পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ে শ্রেণিকক্ষে বিষধর সাপ, আতঙ্কে শিক্ষার্থীরা
নওগাঁর বদলগাছী উপজেলার পাহাড়পুর আদিবাসী উচ্চ বিদ্যালয়ের পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ শ্রেণিকক্ষে মাথার ওপর বিষধর সাপ দেখা দেওয়ায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। বুধবার (৩০ সেপ্টেম্বর) বেলা ১২টার দিকে দশম শ্রেণির ক্লাস চলাকালে ছাউনির কাঠের আড়ায় সাপ দেখতে পেয়ে চিৎকার করে শ্রেণিকক্ষ থেকে বেরিয়ে আসে শিক্ষার্থীরা। পরে আরও একটি শ্রেণিকক্ষেও সাপ দেখা যায়।
শিক্ষার্থীরা জানায়, বিদ্যালয়ের পুরোনো ও পরিত্যক্ত শ্রেণিকক্ষগুলোতেই তাদের ক্লাস করতে হয়। এর আগেও এসব কক্ষে সাপ দেখা গেছে। বুধবার দুটি শ্রেণিকক্ষে সাপ দেখা দেওয়ার পর আতঙ্কে কোনো শিক্ষার্থী আর ক্লাসে ফিরতে চায়নি।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী জীত সরকার, নবম শ্রেণির রতন ও আলমুবাদসহ অর্ধশতাধিক শিক্ষার্থী জানায়, শ্রেণিকক্ষগুলো অনেক পুরোনো ও ঝুঁকিপূর্ণ। মাথার ওপর সাপ থাকায় এসব কক্ষে ক্লাস করতে তারা নিরাপত্তাহীনতায় ভোগে।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মামুনুর রশিদ বলেন, বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেশি। দুটি ভবনে মোট সাতটি শ্রেণিকক্ষ রয়েছে। ষষ্ঠ থেকে অষ্টম শ্রেণিতে একাধিক সেকশন থাকায় শ্রেণিকক্ষ সংকট দেখা দিয়েছে। এ কারণে পরিত্যক্ত তিনটি কক্ষেও ক্লাস নিতে হচ্ছে। এসব কক্ষে মাঝেমধ্যে সাপ বের হয়। শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের একটি একতলা ভবন রয়েছে। সেটি দ্বিতল করা গেলে অথবা নতুন ভবনের বরাদ্দ পাওয়া গেলে শ্রেণিকক্ষ সংকটের সমাধান হবে।
উপজেলা মাধ্যমিক শিক্ষা কর্মকর্তা শফিউল আলম বলেন, বিষয়টি তার জানা ছিল না। এতটা বিপজ্জনক পরিস্থিতি হলে বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি বলেন, বিষয়টি তিনি জানেন। বিদ্যালয়টিতে নতুন ভবন প্রয়োজন। প্রয়োজন হলে সংসদ সদস্যের সুপারিশ নিয়ে নতুন ভবনের জন্য আবেদন করা হবে। পুরোনো শ্রেণিকক্ষগুলো নিরাপদ নয় বলেও জানান তিনি।