শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

ধামইরহাটে শত্রুতার জেরে ৭ কৃষকের ১০ বিঘা জমির ধান নষ্টের অভিযোগ

ধামইরহাট প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
ধামইরহাট প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৩ অপরাহ্ন
ধামইরহাটে শত্রুতার জেরে ৭ কৃষকের ১০ বিঘা জমির ধান নষ্টের অভিযোগ

নওগাঁর ধামইরহাটে জমি নিয়ে বিরোধের জেরে ক্ষতিকর রাসায়নিক স্প্রে করে সাত কৃষকের প্রায় ১০ বিঘা জমির আমন ধান নষ্ট করার অভিযোগ উঠেছে প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে। এতে প্রায় সাড়ে ৫ লাখ টাকার ক্ষতি হয়েছে বলে দাবি করেছেন ভুক্তভোগী কৃষকেরা। এ ঘটনায় সাতজনকে আসামি করে ধামইরহাট থানায় লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন কৃষক চানমুদ্দীন।


বৃহস্পতিবার (২৩ অক্টোবর) সকালে উপজেলার রূপনারায়ণপুর মাঠে সরেজমিনে গিয়ে ধানের গাছ বিবর্ণ হয়ে যাওয়ার চিত্র দেখতে পান সাংবাদিকেরা। ভুক্তভোগীদের অভিযোগ, গত ২০ অক্টোবর রাতে জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করে ধান নষ্ট করা হয়।


অভিযোগের বাদী রূপনারায়ণপুর (নিকেশ্বর) গ্রামের মৃত আমির উদ্দিনের ছেলে চানমুদ্দীন জানান, তিনি ও কৃষক মামুন হোসেন, আমিনুল, রিয়াজ, মিজানুর, মাসুদ ও মোমিন ক্রয়সূত্রে পাওয়া জমিতে দীর্ঘদিন ধরে চাষাবাদ করছেন। রূপনারায়ণপুর মৌজার জে.এল. নম্বর ১৮২-এর অন্তর্ভুক্ত সংশ্লিষ্ট জমিতে তাঁরা চলতি আমন মৌসুমে ধান রোপণ করেন। তাঁর দাবি, জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করায় ধানের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে।


চানমুদ্দীনের অভিযোগ, ২০ অক্টোবর রাতে একই গ্রামের নাসির উদ্দিনের ছেলে ওবায়দুল ইসলাম, এন্দাদুল ওরফে বিপ্লব, বাবু, সাবু, মুজাই, মুজাইয়ের ছেলে মোমিন ও খোকার ছেলে জিয়ারুল ইসলাম জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করেন। এ সময় স্থানীয় মিজানুর রহমান ঘটনাটি দেখে ফেললে তাঁকে ধাওয়া করা হয়। পরে তিনি কৌশলে সেখান থেকে পালিয়ে যান। পরদিন সকালে বিষয়টি জানার পর জমিতে গিয়ে ধানগাছ বিবর্ণ দেখতে পান তাঁরা।


চানমুদ্দীন আরও দাবি করেন, এর আগেও জমি নিয়ে বিরোধের জেরে তাঁদের আলু ও সরিষার ফসল নষ্ট করা হয়েছিল। ওই ঘটনায় দায়ের করা মামলায় গ্রাম আদালতের বিচারে প্রতিপক্ষ দোষী সাব্যস্ত হয়ে জরিমানা দিয়েছিল বলে তিনি জানান।


ধামইরহাট ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এ টি এম বদিউল আলম বলেন, আগের ঘটনায় সাক্ষ্য-প্রমাণের ভিত্তিতে বিপ্লব গংকে জরিমানা করা হয়েছিল। সাম্প্রতিক ঘটনায় তাঁদের বিরুদ্ধে চানমুদ্দীনের সন্দেহকে তিনি অমূলক মনে করেন না।


তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত বিপ্লব। মুঠোফোনে তিনি বলেন, জমিটির দাবিদার তাঁরাই। চানমুদ্দীন গং তাঁদের জমিতে জোর করে ধান লাগিয়েছেন এবং মামলা দিয়ে হয়রানি করছেন। তাঁরা কারও জমিতে রাসায়নিক স্প্রে করেননি; হয়রানি করার উদ্দেশ্যেই মিথ্যা অভিযোগ করা হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।


ধামইরহাট থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মিন্টু রহমান বলেন, কেউ সম্পত্তির আইনগত বৈধ মালিক হলে ফসলের ওপর তাঁর অধিকার থাকতে পারে। কিন্তু কারও ফসল ধ্বংস করা ফৌজদারি অপরাধ। এ ঘটনায় লিখিত অভিযোগ পাওয়া গেছে। তদন্ত সাপেক্ষে দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।