নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠায় সমন্বিত আন্দোলনের আহ্বান
‘বাংলাদেশ মহিলা পরিষদকে সংহত করি, নারী আন্দোলন অগ্রসর করি’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে রাজশাহীতে নারী ও পুরুষের অংশগ্রহণে মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শনিবার (২৬ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টায় নগরীর বাটার মোড়ের পান্ডুলিপি বই বিপণন কেন্দ্রে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ, রাজশাহী জেলা শাখার উদ্যোগে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।
সংগঠনের সভাপতি ও কেন্দ্রীয় কমিটির সহ-সভাপতি কল্পনা রায়ের সভাপতিত্বে সভায় স্বাগত বক্তব্য দেন প্রশিক্ষণ সম্পাদক সেলিনা বানু। ‘নারীর অধিকার ও মানবাধিকার’ বিষয়ে ধারণাপত্র উপস্থাপন করেন সাংগঠনিক সম্পাদক আলিমা খাতুন। বিষয়টির ওপর আলোচনা করেন সংগঠনের প্যানেল অ্যাডভোকেট শামসুন্নাহার মুক্তি।
মতবিনিময়ে অংশ নেন উদ্যোক্তা মৌসুমী আক্তার, পদ্মাপাতা বুটিক হাউজের উদ্যোক্তা; হ্যান্ড ক্রাফটের উদ্যোক্তা আফরোজা আক্তার নিতু; রাজশাহী কলেজের শিক্ষক ইসরাত জাহান; বড়কুঠি, সাহেববাজার এলাকার চাকরিজীবী মাহফুজা সুলতানা লাভলী এবং মহিলা পরিষদ রাজশাহী জেলা শাখার প্রচার সম্পাদক আফরোজা খান হেলেনসহ অন্যরা।
আলোচনায় বক্তারা বলেন, নারীরা পরিবার ও সমাজে নানা ধরনের দৃশ্যমান ও অদৃশ্য নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন। সংসার জীবনে অনেক নারী তাদের কাজের যথাযথ মূল্যায়ন, মতপ্রকাশ ও প্রয়োজনীয় স্বাধীনতা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। আর্থিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার ক্ষেত্রেও পরিবার থেকে নানা বাধার মুখে পড়তে হয় তাদের।
বক্তারা আরও বলেন, নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠা মানে নারী-পুরুষের সব ক্ষেত্রে অভিন্নতা নয়; বরং নারী-পুরুষ উভয়ের সমান সম্মান, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা। পরিবার থেকেই এ সম্মান ও মর্যাদার চর্চা শুরু করতে হবে। এজন্য শিক্ষা ও সচেতনতা বাড়ানো জরুরি।
সভায় বলা হয়, বিভিন্নভাবে নারীর মানবাধিকার লঙ্ঘিত হচ্ছে। কর্মক্ষেত্র, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহনে নারীরা যৌন হয়রানি ও সহিংসতার শিকার হচ্ছেন। নারী ও কন্যাশিশুর প্রতি সহিংসতা বন্ধ না হলে তাদের মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা সম্ভব নয়। এ কারণে নারীর মানবাধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলন এবং নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধের আন্দোলন একই সূত্রে গাঁথা।
নারীর অধিকার ও মানবাধিকার নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রীয় পদক্ষেপ জোরদারের পাশাপাশি নারী আন্দোলনের সমন্বিত ও শক্তিশালী অ্যাডভোকেসি প্রয়োজন বলে মত দেন বক্তারা। একই সঙ্গে এ আন্দোলনে তরুণ প্রজন্মের সক্রিয় অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়।
সভাপতির বক্তব্যে কল্পনা রায় বলেন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, কর্মস্থল, রাস্তাঘাট ও গণপরিবহনকে নারীবান্ধব এবং যৌন হয়রানিমুক্ত করতে হবে। অভিভাবকদের আরও সচেতন হয়ে কন্যাশিশুদের শিক্ষিত ও স্বাবলম্বী করে গড়ে তুলতে হবে। কন্যাসন্তানকে বোঝা মনে না করে তাদের শিক্ষার মাধ্যমে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ দিতে হবে। নারীর সম্মান ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি ছেলে-মেয়েদের সাংস্কৃতিক চর্চায় উৎসাহিত করতে হবে।