বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

অভিযান হয়, ড্রেজার থামে না: হেমায়েতপুরে ঝুঁকিতে বসতভিটা-কৃষিজমি

পাবনা প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পাবনা প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৬:৩৯ অপরাহ্ন
অভিযান হয়, ড্রেজার থামে না: হেমায়েতপুরে ঝুঁকিতে বসতভিটা-কৃষিজমি

পাবনার সদর উপজেলার হেমায়েতপুর ইউনিয়নের ইসলামপুরে প্রশাসনের একাধিক অভিযানের পরও থামছে না অবৈধ ড্রেজারে মাটি কাটা। অভিযোগ রয়েছে, দিনে-রাতে বড় ড্রেজার দিয়ে গভীর করে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটাসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্রি করা হচ্ছে। এতে ঝুঁকির মুখে পড়েছে বসতবাড়ি, আবাদি জমি ও গাছপালা। স্থানীয়দের দাবি, দীর্ঘদিনের মাটি কাটায় কোথাও কোথাও ৭০ থেকে ৮০ ফুট গভীর গর্ত তৈরি হয়েছে।



স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, ইসলামপুর এলাকায় প্রায় সাত-আট বছর ধরে অন্তত দুটি পয়েন্টে ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটা চলছে। দীর্ঘদিন ধরে মাটি কাটার ফলে কয়েকটি স্থানে বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। এতে আশপাশের সাত-আটটি দরিদ্র পরিবারের বসতভিটা বিলীন হয়ে গেছে বলেও দাবি তাঁদের। ক্ষতিগ্রস্ত কয়েকটি পরিবারকে নামমাত্র অর্থ দিয়ে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে বলেও অভিযোগ রয়েছে।


এলাকাবাসীর অভিযোগ, ইসলামপুর গ্রামের শাওন প্রামাণিক নামের এক ব্যক্তি এসব মাটি কাটার সঙ্গে জড়িত। তাঁর বিরুদ্ধে দিন-রাত ড্রেজার চালিয়ে মাটি কেটে ট্রাকে করে বিভিন্ন ইটভাটাসহ বিভিন্ন এলাকায় বিক্রির অভিযোগ রয়েছে। একই এলাকায় সেলিম নামের আরেক ব্যক্তিও ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটছেন বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন।


তাঁদের অভিযোগ, প্রশাসন মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে ড্রেজার বন্ধ করলেও কয়েকদিন পরই আবার শুরু হয় মাটি কাটা। স্থানীয়দের কেউ কেউ দাবি করছেন, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বিভিন্ন মহলকে ‘ম্যানেজ’ করে এ কার্যক্রম চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে এ দাবির স্বাধীন কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।


স্থানীয়দের ভাষ্য, বর্তমানে মাটি কাটার কারণে একটি বসতবাড়ি ধসে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে। বাড়িটির একেবারে পাশ থেকে গভীর করে মাটি তুলে নেওয়ায় মাটির ভারসাম্য নষ্ট হয়েছে। যেকোনো সময় ধস নেমে বাড়িটি এবং আশপাশের বসতভিটা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে বলে আশঙ্কা তাঁদের।


শুধু বসতবাড়ি নয়, ঝুঁকিতে পড়েছে কৃষিজমিও। কৃষকদের অভিযোগ, গভীর গর্তের কারণে পাশের জমিতে ভাঙন ও ফাটল দেখা দিয়েছে। এতে আবাদি জমি ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পাশাপাশি ভবিষ্যতে আরও জমি ধসে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।


নাম প্রকাশ না করার শর্তে কয়েকজন স্থানীয় বাসিন্দা বলেন, ‘প্রশাসন অভিযান চালালে কয়েকদিন মাটি কাটা বন্ধ থাকে। এরপর আবার আগের মতো ড্রেজার বসে। বছরের পর বছর এভাবে চলায় এখন বাড়িঘর নিয়ে আতঙ্কে থাকতে হচ্ছে।’


তাঁদের প্রশ্ন, একাধিকবার অভিযান পরিচালনার পরও একই এলাকায় কীভাবে আবার ড্রেজার বসিয়ে মাটি কাটার সুযোগ তৈরি হচ্ছে। তাঁদের অভিযোগ, অভিযানের পর নিয়মিত নজরদারি না থাকায় মাটি কাটার সঙ্গে জড়িতরা আবার সক্রিয় হয়ে ওঠেন।


অভিযোগের বিষয়ে বক্তব্য জানতে শাওন প্রামাণিকের মুঠোফোনে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৫টা ২০ মিনিটে একাধিকবার কল করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি। পরে মুঠোফোনে খুদে বার্তা পাঠিয়ে বক্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তাঁর কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি।


পাবনা সদর উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) ফুয়াদ হোসেন বলেন, ‘বিষয়টি নিয়ে এর আগেও অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে। নতুন করে যদি অবৈধভাবে মাটি কাটার প্রমাণ পাওয়া যায়, তাহলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’


স্থানীয়দের দাবি, শুধু অভিযান নয়, মাটি কাটার মূল উৎস বন্ধে নিয়মিত নজরদারি ও কার্যকর আইনগত ব্যবস্থা নিশ্চিত করা না গেলে বসতভিটা ও কৃষিজমি রক্ষা করা কঠিন হবে।