পদ্মার ভাঙনে বিলীন ঘরবাড়ি-ফসলি জমি, আতঙ্কে নদীপাড়ের মানুষ
রাজশাহীর গোদাগাড়ীতে হঠাৎ তীব্র হয়েছে পদ্মা নদীর ভাঙন। নদীর আগ্রাসী স্রোতে একের পর এক ঘরবাড়ি, মসজিদ, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ফসলি জমি নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে। ভিটেমাটি হারানোর আশঙ্কায় নদীপাড়ের মানুষের মধ্যে দেখা দিয়েছে তীব্র আতঙ্ক ও উৎকণ্ঠা। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে আরও বহু পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, উপজেলার ৭ নম্বর দেওপাড়া ইউনিয়নের নিমতলা ও খারিজাগাথি গ্রামে ব্যাপক ভাঙন দেখা দিয়েছে। একই সঙ্গে গোদাগাড়ী পৌর এলাকার সারাংপুর, কাচারীপাড়া, রেলবাজার, কুঠিপাড়া ও বারুইপাড়া এলাকাতেও পদ্মার ভাঙন তীব্র আকার ধারণ করেছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, পদ্মার পানি বাড়া-কমার সঙ্গে স্রোতের তীব্রতা বেড়ে যাওয়ায় প্রতিদিনই নদীর পাড় ধসে পড়ছে। নদীগর্ভে চলে যাচ্ছে ফসলি জমি ও বসতভিটার অংশ। এতে অনেক পরিবার চরম অনিশ্চয়তার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে।
বারুইপাড়ার বাসিন্দা আফজাল সরকার ও সারাংপুরের রমজান আলী বলেন, ‘প্রতিদিন চোখের সামনে জমি ও বসতভিটা নদীতে চলে যাচ্ছে। দ্রুত টেকসই বাঁধ নির্মাণ করা না হলে এ এলাকার বহু পরিবার সর্বস্ব হারাবে।’
ভাঙন এলাকা পরিদর্শনে ইউএনও
ভাঙন পরিস্থিতি সরেজমিনে দেখতে গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে গোদাগাড়ী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ইসরাত জাহান ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পৌর এলাকার কুঠিপাড়া, সারাংপুর ও সুলতানগঞ্জ ঘুরে দেখেন এবং ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সঙ্গে কথা বলেন।
পরিদর্শন শেষে ইউএনও ইসরাত জাহান বলেন, এলাকার ভাঙন পরিস্থিতিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে ইতোমধ্যে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) ও সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সঙ্গে কথা হয়েছে।
একই দিন রাজশাহী জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল খালেকের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল উপজেলার বিভিন্ন ভাঙনকবলিত এলাকা পরিদর্শন করে দুর্গত ও সাধারণ মানুষের খোঁজখবর নেয় এবং তাদের পাশে থাকার আশ্বাস দেয়।
ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় জিওব্যাগ ফেলা শুরু
ভাঙন রোধে নেওয়া পদক্ষেপ সম্পর্কে জানতে চাইলে রাজশাহী পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফুর রহমান অঙ্কুর বলেন, ‘আমরা ভাঙন এলাকা পরিদর্শন করেছি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে জরুরি ভিত্তিতে অতি ঝুঁকিপূর্ণ কয়েকটি এলাকায় জিওব্যাগ দিয়ে বালুর বস্তা ফেলার কাজ শুরু হয়েছে।’
তিনি জানান, ভাঙন রোধে স্থায়ী ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।
স্থানীয়দের দাবি, জরুরি ভিত্তিতে জিওব্যাগ ফেলার পাশাপাশি পদ্মার ভাঙনপ্রবণ এলাকাগুলোতে স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে। তা না হলে প্রতি বছর নদীভাঙনে বসতভিটা ও আবাদি জমি হারিয়ে নিঃস্ব হওয়ার সংখ্যা আরও বাড়বে।