বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

পদ্মার ভাঙনে ঘর-জমি হারাচ্ছেন মানুষ, ঝুঁকিতে বাঘার চরাঞ্চল

আমানুল হক আমান, বাঘা ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
আমানুল হক আমান, বাঘা ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৩১ অপরাহ্ন
পদ্মার ভাঙনে ঘর-জমি হারাচ্ছেন মানুষ, ঝুঁকিতে বাঘার চরাঞ্চল

রাজশাহীর বাঘায় পদ্মার পানি কমতেই নতুন করে শুরু হয়েছে নদীভাঙন। চকরাজাপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন চরে বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালাসহ নানা স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভাঙনের ঝুঁকি এড়াতে গত দুই সপ্তাহে ১৭টি বিদ্যুতের পোল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এর আগে কয়েক বছরের ভাঙনে ইউনিয়নের দুটি চর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে।


চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরের মধ্যে ১৩টি চর প্রায় দুই সপ্তাহ বন্যার পানিতে তলিয়ে ছিল। পানি কমতে শুরু করলেও এখন নতুন করে ভাঙন দেখা দেওয়ায় চরম আতঙ্কে রয়েছেন চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। ভাঙন অব্যাহত থাকলে চৌমাদিয়া, আতারপাড়া, দিয়ারকাদিরপুর, লক্ষ্মীনগর ও কালিদাসখালী চরও অস্তিত্ব হারানোর আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।


স্থানীয়দের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, গড়গড়ি ইউনিয়নের করারী নওশারা চরেও পদ্মার ভাঙন শুরু হয়েছে। ইতোমধ্যে কামরুল মোল্লার বসতভিটা এবং ভাঙন ঠেকাতে নদীতীরে ফেলা জিও ব্যাগের একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে।


চৌমাদিয়া চরের বীর মুক্তিযোদ্ধা আজিজ গাজী বলেন, নদীভাঙনে তাঁর বসতভিটা চলে যাওয়ায় বাড়ি সরিয়ে বাংলা বাজার এলাকায় ঘর তুলে বসবাস করছেন।


চকরাজাপুর ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ও কালিদাসখালী চরের বাসিন্দা শহিদুল ইসলাম বলেন, দুর্যেগি মুহূর্তে বিভিন্ন ব্যক্তি ও সংগঠনের পক্ষ থেকে কিছু ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। তবে পানি কমার পর এখন ভাঙন নিয়ে মানুষের মধ্যে নতুন করে আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।


বন্ধ ছিল ৮ বিদ্যালয়ের পাঠদান

প্লাবনের প্রভাব পড়েছে চরাঞ্চলের শিক্ষার্থীদের ওপরও। ইউনিয়নের ৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও দুটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে আটটি বিদ্যালয়ে প্রায় দুই সপ্তাহ পাঠদান বন্ধ ছিল। বিদ্যালয়গুলোতে পানি ওঠায় শিক্ষার্থীরা স্কুলে যেতে পারেনি। ফলে ব্যাহত হয়েছে শিক্ষা কার্যক্রম।


প্লাবন সময় কেউ ঘরের মাচায় আশ্রয় নিয়েছিলেন, আবার কেউ গবাদিপশু নিয়ে উঁচু জায়গায় চলে গিয়েছিলেন। পানি নেমে গেলেও ভাঙনের কারণে অনেক পরিবার এখনো নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে রয়েছে।


দুই সপ্তাহে সরানো হয়েছে ১৭ বিদ্যুতের পোল

পদ্মার ভাঙনের ঝুঁকি থেকে বিদ্যুৎ অবকাঠামো রক্ষায় গত দুই সপ্তাহে ১৭টি বিদ্যুতের পোল সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। নাটোর পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি-২-এর বাঘা জোনাল অফিসের আওতাধীন এলাকায় এসব পোল সরানো হয়।


চকরাজাপুর ইউনিয়নে কয়েক বছরের ভাঙনে এর আগে ইউনিয়ন পরিষদ ভবন, একটি কমিউনিটি ক্লিনিক ও ১১৫টি বিদ্যুতের খুঁটি সরিয়ে নিতে হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানান।


স্থানীয়দের অভিযোগ, নদীর তলদেশ থেকে অবৈধভাবে বালু উত্তোলনের কারণে কোনো কোনো এলাকায় আকস্মিকভাবে ভাঙন তীব্র হচ্ছে।


দুই চর হারিয়েছে অস্তিত্ব

স্থানীয়দের ভাষ্য অনুযায়ী, পদ্মার ভাঙনে ইতোমধ্যে চকরাজাপুর ও লক্ষ্মীনগর চর মানচিত্র থেকে হারিয়ে গেছে। ২০২১ সালের ভাঙনে ইউনিয়নের ৩, ৫, ৬ ও ৮ নম্বর ওয়ার্ডের বড় একটি অংশ নদীগর্ভে বিলীন হয়। এতে বহু মানুষ বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে অন্যত্র চলে যেতে বাধ্য হয়েছেন।


চকরাজাপুর ইউনিয়নের ১৫টি চরে বর্তমানে প্রায় ২০ হাজার মানুষের বসবাস। কয়েক বছরের ভাঙনে মানুষের সংখ্যা কমার পাশাপাশি কমেছে আবাদি জমির পরিমাণও।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা তকী ফয়সাল তালুকদার বলেন, বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এক হাজারের বেশি পরিবারকে সরকারি ত্রাণ সহায়তা দেওয়া হয়েছে। ভাঙনরোধে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোকেও সহায়তা দেওয়া হবে।


চকরাজাপুর ইউনিয়নের প্রশাসক তরিকুল ইসলাম বলেন, ভাঙনের কবলে পড়ে অনেক মানুষ ইতোমধ্যে অন্যত্র গিয়ে বসবাস করছেন। নদীভাঙন অব্যাহত থাকলে চরাঞ্চলের মানুষের দুর্ভোগ আরও বাড়বে।