দুর্গতিনাশিনীকে মর্ত্যে আহ্বান জানিয়ে শুরু দুর্গাপূজা
মহাষষ্ঠীতে মাতৃত্ব ও শক্তির প্রতীক দুর্গতিনাশিনী দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বানের মধ্য দিয়ে শুরু হলো সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজার মূল আনুষ্ঠানিকতা। শুক্রবার (১৬ অক্টোবর) সকালে দেবীর নিদ্রাভঙ্গের আবাহন অর্থাৎ বোধনের মাধ্যমে রাজশাহীতেও শুরু হয়েছে দুর্গোৎসবের আচার পর্ব।
বাংলাদেশের হিন্দু সম্প্রদায়ের সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসব শারদীয় দুর্গাপূজা। দেবীর মূল প্রতিমায় ষষ্ঠী থেকে পূজা হবে। আগামী বুধবার বিজয়া দশমী পর্যন্ত ছয় দিন ঢাকঢোল ও কাঁসরের বাদ্যে মুখর থাকবে পূজামণ্ডপগুলো। শুক্রবার পূর্বাহ্ন (সকাল) ৯টা ৫৭ মিনিটের মধ্যে দেবী দুর্গার ষষ্ঠাদি কল্পারম্ভ ও ষষ্ঠীবিহিত পূজা হবে। সায়ংকালে (সন্ধ্যায়) দেবীর আমন্ত্রণ ও অধিবাস।
রাজশাহীর মন্দিরে মন্দিরে ষোড়শ উপচারে দেবী দুর্গাকে মর্ত্যে আহ্বান জানানো হচ্ছে। ষষ্ঠ্যাদি কল্পারম্ভ ও বিহিত পূজার মাধ্যমে শুরু হয়েছে পূজার মূল আচার। এ বছর রাজশাহী মহানগরীতে ৮৫টিসহ পুরো জেলায় মোট ৪৮৯টি মণ্ডপে অনুষ্ঠিত হচ্ছে এই উৎসব।
সকাল থেকেই রাজশাহীর মণ্ডপগুলোতে ষষ্ঠীর দিনে দেবীর বোধন, আমন্ত্রণ ও অধিবাসের আনুষ্ঠানিকতা চলছে। পূণ্যার্থীরা নানা রঙের বাহারি পোশাক পরে উৎসবের আনন্দে মেতে উঠেছেন এবং ভিড় জমাচ্ছেন মণ্ডপে মণ্ডপে।
প্রচলিত নিয়মে দুর্গাপূজা মূলত মহাষষ্ঠী থেকে বিজয়া দশমী পর্যন্ত পাঁচ দিন ধরে উদযাপিত হয়। তবে পঞ্জিকা অনুযায়ী এ বছর সপ্তমীর তিথি দুদিন পড়ায় শারদীয় দুর্গোৎসব এক দিন বেড়ে চলবে টানা ছয় দিন। সেই হিসেবে আগামী ২১ অক্টোবর (বুধবার) বিজয়া দশমীতে প্রতিমা বিসর্জনের মধ্য দিয়ে শেষ হবে এবারের উৎসব।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) মহাসপ্তমী। শাস্ত্রমতে মহাসপ্তমীতে ষোড়শ উপাচারে (ষোল উপাদানে) দেবীর পূজা হবে। সকালে ত্রিনয়নী দেবী দুর্গার চক্ষুদান করা হবে। একই সঙ্গে দেবীকে আসন, বস্ত্র, নৈবেদ্য, পুষ্পমাল্য, চন্দন, ধূপ ও দীপ দিয়ে পূজা করবেন ভক্তরা। এ সময় পূজারীরা প্রতিমার সামনে বসে মায়ের মুখ দর্শন করবেন।
সব মন্দিরেই সকাল থেকে শুরু হবে সপ্তমী পূজার আনুষ্ঠানিকতা। মহাসপ্তমীর পূজা অনুষ্ঠিত হবে সকাল ৬টা ১০ মিনিটে। এছাড়াও দিনব্যাপী চণ্ডী ও মন্ত্রপাঠের মাধ্যমে পূজা, দেবী-দর্শন, দেবীর পায়ে ভক্তদের অঞ্জলি প্রদান, প্রসাদ গ্রহণের মাধ্যমে পূজার আনুষ্ঠানিকতা চলবে বলে জানান সর্বজনীন পূজা আয়োজকরা।
এদিকে, সার্বজনীন এই ধর্মীয় উৎসবকে আনন্দমুখর ও নির্বিঘ্ন করতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বাড়তি নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। রাজশাহীর প্রতিটি মণ্ডপে আনসার ও পুলিশ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে।
এবার দেবী দুর্গা আসছেন ঘোটকে (ঘোড়ায়)। বিদায় নেবেন নৌকায়। হিন্দু শাস্ত্রমতে, শ্বশুরবাড়ি কৈলাস থেকে কন্যারূপে দেবী বাপের বাড়ি বেড়াতে মর্ত্যলোকে আসছেন। অসুর শক্তির কাছে পরাভুত দেবতারা স্বর্গলোকচ্যুত হয়েছিলেন। এই অশুভ শক্তিকে বিনাশ করতে একত্র হন দেবতারা। অসুর শক্তির বিনাশে অনুভূত হলো এক মহাশক্তির আবির্ভাব। দেবতাদের তেজরশ্মি থেকে আবির্ভূত হলেন অসুরবিনাশী দেবী দুর্গা।