয়ার্ডে ৫ নম্বর বেডে চিকিৎসাধীন রয়েছে।


এদিকে ঘটনার পর শাকিল বাসায় তালা দিয়ে পালিয়ে যান বলে পরিবারের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে। পরে পুলিশ গিয়ে বাসার তালা খুলে দেয়।


নাটোর সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনসুর আলী জানান, বৃহস্পতিবার রাতে শাকিল হোসেন ও তার স্ত্রী নাসরিনের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে। মামলার পর এজাহারভুক্ত দুই আসামিকে গ্রেপ্তার করে আদালতে পাঠানো হয়।


শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) সকালে তাদের আদালতে হাজির করা হলে সিনিয়র চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট-৩ আদালতের বিচারক সাদ্দাম হোসাইন শুনানি শেষে তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।