বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ১০:৫৩ অপরাহ্ন
চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী

চাঁপাইনবাবগঞ্জে প্রায় ৫০০ কাবের অংশগ্রহণে শুরু হয়েছে ৬ষ্ঠ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬। পাঁচ দিনের এ আয়োজনে আনন্দ নিয়েই কাবরা শিখছে দলবদ্ধভাবে কাজ করা, দায়িত্ববোধ, সৃজনশীলতা, শৃঙ্খলা এবং প্রতিকূল পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার নানা কৌশল।


বুধবার (২৩ সেপ্টেম্বর) থেকেই জেলার বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কাবরা আসতে শুরু করে নামোশংকরবাটি উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে। আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের এক দিন আগেই তারা নিজেদের থাকার পরিসর তৈরি করে নেয়। তাঁবু স্থাপনসহ প্রয়োজনীয় প্রস্তুতির কাজও তারা নিজেরাই দলবদ্ধভাবে সম্পন্ন করে। এ প্রস্তুতি শুধু ক্যাম্পে থাকার ব্যবস্থা নয়, স্কাউটিং শিক্ষারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ। নিজেদের কাজ নিজেরা করার মাধ্যমে কাবরা শিখছে দায়িত্ব নেওয়া, একে অন্যকে সহযোগিতা করা এবং দলবদ্ধভাবে কাজ করা। ক্যাম্পুরীর শুরু থেকেই কিছুটা বৈরী আবহাওয়া, বৃষ্টি ও অপরিচিত পরিবেশে কয়েক দিন অবস্থান তাদের শেখাচ্ছে পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নেওয়ার বাস্তব অভিজ্ঞতা।


বৃহস্পতিবার ২৪ সেপ্টেম্বর বিকেলে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ৬ষ্ঠ চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা কাব ক্যাম্পুরী ২০২৬। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রশাসক আবু সালেহ মো. মুসা জঙ্গী। সভাপতিত্ব করেন সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মারুফ আফজাল রাজন। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অতিরিক্ত পুলিশ সুপার এ কে এম ওয়াসিম ফিরোজ, জেলা শিক্ষা কর্মকর্তা আব্দুল মতিন, অতিরিক্ত জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আব্দুর রাজ্জাক এবং বাংলাদেশ স্কাউটস রাজশাহী অঞ্চলের সহকারী পরিচালক জান্নাতুল ফেরদৌস। অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন চাঁপাইনবাবগঞ্জ জেলা স্কাউটসের সম্পাদক মোহাম্মদ মারুফুল হক।


১২ ‘উৎসবে’ শেখা ও আনন্দ

কাবদের কাছে ক্যাম্পুরীর প্রতিটি চ্যালেঞ্জকে আকর্ষণীয় ও উপভোগ্য করে তুলতে প্রতিটি কার্যক্রমের নাম দেওয়া হয়েছে ‘উৎসব’। এবারের ক্যাম্পুরীতে রয়েছে মোট ১২টি উৎসব—‘সুস্থ থাকি’, ‘নিজের বাড়ি নিজে সাজাই’, ‘মেতে উঠি উল্লাসে’, ‘জ্ঞানের আলো’, ‘স্বপ্ন’, ‘বাঁচতে হলে জানতে হবে’, ‘রং এ ঢং এ সাজি’, ‘বন্ধু গড়ি’, ‘শান্তি ও সম্প্রীতি’, ‘সৃষ্টির উল্লাসে’, ‘গুপ্ত ধনের সন্ধানে’ ও ‘তাঁবু জলসা’।


এর মধ্যে উৎসব-২, ৪, ১০ ও ১২ প্রতিযোগিতামূলক। অন্য উৎসবগুলো অংশগ্রহণমূলক। কোথাও কাবরা নিজেদের সৃজনশীলতা প্রকাশ করছে, কোথাও জ্ঞান ও দক্ষতার চর্চা করছে। আবার কোনো আয়োজনে দলবদ্ধভাবে কাজ করে তৈরি করছে বন্ধুত্ব ও সম্প্রীতির বন্ধন।


স্বাস্থ্য সচেতনতা থেকে জ্ঞানচর্চা, সৃজনশীলতা থেকে অনুসন্ধান—প্রতিটি উৎসবের মধ্যেই রয়েছে জীবনের সঙ্গে সম্পর্কিত কোনো না কোনো শিক্ষা। ফলে ক্যাম্পুরীর মাঠটাই যেন কাবদের জন্য হয়ে উঠেছে বইয়ের বাইরের এক জীবন্ত পাঠশালা।


১২টি উৎসবের পাশাপাশি রয়েছে, উডব্যাজারস গ্যাদারিং, ভলেন্টিয়ার্স নাইট ও টপ অ্যাচিভার গ্যাদারিংসহ নানা আয়োজন।


শনিবার ২৬ সেপ্টেম্বর মহাতাঁবু জলসা ও ক্যাম্প ফায়ারের মধ্য দিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে শেষ হবে পাঁচ দিনের এ আয়োজন । মহাতাঁবু জলসায় ক্যাম্পফায়ার, গান, একক ও দলীয় নৃত্যপরিবেশনাসহ কাবদের অংশগ্রহনে আনন্দে মুখর হবে ক্যাম্পুরী প্রাঙ্গণ। অনুষ্ঠানিক সমাপনী হলেও শেষ হচ্ছে না কাবদের একসঙ্গে থাকা। তারা সেদিন রাতে ভেন্যুতেই রাত্রিযাপন করবে। এরপর রবিবার ২৭ সেপ্টেম্বর সকালে প্রায় ৫০০ কাব ফিরে যাবে নিজ নিজ বিদ্যালয়ে পাঁচ দিনের স্মৃতি নিয়ে। সঙ্গে থাকবে নিজের কাজ নিজে করার অভ্যাস, দলবদ্ধভাবে কাজ করার শিক্ষা, নতুন পরিবেশে মানিয়ে নেওয়ার অভিজ্ঞতা, বন্ধুত্ব, শৃঙ্খলা ও সম্প্রীতির বার্তা।


বিদ্যালয়ে ফিরে সহপাঠীদের মাঝেও তারা ছড়িয়ে দেবে ক্যাম্পুরীতে পাওয়া শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা। বৃষ্টি হয়তো ক্যাম্পুরীর পথ কিছুটা কঠিন করেছে, কিন্তু সেই বৃষ্টিই কাবদের শিখিয়েছে প্রকৃতি বা পরিস্থিতি সবসময় অনুকূলে থাকবে না। প্রতিকূলতার মধ্যেও দলবদ্ধভাবে, হাসিমুখে এবং আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে এগিয়ে যাওয়াই জীবনের বড় শিক্ষা।