চারঘাটে বকুল হত্যা: আসামিদের গ্রেপ্তার ও ফাঁসির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ
রাজশাহীর চারঘাটে বকুল হত্যা মামলার আসামিদের দ্রুত গ্রেপ্তার ও সর্বোচ্চ শাস্তির দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ করে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। মঙ্গলবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেল ৪টার দিকে চারঘাট-বাঘা মহাসড়কের হলিদাগাছী রেলগেট এলাকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
মানববন্ধনে স্থানীয় বাসিন্দা, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেন। এ সময় বকুল হত্যায় জড়িতদের দ্রুত গ্রেপ্তার করে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান বক্তারা। তাদের দাবি, কোনো আসামি যেন আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে।
এলাকাবাসী সূত্র ও মামলার এজাহার অনুযায়ী, পূর্বশত্রুতার জেরে গত ২৮ আগস্ট রাত সাড়ে ১১টার দিকে বকুল তার শ্বশুরবাড়ি পুঠিয়া উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামে গেলে তাকে জোরপূর্বক আটক করা হয়। পরে হাত-পা দড়ি দিয়ে বেঁধে মাটিতে ফেলে জিআই পাইপ দিয়ে তাকে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে।
পরে স্থানীয়রা গুরুতর আহত অবস্থায় বকুলকে উদ্ধার করে রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করেন। সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় গত বৃহস্পতিবার তার মৃত্যু হয়। তার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়লে এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা দেখা দেয়।
এরই ধারাবাহিকতায় মঙ্গলবার বিকেলে হলিদাগাছী রেলগেট এলাকায় মানববন্ধন ও সড়ক অবরোধ করেন এলাকাবাসী। এতে প্রায় ৪৫ মিনিট চারঘাট-বাঘা মহাসড়কে যান চলাচল বন্ধ থাকে।
মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী জেলা জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি নাজমুল হক, চারঘাট-বাঘা আসনের সংসদ সদস্য আবু সাঈদ চাঁদের ছেলে রাকিবুল ইসলাম অলিভ, স্থানীয় ইউপি সদস্য ও সমাজসেবক মুক্তার হোসেন মুক্তাসহ বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ।
বক্তারা বলেন, বকুলকে হত্যার ঘটনায় জড়িত প্রত্যেককে দ্রুত আইনের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি মামলার কোনো আসামি যাতে প্রভাব খাটিয়ে বা আইনের ফাঁক দিয়ে বেরিয়ে যেতে না পারে, সে বিষয়েও প্রশাসনের কঠোর নজরদারি দাবি করেন তারা।
এ ঘটনায় নিহত বকুলের স্ত্রী ফাহিমা খাতুন বাদী হয়ে গত ২৯ আগস্ট রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেলপুকুর থানায় মামলা করেন।
মামলার এজাহারভুক্ত আসামিরা হলেন—পুঠিয়া উপজেলার দুর্লভপুর গ্রামের রতন আলী ও স্বপন (পিতা: মৃত এসকেন্দার আলী), মো. রইস (পিতা: ওমর আলী), নফেল উদ্দিন উকিল (পিতা: মৃত হাকিম উদ্দিন) এবং মো. বাকী (পিতা: নফেল উদ্দিন)।
চারঘাট মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহাবুবুর রহমান বলেন, মানববন্ধনের সময় তিনি ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। আন্দোলনকারীদের সঙ্গে কথা বলে তাদের আশ্বস্ত করা হয়েছে। পরে মহাসড়কে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
তিনি বলেন, ঘটনাটি রাজশাহী মেট্রোপলিটন পুলিশের বেলপুকুর থানার অধীন হওয়ায় বিষয়টি সংশ্লিষ্ট থানার ওসিকে অবহিত করা হয়েছে।