বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যে

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৪৫ অপরাহ্ন
জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির প্রভাব নিত্যপণ্যে

দীর্ঘদিন ধরেই বাজারে নিত্যপণ্যের দাম চড়া। এরপরও সোমবার সরকার জ্বালানি তেলের দাম লিটারে ২০ টাকা বাড়িয়েছে। এতে পণ্য পরিবহন খরচ বেড়ে গেছে। তার প্রভাবে বেগুন, কাঁচামরিচ, ডিম, মুরগিসহ অধিকাংশ নিত্যপণ্যের দাম বেড়েছে। এতে খুচরা ক্রেতা ও বিক্রেতারাও ক্ষুব্ধ। 


শুক্রবার (২৫ সেপ্টেম্বর) রাজশাহী নগরীর সাহেববাজারা, সাগরপাড়া, শালবাগান ও ভদ্রাবাজার ঘুরে দেখা যায়, ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে আগের মতোই অধিকাংশ দোকানে পণ্য সাজানো। সরবরাহে ঘাটতি নেই। কিন্তু অধিকাংশ পণ্যের দাম বাড়তি। সোমবার থেকে জ্বালানি তেলের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে। লিটারে বাড়িয়েছে ২০ টাকা। এর ফলে দূরত্ব বুঝে প্রতি ট্রাকের ভাড়া ২ হাজার থেকে ৪ হাজার টাকা পর্যন্ত বেড়েছে। এর প্রভাবে পণ্যের পরিবহন খরচ পরিবহন খরচ কেজিতে গড়ে ৫০ পয়সা থেকে ১ টাকা বা তারও বেশি বেড়ে গেছে। পেঁয়াজ, আলুসহ বিভিন্ন সবজি পাইকারিতেই ১ থেকে ২ টাকা বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। তাই খুচরা বাজারেও দাম বেড়ে গেছে। ফলে মোকামে বা এলাকার আড়ত বা দোকানে বেশ কয়েকটি পণ্যের দাম বেড়েছে।


বাজারে কাঁচামরিচ বিক্রি হয়েছে ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। আটা-ময়দার দাম বেড়েছে ৪ শতাংশ, সয়াবিন তেলে দেড় শতাংশ। ৯০ টাকার মসুর ডাল ৯৫ টাকায় বিক্রি হয়। এ ছাড়া ৫০ টাকার হালির ডিম ৫৬ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ৬০ টাকার বেগুন বিক্রি হয়েছে ৯০ থেকে ১০০ টাকায়। 


বাজার ঘুরে দেখা গেছে, গাজর ১৪০, শিম ১৬০-১৮০, শসা ৭০-১০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। পেঁয়াজ বিক্রি হচ্ছে ৫০-৬০ টাকায়, আলু ২৫-৩০ টাকায়, রসুন ১৫০-১৮০ টাকায়, আদা ১৪০-১৭০ টাকায় ও গোটা হলুদ ৩৫০-৪০০ টাকায়। 


এছাড়া বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০৪ টাকা লিটার, পাম অয়েল ১৮৬ টাকা লিটার। বড় দানার মসুর ডাল ৮২ টাকা, মাঝারি দানার এই ডাল ১৩৫ ও ছোট দানার মসুর ডাল ১৫৫টাকা, অ্যাংকর ডাল ৬০ টাকা, ছোলা ১০০-১১০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। তেলের দাম বাড়ার পর রাইস মিলের চাল এখনো খুচরা বাজারে আসেনি। তারপরও চড়া দামে চাল বিক্রি হয়েছে। প্রতি কেজি সরু (মিনিকেট) চাল ৭৫-৮০ টাকা, মাঝারি চাল ৫৫-৬০ এবং মোটা চাল ৫০-৫২ টাকায় বিক্রি হয়।


সাহেববাজারের সবজি বিক্রেতা সবুজ আলী বলেন, সরকার সব তেলের দাম বাড়িয়েছে। বাজারে দাম তো বাড়বেই। সরকার তেলের দাম কেন বাড়াল, সেটা আগে জানেন। আমিও ভোক্তা। আমাকেও বেশি দামে অন্য পণ্য কিনতে হচ্ছে। সেই টাকা পাব কোথায়? দাম বাড়ায় বেচাকেনাও কমে গেছে। তাই লাভও কম হচ্ছে।’


অন্য বাজারের খুচরা বিক্রেতারাও একই অভিযোগ করেন। তারা ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সাধারণ মানুষের টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। যাদের বেশি আয়, বড় চাকরি করেন, তাদের কথা ভিন্ন। অন্যভাবে সামাল দেবে। কিন্তু আমরা কোথায় যাব?


মাছ, মাংসের বাজারও চড়া দেখা গেছে। গত সপ্তাহে ব্রয়লার মুরগি ১৮০-২০০ টাকা, সোনালি মুরগি ৩১০-৩৪০ টাকা, দেশি মুরগি ৬৩০-৬৫০ টাকায় বিক্রি করতে দেখা যায়। গরুর মাংস ৭৮০-৮০০ টাকা কেজিতে ও খাসির মাংস ১ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। 


এ ছাড়া ইলিশের কেজি ২ হাজার ৪০০ থেকে ২ হাজার ৬০০ টাকা, জাটকাও ১ হাজার থেকে ১ হাজার ৫০০ টাকা, পাঙাশ ২৮০-৩০০ টাকা, তেলাপিয়া ২৮০-৩২০ টাকা, ট্যাংরা ৬০০-৯০০, পাবদা ৪০০-৬০০, চিংড়ি ৭০০ থেকে ১ হাজার ৪০০ টাকা কেজিতে বিক্রি করতে দেখা যায়। আরও দেখা যায়, একই পণ্য বাজারভেদে ১০-২০ টাকা পর্যন্ত কমবেশি দামে বিক্রি হচ্ছে।