বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

নাচোলে ৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক শিক্ষকসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান, বাড়ছে সহকারী শিক্ষকদের চাপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৭:৪৩ অপরাহ্ন
নাচোলে ৩৮ প্রাথমিক বিদ্যালয়ে নেই প্রধান শিক্ষক  শিক্ষকসংকটে খুঁড়িয়ে চলছে পাঠদান, বাড়ছে সহকারী শিক্ষকদের চাপ

চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোল উপজেলার ৮৯টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৮টিতেই নেই স্থায়ী প্রধান শিক্ষক। দীর্ঘদিন ধরে নতুন নিয়োগ ও পদোন্নতি বন্ধ থাকায় এসব বিদ্যালয় ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে পরিচালিত হচ্ছে। এতে প্রশাসনিক কার্যক্রমের পাশাপাশি নিয়মিত পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, ৮৯টি বিদ্যালয়ের মধ্যে ৩৩টিতে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক এবং ১৭টিতে চলতি দায়িত্বে প্রধান শিক্ষক রয়েছেন। বাকি ৩৮টি বিদ্যালয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক দিয়ে কার্যক্রম চালানো হচ্ছে। এর পাশাপাশি বেশ কিছু বিদ্যালয়ে অনুমোদিত পদের তুলনায় শিক্ষকসংখ্যা অর্ধেকেরও কম।

প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি শ্রেণিকক্ষে পাঠদান করতে গিয়ে ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকদের ওপর বাড়তি চাপ পড়ছে। দাপ্তরিক কাজে উপজেলা ও জেলা শিক্ষা অফিসে যেতে হওয়ায় অনেক সময় শ্রেণিকক্ষেও শিক্ষক সংকট তৈরি হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের নিয়মিত পাঠদান ব্যাহত হওয়ার অভিযোগ রয়েছে।

সগুনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মাহমুদা খাতুন বলেন, ‘দাপ্তরিক কাজে অফিসে যেতে হয়। এতে অনেক সময় ক্লাস নেওয়া সম্ভব হয় না। অন্য শিক্ষকদের অতিরিক্ত ক্লাস নিতে হয়। প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করলেও আমরা সহকারী শিক্ষকের বেতনই পাই। দ্রুত প্রধান শিক্ষকের পদ পূরণ করা প্রয়োজন।’

বহরইল সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক আবদুল্লাহ আল মাহমুদ বলেন, মাত্র তিনজন শিক্ষক দিয়ে ১৪৭ জন শিক্ষার্থীর পাঠদান চালাতে হচ্ছে। এতে শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ছে এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানও ব্যাহত হচ্ছে।

শব্দুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক নীলিমা আকতার জানান, বিদ্যালয়টিতে ছয়টি অনুমোদিত পদের বিপরীতে শিক্ষক রয়েছেন মাত্র তিনজন। অথচ বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থী রয়েছে ১২৬ জন।

নাচোল উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. মজনু মিয়া বলেন, শিক্ষকসংকটের কারণে পাঠদানে সমস্যা হচ্ছে—বিষয়টি তাঁরা অবগত। শূন্য পদগুলো পূরণের জন্য ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে নিয়মিত জানানো হচ্ছে। দ্রুতই এ সমস্যার সমাধান হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।