ফলোঅনে পড়ে ঘুরে দাঁড়ানোর লড়াইয়ে রাজশাহী, প্রথম জয়ের স্বপ্ন ঢাকার
ফলোঅনে পড়ে ম্যাচ বাঁচানোর লড়াইয়ে নেমেছে রাজশাহী বিভাগ। অন্যদিকে, চলতি জাতীয় ক্রিকেট লিগে (এনসিএল) প্রথম জয়ের স্বপ্ন দেখছে ঢাকা বিভাগ। রাজশাহী বিভাগীয় স্টেডিয়ামে দুই দলের চার দিনের ম্যাচের তৃতীয় দিন শেষে দ্বিতীয় ইনিংসে ৫ উইকেটে ২১৫ রান করেছে রাজশাহী। এখনও তারা ঢাকার প্রথম ইনিংসের চেয়ে ১৪৪ রানে পিছিয়ে। শেষ দিনে রাজশাহীর বাকি পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে জয়ের আশা করছে ঢাকা।
সোমবার (২৬ অক্টোবর) ২৮তম জাতীয় ক্রিকেট লিগের চতুর্থ পর্বের ম্যাচে প্রথম ইনিংসে রাজশাহী বিভাগ ৪২.৩ ওভারে সব উইকেট হারিয়ে মাত্র ১৬২ রান সংগ্রহ করে। আগের দিনের ৬ উইকেটে ১০৩ রানের সঙ্গে সোমবার যোগ হয় আরও ৫৯ রান। দলের পক্ষে মেহরাব হোসেন অহিন ৩৩ ও সানজামুল নয়ন ১২ রান করেন। ঢাকার বোলারদের মধ্যে সুমন খান ৪৬ রানে ৪টি, আমিনুল ১২ রানে ৩টি এবং তাইবুর ৫ রানে ২টি উইকেট নেন।
ঢাকার প্রথম ইনিংসের সংগ্রহের চেয়ে ৩৫৯ রানে পিছিয়ে থেকে ফলোঅনে পড়ে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাট করতে নামে রাজশাহী। দুই ওপেনার হাবিবুর রহমান সোহান ও সাব্বির হোসেন শুরুতে প্রতিরোধ গড়েন। প্রথম ইনিংসে মাত্র ২ রানে আউট হওয়া এই দুই ব্যাটার দ্বিতীয় ইনিংসে ৬৮ রানের জুটি গড়েন। ব্যক্তিগত ২৪ রানে সোহান আউট হলে ভাঙে এ জুটি।
এরপর দলীয় ৮০ রানে ৫২ রান করা সাব্বিরের সঙ্গী অধিনায়ক প্রীতম কুমারও বেশিক্ষণ টিকতে পারেননি। আমিনুলের বলে রাব্বির হাতে ক্যাচ দিয়ে রানের খাতা খোলার আগেই ফেরেন তিনি। দলীয় ৯১ রানে তৃতীয় উইকেট হারিয়ে চাপে পড়ে রাজশাহী। চা বিরতির সময় সাব্বির ৫ ও নাঈম আহমেদ ৮ রানে অপরাজিত ছিলেন।
বিরতির পর সাব্বির ও নাঈম দলের হাল ধরেন। তাঁদের ৮৮ রানের জুটিতে ঘুরে দাঁড়ানোর আশা জাগে রাজশিবাহীর। ব্যক্তিগত ৪৪ রানে নাঈম আউট হলে দলীয় সংগ্রহ দাঁড়ায় ১৭৯ রান। এরপর রাহিম মাত্র ১ রান করে ফিরে যান। তবে সাব্বির ও মেহরাব হোসেন অহিন দিনের বাকি সময় উইকেটে থেকে দলকে আর কোনো বিপদে পড়তে দেননি।
তৃতীয় দিনের খেলা শেষ হওয়ার সময় রাজশাহীর সংগ্রহ ৫৯.১ ওভারে ৫ উইকেটে ২১৫ রান। সাব্বির রহমান ৬৪ এবং মেহরাব হোসেন অহিন ২২ রানে অপরাজিত রয়েছেন। আলোর স্বল্পতার কারণে নির্ধারিত সময়ের আগেই দিনের খেলা শেষ করেন আম্পায়াররা।
শেষ দিনে রাজশাহীর সামনে বড় চ্যালেঞ্জ পুরো সময় ব্যাট করে ম্যাচ বাঁচানো। অন্যদিকে, বাকি পাঁচ উইকেট তুলে নিয়ে রাজশাহীকে অলআউট করতে পারলে জয়ের সুযোগ তৈরি হবে ঢাকার সামনে। ফলে ম্যাচের ভাগ্য নির্ধারণে চতুর্থ দিনের খেলা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে।