বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

‘এবার দাদিকে শেষবার দেখতে পারব’, সহকারী হাইকমিশনারকে কৃতজ্ঞতা রাবেয়ার

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৮ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:০৮ অপরাহ্ন
‘এবার দাদিকে শেষবার দেখতে পারব’, সহকারী হাইকমিশনারকে কৃতজ্ঞতা রাবেয়ার

ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদে শতবর্ষী দাদি মাজেরা বেওয়া অসুস্থ হয়ে শয্যাশায়ী। জীবনের শেষ সময়ে তিনি বাংলাদেশে থাকা প্রপৌত্রী রাবেয়া খাতুনকে একবার দেখতে চান। দাদিকে দেখতে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন রাবেয়া। পাসপোর্টও করেছিলেন। দাদিকে দেখতে সন্তানদের নিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনাও ছিল তাঁর।


কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর ট্যুরিস্ট ভিসার চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম না থাকায় অনিশ্চয়তায় পড়ে যায় তাঁর যাত্রা। পরে ভিসার জন্য রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমারের শরণাপন্ন হন। তাঁর আবেদন আমলে নিয়ে মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) সকালে তাঁকে কার্যালয়ে ডেকে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নেওয়া হয়েছে। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা দেওয়ার বিষয়ে তাঁকে আশ্বস্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন রাবেয়া।


রাবেয়ার বাড়ি রাজশাহী মহানগরের চন্দ্রিমা থানার ফিরোজাবাদ এলাকায়। স্বামী, ছেলে মেহরান তানভীর ও মেয়ে রওশন মেহেজাবীনকে নিয়ে তাঁর সংসার। ভারতের পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বাবলাবোনা এলাকায় থাকেন তাঁর দাদি মাজেরা বেওয়া। তাঁর বয়স শতবর্ষ পেরিয়েছে। বার্ধক্যজনিত নানা জটিলতায় তিনি বর্তমানে শয্যাশায়ী। রাবেয়া বলেন, তাঁর জন্মের আগেই তাঁর বাবা-মা ভারত থেকে বাংলাদেশে চলে আসেন।


তাঁর জন্ম ও বেড়ে ওঠা বাংলাদেশে। তবে ভারতের সঙ্গে তাঁদের পারিবারিক সম্পর্ক রয়েছে। দাদিকে দেখতে যাওয়ার জন্য বেশ কিছুদিন আগে থেকেই প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন রাবেয়া। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর ট্যুরিস্ট ভিসার চূড়ান্ত তালিকায় নিজের নাম না দেখে হতাশ হয়ে পড়েন তিনি। পরে এক বড় ভাইয়ের পরামর্শে রাজশাহীতে নিযুক্ত ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের কাছে জরুরি ভিত্তিতে ভিসার জন্য আবেদন করেন।


রাবেয়ার ভাষ্য, মঙ্গলবার সকালে তাঁকে সহকারী হাইকমিশনারের কার্যালয়ে ডাকা হয়। সেখানে সহকারী হাইকমিশনার মনোজ কুমার তাঁর সঙ্গে কথা বলেন। তিনি দাদির অসুস্থতার বিষয়টি জানান। পরে ভিসার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা নেওয়া হয়।


রাবেয়া বলেন, ‘আজ দুপুরে ভারতীয় সহকারী হাইকমিশনারের অফিস থেকে আমাকে ফোন করে বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) সকালে দেখা করতে বলেছেন। দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা দেওয়ার বিষয়ে আমাকে আশ্বস্ত করা হয়েছে।’ দাদির অসুস্থতার কথা বলতে গিয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন রাবেয়া। তিনি বলেন, ‘আমার শতবর্ষী দাদি এখন খুব অসুস্থ। বার্ধক্যজনিত নানা জটিল রোগে তিনি জীবনসায়াহ্নে রয়েছেন। তিনি আমাকে শেষবারের মতো দেখতে চান। আমিও অনেক দিন ধরে তাঁকে দেখিনি।’ রাবেয়া বলেন, ‘দাদিকে শেষবারের মতো দেখব, এই আশাতেই ছেলে-মেয়েকে নিয়ে ভারতে যাওয়ার প্রস্তুতি নিয়েছিলাম। পাসপোর্ট করেছি। কিন্তু ২৪ সেপ্টেম্বর ট্যুরিস্ট ভিসার চূড়ান্ত তালিকায় আমার নাম না থাকায় খুব হতাশ হয়ে পড়ি। মনে হচ্ছিল, হয়তো দাদির শেষ ইচ্ছাটাও পূরণ করতে পারব না।’


সহকারী হাইকমিশনারের কাছে আবেদন করার পর সাড়া পাওয়ায় কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন রাবেয়া। তিনি বলেন, ‘তিনি আমার সমস্যার কথা মন দিয়ে শুনেছেন। প্রয়োজনীয় কাগজপত্র নিয়েছেন এবং দ্রুত সময়ের মধ্যে ভিসা দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। আমি সত্যিই খুব খুশি এবং তাঁর প্রতি কৃতজ্ঞ।’ রাবেয়ার এখন অপেক্ষা ভিসা প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার। তাঁর আশা, সময় থাকতে সন্তানদের নিয়ে মুর্শিদাবাদের বাবলাবোনায় গিয়ে শতবর্ষী দাদির সঙ্গে দেখা করতে পারবেন। তিনি বলেন, ‘এবার দাদিকে শেষবার দেখতে পারব, এই আশাটাই এখন আমার সবচেয়ে বড় ভরসা।’