বুধবার, অক্টোবর ১৪, ২০২৬

সর্বহারা পরিচয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি

রাবি প্রতিবেদক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
রাবি প্রতিবেদক ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬ ০৮:৫৯ অপরাহ্ন
সর্বহারা পরিচয়ে রাবির পাঁচ শিক্ষককে প্রাণনাশের হুমকি, চাঁদা দাবি

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের (রাবি) অন্তত পাঁচ শিক্ষককে ‘সর্বহারা’ পরিচয়ে ফোন করে প্রাণনাশের হুমকি ও চাঁদা দাবি করা হয়েছে। এ ঘটনায় নিরাপত্তা চেয়ে এক শিক্ষক মতিহার থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেছেন। বিষয়টি তদন্ত করছে পুলিশ।


হুমকি পাওয়া শিক্ষকদের মধ্যে রয়েছেন ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন, গণিত বিভাগের অধ্যাপক গৌর চন্দ্র পাল, সমাজকর্ম বিভাগের অধ্যাপক জান্নাতুল ফেরদৌস, নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন ও কৌশিক সরকার।


নাট্যকলা বিভাগের অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেনের কাছে ফোন করে জেলে থাকা কর্মীদের জামিনের খরচের জন্য টাকা দাবি করা হয়। তার কাছে পরপর দুইবার ফোন আসে। প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় তিনি কথা বলতে পারেননি। প্রায় দুই ঘণ্টা পর আবার ফোন দিলে তিনি কলদাতার সঙ্গে দীর্ঘ সময় কথা বলেন।


এ বিষয়ে জানতে চাইলে অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘প্রথমবার ব্যস্ত থাকায় কথা বলতে পারিনি। তবে দুই ঘণ্টা পর আবার যখন কল দেয় তখন তাদের সাথে একটা লম্বা সময় কথা হয়। এসময় তারা আমার কাছে জানতে চান আমি কত টাকা দিতে পারবো।’


তিনি বলেন, ‘কথোপকথনের এক পর্যায়ে তারা বলেন, আপনার মাথায় রিভলবার ধইরা বলেন নাই যে, দাদা ফোন করবে, টাকা আপনি ম্যানেজ রাখবেন। এসময় কলদাতা নিজেকে সিরাজ শিকদারের ছোটভাই হিসেবে পরিচয় দেন।’


পরবর্তীতে নিরাপত্তা চেয়ে মতিহার থানায় একটি জিডি করেন অধ্যাপক শাহরিয়ার হোসেন বলেন, ‘আমি সাথে সাথেই প্রক্টরকে কল দিই। প্রক্টর মাহবুবুর রহমান আমাকে জানান, এ ধরনের প্রতারণামূলক কল কয়েকদিন পরপরই বিভিন্ন শিক্ষকের কাছে আসছে।’


অধ্যাপক শাহরিয়ার আরো বলেন, ‘আমি পরবর্তীতে পুলিশের মাধ্যমে নাম্বার ট্র্যাক করে জানতে পারি এই কলটি মাদারীপুর থেকে আসছে। আর সিমটি মুফতি রেজাউল করিম নামে এক ব্যক্তির পরিচয়ে রেজিস্ট্রেশন করা হয়েছে।’


আরেক ভুক্তভোগী অধ্যাপক আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, ‘আমাকে ফোন করে সর্বহারার পরিচয় দেয়া হলে আমি বেশি কথা না বাড়িয়ে ফোন কেটে দেই। পরবর্তীতে জানতে পারি এমন কল আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়ের আরো অনেক শিক্ষকের কাছেই এসেছে।’


এ বিষয়ে মতিহার থানার ওসি আরজুন বলেন, ‘আমরা এই ধরনের অভিযোগ পেয়েছি। জিডিও করা হয়েছে। বিষয়টি এখনো তদন্তনাধীন। আশা করছি, দ্রুতই সমস্যাটির সমাধান হবে।’