শনিবার, অক্টোবর ৩১, ২০২৬

অন্তত ৩ দিনের খাবার-জল মজুত রাখুন, নাগরিকদের জরুরি বার্তা ব্রিটেন-জাপানের!

সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন আন্তর্জাতিক
সোনার দেশ ডেস্ক ৩০ অক্টোবর ২০২৬ ১০:১৫ অপরাহ্ন
অন্তত ৩ দিনের খাবার-জল মজুত রাখুন, নাগরিকদের জরুরি বার্তা ব্রিটেন-জাপানের!

২০৩০ সালের মধ্যে জরুরি পরিস্থিতির মোকাবিলা করতে হতে পারে। এই মর্মে দেশবাসীকে আগাম সতর্কতা মূলক ব্যবস্থা নেওয়ার আর্জি জানিয়েছিল ব্রিটিশ সরকার।


তার কিছুদিনের মধ্যেই দেশবাসীকে সতর্ক করল জাপানও। প্রাকৃতিক বিপর্যয়ের মোকাবিলায় বাড়িতে নিত্যপ্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ দিয়েছে টোকিও। দুই দেশের সতর্কবার্তার মধ্যে মিল থাকলেও উদ্বেগের কারণ আলাদা।


জাপানের বিপর্যয় মোকাবিলা দপ্তরের মন্ত্রী গোষি হোসোনো জানিয়েছেন, আগামী ২ নভেম্বর নাগরিকদের উদ্দেশে একটি ‘জরুরি আবেদন’ জানানো হবে। জাপানের সংবাদমাধ্যম এফএনএন-এর ২৭ অক্টোবরের প্রতিবেদন অনুযায়ী, সরকারি সাহায্য ছাড়াই অন্তত তিন দিন যাতে প্রতিটি পরিবার নিজেদের প্রয়োজন মেটাতে পারে, সেই প্রস্তুতি রাখার পরামর্শ দেওয়া হবে।


সম্ভব হলে এক সপ্তাহের প্রয়োজনীয় সামগ্রী মজুত রাখারও সুপারিশ করা হয়েছে। জাপান সরকারের দুর্যোগ মোকাবিলা সংক্রান্ত নির্দেশিকায় পানীয় জল, সংরক্ষণযোগ্য খাবার এবং শৌচাগারের প্রয়োজনীয় সামগ্রীকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।


বড় ধরনের ভূমিকম্প বা অন্যান্য প্রাকৃতিক বিপর্যয়ে বিদ্যুৎ, পানীয় জল, পরিবহণ এবং দোকানপাটের পরিষেবা ব্যাহত হতে পারে। সেই পরিস্থিতিতে যাতে সাধারণ মানুষ কয়েক দিন স্বনির্ভর থাকতে পারেন, সে কারণেই এই উদ্যোগ।


সরকারি পরামর্শ অনুযায়ী, প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় তিন লিটার পানীয় জল মজুত রাখা উচিত। পাশাপাশি অন্তত তিন দিনের খাবার প্রস্তুত রাখতে হবে। সুযোগ থাকলে সাত দিনের খাবার ও জলের ব্যবস্থা রাখার পরামর্শও দেওয়া হয়েছে।


খাবারের তালিকায় থাকতে পারে চাল, ক্যানজাতীয় খাবার, শুকনো খাবার। শৌচাগারের বিকল্প ব্যবস্থাও জরুরি। সে কারণে প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য প্রতিদিন প্রায় পাঁচবার ব্যবহারের উপযোগী পোর্টেবল টয়লেট বা বিশেষ টয়লেট ব্যাগ মজুত রাখার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


শুধু খাবার ও পানীয় জল নয়, জরুরি পরিস্থিতিতে দ্রুত ব্যবহার করা যায় এমন একটি ব্যাগও প্রস্তুত রাখতে বলা হয়েছে। ব্যাগের মধ্যে রাখতে হবে টর্চ ও অতিরিক্ত ব্যাটারি, মোবাইল চার্জ দেওয়ার জন্য পাওয়ার ব্যাঙ্ক, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, নিয়মিত ব্যবহারের ওষুধ এবং জরুরি পরিস্থিতিতে ব্যবহারের জন্য নগদ টাকা।


জাপানে ভূমিকম্পের ঝুঁকি দীর্ঘদিনের। কম্পনের জেরে বিদ্যুৎ ও জল সরবরাহ বন্ধ হয়ে যেতে পারে। ব্যাহত হতে পারে পরিবহণ ব্যবস্থা এবং বন্ধ হয়ে যেতে পারে দোকানপাট।


ফলে, বাড়িতে জরুরি সামগ্রী মজুত রাখার পরামর্শ নতুন নয়। জাপানের সতর্কবার্তার সঙ্গে ব্রিটেনের বার্তার মিল থাকলেও, লন্ডনের উদ্বেগের কেন্দ্রে রয়েছে সামরিক নিরাপত্তা, শত্রু রাষ্ট্রের কার্যকলাপ এবং গুরুত্বপূর্ণ পরিকাঠামোর সুরক্ষা।


ব্রিটেনের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং জানিয়েছেন, ২০৩০ সালের মধ্যে শত্রু দেশগুলির সামরিক সক্ষমতা এবং যুদ্ধকালীন অর্থনীতি এমন পর্যায়ে পৌঁছতে পারে, যা ব্রিটেনের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর হুমকি তৈরি করবে।


এতে সাইবার হামলা, অন্তর্ঘাত, ড্রোন হামলা এবং ব্যাঙ্কিং, পরিবহণ ও হাসপাতালের মতো গুরুত্বপূর্ণ পরিষেবা ব্যাহত হওয়ার সম্ভাবনা। ব্রিটিশ সরকারের ‘বি রেডি’ কর্মসূচির আওতায় সাধারণ মানুষকে অন্তত ৭২ ঘণ্টা বা দিন কাটানোর মতো জরুরি সামগ্রী বাড়িতে রাখার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে।


এই তালিকায় রয়েছে পানীয় জল, দীর্ঘদিন সংরক্ষণযোগ্য খাবার, টর্চ, অতিরিক্ত ব্যাটারি, প্রাথমিক চিকিৎসার সরঞ্জাম, ব্যাটারিচালিত রেডিও এবং জরুরি প্রয়োজনে ব্যবহারের জন্য নগদ টাকা।


বিদ্যুৎ বা যোগাযোগ ব্যবস্থা ব্যাহত হলে কিংবা দৈনন্দিন পরিষেবা বন্ধ হয়ে গেলে যাতে পরিবারগুলি দ্রুত সমস্যায় না পড়ে, সেই লক্ষ্যেই এই প্রস্তুতির উপর জোর দেওয়া হয়েছে।


তথ্যসূত্র: আজকাল অনলাইন