শুক্রবার, অক্টোবর ২৩, ২০২৬

চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উৎসব

পাবনা প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
পাবনা প্রতিনিধি ২৩ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৪৪ অপরাহ্ন
চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উৎসব

বন্ধুত্বের বন্ধনে বর্ণিল ৬২ শিরোনামে পাবনার চাটমোহর পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের পুনর্মিলনী উৎসব অনুষ্ঠিত হয়েছে। 


শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সকাল থেকে দিনভর নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে বিদ্যালয় চত্বরে এই উৎসব অনুষ্ঠিত হয়। 


সকাল থেকে বিদ্যালয় প্রাঙ্গণ মুখর হয়ে ওঠে সাবেক ও বর্তমান শিক্ষক শিক্ষার্থীদের পদচারনায়। তারপর একে একে সবাই রেজিষ্ট্রেশন সম্পন্ন করেন।


৬৯ সালের ব্যাচ থেকে ২০২৬ সাল পর্যন্ত ব্যাচের সাড়ে পাঁচ শতাধিক  শিক্ষার্থীরা উৎসবে অংশ নেন। স্কুল ড্রেস ছিল কমলা রঙের। সেই স্মৃতি ধারণ করে সকল ছাত্রীরা কমলা রঙের শাড়ী পড়েন। বর্ণিল রঙে সাজানো হয় স্কুলের প্রধান ফটক থেকে স্কুল প্রাঙ্গন। রঙ বেরঙের বেলুন, ঘুড়ি দিয়ে সাজানো হয় স্কুল চত্বর। দীর্ঘ বছর পর প্রিয় সহপাঠীকে কাছে পেয়ে অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। জড়িয়ে ধরে নিজেদের খোঁজখবর লেনদেন করেন।  


জাতীয় পতাকা উত্তোলন ও জাতীয় সংগীত এর মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সূচনা করা হয়। সকাল সাড়ে দশটায় স্কুল চত্বর থেকে বের করা হয় একটি বর্ণাঢ্য আনন্দ শোভাযাত্রা। পৌর সদরের প্রধান সড়ক ঘুরে আবার স্কুল চত্বরে গিয়ে শেষ হয় শোভাযাত্রাটি। 


এরপর শুরু হয় আলোচনা সভা। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে সংরক্ষিত আসনের মহিলা এমপি এডভোকেট আরিফা সুলতানা রুমা অনুষ্ঠান উদ্বোধন করেন। এ সময় বিদ্যালয়ের বর্তমান ও সাবেক প্রধান শিক্ষক এবং অন্যান্য অতিথি, শিক্ষকবৃন্দ বক্তব্য দেন। 


এরপর শুরু হয় স্মৃতিচারণমূলক বক্তব্য। এ সময় বিদ্যালয়ের সাবেক ছাত্রীরা তাদের স্মৃতি বিজড়িত স্কুল, শিক্ষক আর সহপাঠীদের সাথে কাটানো পুরোনো স্মৃতি রোমন্থন করেন। এ সময় অনেকে আবেগ আপ্লুত হয়ে পড়েন। 


অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে শিক্ষকদের সম্মাননা জানানো হয়। পরে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের মধ্য দিয়ে শেষ হয় বর্ণিল এই আয়োজন।


স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে ৮১ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী দেলোয়ারা খাতুন বলেন, আমার বাবা ১৫ বছর এই এই স্কুলের প্রধান শিক্ষক ছিলেন। এই স্কুলটি আমাদের অন্ধকার থেকে আলোর পথে নিযে এসেছে। মনে হয় সেই সিক্সে ভর্তি হই। সেইদিনে ফিরে যেতে ইচ্ছে করে খুব। আমি চাই এই স্কুল থেকে শিক্ষার যে আলো নিয়ে আমার জীবন গড়েছি। সেই আলো জ্বলে থাকুক আজীবন। পরবর্তী প্রজন্ম  সেই আলোর ধারায় চলতে থাকুক। 


৭২ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী নুর জহান বেগম বলেন, আমি সেই ৭২ সালের ছাত্রী। তখন স্কুলের তেমন কিছুই ছিল না, টিনের ঘরে ক্লাস হতো।আর এখন এসে স্কুল কে চিনতে পারিনি। ৭২ ব্যাচের আমি একমাত্র এসেছি আর কাউকে দেখতে পাইনি। আমার প্রিয় স্কুলে আসতে পেরে আমি আবেগ আপ্লুত। 


৮২ ব্যাচের জোছনা রানী কর্মকার বর্তমানে প্রধান শিক্ষক সাঁথিয়ার রুপসী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কর্মরত। তিনি বলেন, আমাদের ব্যাচে ৪০ জন ছাত্রী ছিলাম। এতদিন পর প্রিয় স্কুলে আসতে পেরে আমরা খুব খুশি। স্যারেরা আমাদের যে পরিমাণ আদর ভালবাসা দিয়েছেন তা কোনদিন ভুলবার নয়। 


৮৬ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী ও চাটমোহর মহিলা ডিগ্রী কলেজের সহকারী অধ্যাপক ফাহিমা খন্দকার পান্না বলেন, ওই সময়ের আমাদের ব্যাচের ১২ জন বান্ধবীর সাথে দেখা হলো। ৩৫ বছর পরে সবার সাথে দেখা হলো। অনেক গল্প স্মৃতি শেয়ার করলাম। সবার খোঁজ খবর জানলাম। অনেক ভাল লাগলো। সেই ফেলে আসা দিনগুলোতে ফিরে গিয়েছিলাম। পুরোনো চারজন স্যার ম্যাডামের সাথে দেখা হলো। 


৯৭ ব্যাচের সাবেক ছাত্রী গুলশান আরা ইসলাম বলেন, অলোক স্যারের সাথে দেখা ২০ বছর পরে।


স্যার দোয়া করলেন, অনেক কথা হলো। আমি অলোক স্যারের ছাত্রী। আমার ছেলেকেও স্যারের কাছে প্রাইভেট পড়িয়েছি। আমার ছেলে এখন অস্ট্রেলিয়া থাকে।


স্কুলটি সাবেক শিক্ষক অলোক কুমার কুন্ডু বলেন, অনেক বছর পর আমার প্রিয় ছাত্রীদের সাথে দেখা হল। যারা আজকে সবাই অনেক বড় বড় জায়গায় আছে। তাদের ভালোবাসায় আজকে আমার চোখে পানি এসে গেছে। আজকে মনে হল আমি একজন সফল শিক্ষক। আশীর্বাদ করি তারা সবাই যে যেখানে আছে ভালো থাকুক। 


বিদ্যালয়টির সাবেক ছাত্রী সংরক্ষিত মহিলা আসনের এমপি আরিফা সুলতানা রুমা বলেন, আমরা যে যেখানেই থাকি না কেন এই স্কুলটিতেই আমাদের শেকড় পোঁতা। ২০ থেকে ৩০ বছর পর বান্ধবীদের সাথে সহপাঠীদের সাথে দেখা হল। সবাই মিলে খুব আনন্দ হইহুল্লোড় করলাম। আশা করি এমন পুনর্মিলনের ধারা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে। 


পুনর্মিলনী অনুষ্ঠানের আহবায়ক সাবেক প্রধান শিক্ষক আনোয়ারা বেগম বলেন, আমরা চেয়েছি অনেকদিন কারো সাথে কারো দেখা নেই। সবাই একসঙ্গে হয়ে আড্ডা দিবো। আত্মীক সম্পর্কটা যাতে অটুট থাকে সেই লক্ষ্যে এই আয়োজন। আমি এই স্কুলের ছাত্রী ছিলাম, তারপর সরকারি শিক্ষক হিসেবে যোগদান করি, পরবর্তীতে প্রধান শিক্ষক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করি। তাই আজকে এমন একটি আয়োজন করতে পেরে সবার প্রতি কৃতজ্ঞতা এবং আমিও খুব খুশি।