সাগর-রুনি হত্যা: জিয়াউল আহসান ও রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্তে সাবেক সেনা কর্মকর্তা জিয়াউল আহসান ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব রোকেয়া প্রাচীর সংশ্লিষ্টতার তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রপক্ষ।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউশনের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে তৈরি টাস্কফোর্সের তদন্তসংক্রান্ত প্রতিবেদন হাইকোর্টে দাখিল করা হয়েছে।
প্রতিবেদন পর্যালোচনা ও তথ্য যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মামলার তদন্তে আরও সময় দিয়েছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি শিকদার মাহমুদুর রাজী ও বিচারপতি ফাতেমা আনোয়ারের বেঞ্চ ২০২৭ সালের ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত সময় মঞ্জুর করেন। একই সঙ্গে তদন্তে পাওয়া তথ্য সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ তানভীর হাসান জোহাকে ওই দিন আদালতে হাজির থাকতে বলা হয়েছে।
আদালতে রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন অ্যাটর্নি জেনারেল ব্যারিস্টার মো. রুহুল কুদ্দুস কাজল, অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল আরশাদুর রউফ এবং ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল নূর মোহাম্মদ আজমী। সাগর-রুনির পরিবারের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী শিশির মনির। রিট আবেদনকারীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মনজিল মোরসেদ।
আদালতে প্রতিবেদন দাখিলের পর অ্যাটর্নি জেনারেল রুহুল কুদ্দুস কাজল সাংবাদিকদের বলেন, জিয়াউল আহসানের বরিশালের বাড়িতে নথিপত্র জব্দের সময় প্রায় ৩০০টি সিডি উদ্ধার করা হয়েছিল। সেগুলোর তথ্য যাচাই-বাছাই করে তদন্ত প্রতিবেদন তৈরি করতে টাস্কফোর্সের আরো সময় প্রয়োজন।
অ্যাটর্নি জেনারেল বলেন, জিয়াউল আহসানের বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে কী ধরনের তথ্য পাওয়া গিয়েছিল, তা তানভীর হাসান জোহার কাছ থেকে জানতে চেয়েছেন হাইকোর্ট। এ কারণে তাকে আগামী ২৯ এপ্রিল আদালতে উপস্থিত থাকতে বলা হয়েছে। বিষয়টি সংবেদনশীল হওয়ায় আদালত রুদ্ধদ্বার শুনানিতে তার বক্তব্য শুনবেন।
তদন্তে কারো নাম বা সংশ্লিষ্টতার তথ্য উঠে আসা অপরাধে জড়িত থাকার চূড়ান্ত প্রমাণ নয় বলে উল্লেখ করেন অ্যাটর্নি জেনারেল। এ বিষয়ে তদন্তের ফলাফল ও আদালতের পরবর্তী কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
এর আগে ২৬ এপ্রিল মামলার তদন্তের জন্য ছয় মাস সময় দেওয়া হয়েছিল। পরে গত বছরের ২৩ অক্টোবর রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে টাস্কফোর্সকে আরো ছয় মাস সময় দেন হাইকোর্ট।
উল্লেখ্য, ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর সাগর-রুনি হত্যা মামলার তদন্ত থেকে র্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নকে (র্যাব) সরিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অধীনে উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স গঠনের নির্দেশ দেন হাইকোর্ট। পরে মন্ত্রণালয় চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে। এতে পুলিশের অতিরিক্ত মহাপরিদর্শক ও পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) প্রধানকে আহ্বায়ক করা হয়। অন্য সদস্যদের মধ্যে রয়েছেন পুলিশ সদর দপ্তর ও পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) থেকে অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক পদমর্যাদার দুজন কর্মকর্তা এবং র্যাবের পরিচালক পদমর্যাদার একজন কর্মকর্তা।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে ঢাকার পশ্চিম রাজাবাজারে নিজেদের বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি সাগর সারওয়ার ও মেহেরুন রুনি। পরদিন সকালে তাঁদের ক্ষতবিক্ষত মরদেহ উদ্ধার করা হয়। ১২ ফেব্রুয়ারি রুনির ভাই নওশের আলী রোমান শেরেবাংলা নগর থানায় হত্যা মামলা করেন।
প্রথমে শেরেবাংলা নগর থানার এক কর্মকর্তা মামলাটি তদন্ত করেন। একই বছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি তদন্তের দায়িত্ব পান গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) উত্তর বিভাগের পরিদর্শক মো. রবিউল আলম। দুই মাস পর হাইকোর্টের নির্দেশে মামলার তদন্তভার র্যাবের কাছে হস্তান্তর করা হয়।
মামলার বাদীপক্ষের আইনি লড়াই পরিচালনার জন্য ২০২৪ সালের ২৯ সেপ্টেম্বর আইনজীবী শিশির মনিরকে নিয়োগ দেওয়া হয়। এদিকে, হত্যাকাণ্ডের তদন্তের অগ্রগতি ও আসামিদের গ্রেপ্তারের দাবিতে জনস্বার্থে রিট করে হিউম্যান রাইটস অ্যান্ড পিস ফর বাংলাদেশ। ওই রিটের শুনানি শেষে হাইকোর্ট রুল জারি করেন। ২০১২ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি জারি করা রুলে হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের শনাক্ত করে আইনের আওতায় আনার নির্দেশ কেন দেওয়া হবে না, তা জানতে চাওয়া হয়।
তথ্যসূত্র: রাইজিংবিডি