শনিবার, অক্টোবর ২৪, ২০২৬

বাজারে শীতের সবজিতে বৈচিত্র্য, দাম চড়া

নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নিজস্ব প্রতিবেদক ২৪ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৪ অপরাহ্ন
বাজারে শীতের সবজিতে বৈচিত্র্য, দাম চড়া

শীতের সবজি বাজারে উঠতে শুরু করেছে, কিন্তু দাম এখনো ক্রেতাদের নাগালের বাইরে। রাজশাহীর বাজারে কেজিপ্রতি ফুলকপি ৮০ থেকে ৯০ টাকা, টমেটো ১৬০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা ও গাজর ১২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে আগাম সবজি চাষ করে ভালো লাভের আশা করছেন কৃষকেরা। ফলে একদিকে চড়া দামে সবজি কিনতে হিমশিম খাচ্ছেন ক্রেতারা, অন্যদিকে বাড়তি দামের সুবিধা কাজে লাগিয়ে লাভের আশায় আবাদ বাড়াচ্ছেন কৃষকেরা।


শনিবার (২৪ অক্টোবর) নগরীর সাহেববাজার মাস্টারপাড়া কাঁচাবাজারে প্রতি কেজি পুঁইশাক ১০ টাকা, লালশাক ২০ টাকা, আলু ২০ টাকা, পেঁপে ২৫ টাকা, পটল ৪০ টাকা, কচু ৪০ টাকা, ওল ৪০ টাকা, পেঁয়াজ ৪৫ টাকা, মুলা ৫০ টাকা, কাঁকরোল ৫০ টাকা, ঢেঁড়স ৬০ টাকা, কচুর লতি ৬০ টাকা, বরবটি ৭০ টাকা, করলা ৭০ টাকা, শসা ৭০ টাকা, সাদা বেগুন ৮০ টাকা এবং ফুলকপি ৮০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। এ ছাড়া কাঁচা কলা প্রতি হালি ৩০ টাকা ও লাউ প্রতিটি ৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে প্রতি কেজি লাল বেগুন ১০০ টাকা, রসুন ১০০ টাকা, কাঁচা মরিচ ১২০ টাকা, গাজর ১২০ টাকা, শিম ১৪০ টাকা, আদা ১৬০ টাকা ও টমেটো ১৬০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।


বাজার করতে আসা ক্রেতারা বলছেন, শীতকালীন সবজি উঠতে শুরু করায় বাজারে পছন্দের সবজির সংখ্যা বাড়ছে। কিন্তু দাম সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। কয়েকটি সবজি কম দামে পাওয়া গেলেও পরিবারের চাহিদা অনুযায়ী সব ধরনের সবজি কিনতে বাড়তি টাকা খরচ করতে হচ্ছে।


সবজি ক্রেতা আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘বাজারে শীতের সবজি উঠতে শুরু করেছে। তবে দাম এখনো কমেনি। কিছু সবজি কম দামে পাওয়া গেলেও কয়েকটির দাম বেশ চড়া। ফলে সব ধরনের সবজি একসঙ্গে কেনা কঠিন হয়ে পড়েছে।’


সবজি বিক্রেতা আলাউদ্দিন বলেন, ‘শীতের সবজি বাজারে আসতে শুরু করেছে। তবে এখনো সরবরাহ পুরোপুরি বাড়েনি। তাই কিছু সবজির দাম বেশি। সামনে সরবরাহ বাড়লে দামও কিছুটা কমতে পারে।’


ব্যবসায়ীদের ভাষ্য, শীতকালীন সবজির সরবরাহ ধীরে ধীরে বাড়ছে। তবে মৌসুমের শুরুতে উৎপাদন ও সরবরাহ পুরোপুরি স্বাভাবিক না হওয়ায় কিছু সবজির দাম বেশি রয়েছে। সরবরাহ বাড়লে এসব সবজির দাম কমতে পারে বলে আশা করছেন তারা। ক্রেতাদের প্রত্যাশা, শীতের সবজির সরবরাহ বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে দাম কমবে এবং বাজারে স্বস্তি ফিরবে।


অন্যদিকে আগাম সবজি চাষের ঝুঁকি থাকলেও লাভের আশায় এবার আবাদ বাড়িয়েছেন রাজশাহীর পবার কৃষক মোশাররফ হোসেন। তিনি বলেন, ‘আগাম সবজি চাষে বিঘাপ্রতি প্রায় ২ হাজার কপি নষ্ট হয়। তবে সময়মতো বাজারে তুলতে পারলে ভালো দাম পাওয়া যায়। গতবার লাভ হওয়ায় এবার বড় পরিসরে চাষ করেছি।’ চলতি মৌসুমে তিন বিঘা জমির ফুলকপি ও সাড়ে চার বিঘা জমির বাঁধাকপি বিক্রি করেছেন তিনি। প্রতি পিস ফুল কপি ৬০ থেকে ৭০ টাকা, কখনো ৯০ টাকা পর্যন্ত বিক্রি করেছেন। সব খরচ বাদ দিয়ে বিঘাপ্রতি প্রায় দেড় লাখ টাকা লাভ হয়েছে বলে জানান তিনি। আরও ২৫ বিঘা জমিতে কপি চাষ করেছেন মোশাররফ।


আগাম সবজি চাষে লাভের আশায় রয়েছেন আলিমগঞ্জের কৃষক নজরুল ইসলামও। এবার ১২ কাঠা জমিতে ৪ হাজার পিস আগাম বাঁধাকপি চাষে তার খরচ হয়েছে ১৮ থেকে ২০ হাজার টাকা। ইতোমধ্যে ২০০ পিস ৩০ টাকা দরে বিক্রি করেছেন। বাকি কপি বিক্রি করে প্রায় এক লাখ টাকা আয় এবং খরচ বাদে ৮০ হাজার টাকা লাভের আশা করছেন তিনি। গত বছর পাঁচ বিঘা জমিতে টমেটো চাষ করে প্রায় পাঁচ লাখ টাকা লাভ করেছিলেন নজরুল। এবার কৃষি বিভাগের পরামর্শে ১০ কাঠা জমিতে আগাম টমেটো চাষ করেছেন।


রাজশাহীর পবা উপজেলার হরিপুর, হরিয়ান, দামকুড়া, পারিলা, বড়গাছী, নওহাটা ও পাইকপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় আগাম ফুলকপি, বাঁধাকপি, শিম, মুলা, গাজর, বেগুন, লাউ ও শাকসবজির আবাদ হচ্ছে। পাইকপাড়ার কৃষক মিজানুর রহমান দেড় বিঘা জমিতে আগাম ফুলকপি ও বাঁধাকপি চাষ করেছেন।


পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ এমএ মান্নান বলেন, চলতি মৌসুমে উপজেলায় ১ হাজার ৮৯৫ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হলেও তা ইতোমধ্যে অর্জিত হয়েছে। এর উল্লেখযোগ্য অংশ আগাম সবজি। কৃষকদের আগাম সবজি চাষে উৎসাহ দেওয়ার পাশাপাশি জৈব বালাইনাশক ব্যবহার ও অনুমোদিত মাত্রায় রাসায়নিক বালাইনাশক প্রয়োগের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


কৃষি সম্প্রসারণ অধিদফতর রাজশাহীর উপপরিচালক মোস্তফা কামাল হোসেন জানান, চলতি মৌসুমে জেলায় ৬ হাজার ৪৩০ হেক্টর জমিতে সবজি চাষের লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত কয়েক বছরের তুলনায় এবার আগাম সবজির আবাদ ২০০ হেক্টর বেড়েছে। শীতকালীন সবজির স্বাভাবিক সরবরাহ শুরু হওয়ার আগেই বাজারে ফসল তুলে বাড়তি দাম পাওয়ার আশায় আগাম চাষে ঝুঁকছেন কৃষকেরা।