সোমবার, অক্টোবর ২৬, ২০২৬

নাটোর সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের

নাটোর প্রতিনিধি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
নাটোর প্রতিনিধি ২৬ অক্টোবর ২০২৬ ১০:৩৯ অপরাহ্ন
নাটোর সদর হাসপাতালে রোগীর মৃত্যু, চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ স্বজনদের

নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আমির হামজা (৩২) নামে এক রোগীর মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (২৬ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে তাঁর মৃত্যু হয়। এ ঘটনায় চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ তুলেছেন স্বজনেরা। তবে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক অভিযোগ অস্বীকার করে বলেছেন, রোগীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে।


মৃত আমির হামজা নাটোর শহরের কান্দিভিটা এলাকার লিয়াকত আলীর ছেলে। তাঁর মৃত্যুর পর স্বজনেরা ক্ষোভ প্রকাশ করলে হাসপাতাল এলাকায় উত্তেজনা দেখা দেয়। পরে পুলিশ গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।


স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, গত ১৭ অক্টোবর থেকে জ্বরে আক্রান্ত ছিলেন আমির হামজা। বাড়িতে থেকে তিনি নাটোর সদর হাসপাতালের সাবেক মেডিক্যাল অফিসার আবুল কালাম আজাদের চিকিৎসা নিচ্ছিলেন। কখনো সুস্থ, আবার কখনো অসুস্থ হয়ে পড়ছিলেন তিনি। সোমবার রাত ১১টার দিকে কয়েকবার বমি করার পর অচেতন হয়ে পড়লে রাত দেড়টার দিকে তাঁকে নাটোর ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।


কর্তব্যরত চিকিৎসক ডা. উজ্জ্বল কুমার ঘোষ প্রাথমিক চিকিৎসা দেওয়ার পর উন্নত চিকিৎসার জন্য তাঁকে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ (রামেক) হাসপাতালে নেওয়ার পরামর্শ দেন বলে জানা গেছে। তবে স্বজনেরা তাঁকে নাটোর সদর হাসপাতালেই চিকিৎসা দেওয়ার কথা বলেন।


রোগীর স্বজনেরা অভিযোগ করেন, নাটোর হাসপাতালে রোগী নিয়ে গেলেই উন্নত চিকিৎসার জন্য রাজশাহীতে পাঠানোর পরামর্শ দেওয়া হয়। তাঁদের প্রশ্ন, রাজশাহীতে চিকিৎসক থাকলে নাটোরের চিকিৎসকেরা কী করবেন? এ ছাড়া ওই রাতে শহরে ওষুধের দোকান খোলা না পাওয়ার কথাও জানান তাঁরা। তাঁদের অভিযোগ, দুই সন্তান রেখে আমির হামজার এভাবে চলে যাওয়া মেনে নেওয়া কঠিন।


চিকিৎসায় অবহেলার অভিযোগ অস্বীকার করে ডা. উজ্জ্বল কুমার ঘোষ বলেন, রোগীকে হাসপাতালে আনার পর তাঁর কয়েক দিন ধরে জ্বর ও মাথাব্যথা থাকার কথা জানা যায়। মুখের ক্ষত ও চোখের অবস্থা দেখে তাঁর মস্তিষ্কে সংক্রমণের সন্দেহ হয়। সে অনুযায়ী তাঁকে প্রয়োজনীয় ওষুধ দেওয়া হয়েছিল। এ ছাড়া রাতে নাটোরে প্রয়োজনীয় ওষুধ পাওয়া নাও যেতে পারে—এ বিষয়েও স্বজনদের জানানো হয়েছিল। তাঁর দাবি, রোগীকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে এবং এ ক্ষেত্রে চিকিৎসকের কোনো অবহেলা ছিল না।


আমির হামজার মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এবং চিকিৎসায় কোনো অবহেলা ছিল কি না, তা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের বক্তব্য বা তদন্তের তথ্য পাওয়া যায়নি।