দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া পানি ঝুঁকিতে! বাংলাদেশের সতর্ক-সময় এখনই
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, সামনের দিনগুলোতে বিশ্বের প্রায় ৪০০ কোটি মানুষ পানি সংকটে পড়বে, যার অর্ধেকই দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার। এভাবে সুপেয় পানি যদি অচিরেই মানুষের নাগালের বাইরে চলে যায়, তবে কোথায় গিয়ে ঠেকতে পারে এই সংকটের ভয়াবহতা? সামনের দিনগুলোতে কি পানি নিয়েই যুদ্ধে লিপ্ত হবে বিশ্ব? এমন প্রশ্ন ওঠা অস্বাভাবিক কিছু নয়। পানির সঙ্কট যেভাবে দেশে দেশে ভয়াবহ বিপদের ইঙ্গিত দিচ্ছে তাতে মিঠা পানির উৎস-দখল নিয়ে যুদ্ধের অনিবার্যতা অস্বীকার করা যায় না।
ভূ-পৃষ্ঠে ৭১ ভাগ পানি থাকার পরেও কেন এই সহজলভ্য পানি ভবিষ্যত নিয়ে এমন উদ্বেগ-উৎকণ্ঠা? ক্রমশ কেন বিশ্বে পানি সঙ্কট এতো বড় ইস্যু হয়ে দাড়িঁয়েছে? এর কারণ হলো, এই পৃথিবী নামক গ্রহে মাত্র ৩ ভাগ মিঠা পানি। বাকি সবই লোনা পানি। অর্থাৎ এই মিঠা পানি নিয়েই বিশ্বে সবচেয়ে বড় সঙ্কটের শুরু হয়েছে। সেখানে পানি নিয়ে যুদ্ধে জড়িয়ে পড়া অস্বাভাবিক কিছু হবে না।
বর্তমানে বিশে^র প্রায় ১৫০ কোটিরও বেশি মানুষের জন্য নেই নিরাপদ পানির ব্যবস্থা। প্রতি বছর শুধু পানিবাহিত রোগে মারা যাচ্ছে কোটি কোটি মানুষ। এ অবস্থায় পানি যুদ্ধ ঠেকাতে মিঠা পানির ক্রমবর্ধমান ঘাটতি পূরণ করতে হবে। এজন্য অনেক দেশই মডার্ন টেকনোলজির দিকে ঝুঁকছে। তেমনই একটি উপায় হলো সমুদ্রের নোনা জলকে লবণমুক্ত করার প্রক্রিয়া। এর মাধ্যমে বিশাল নোনা জলকে সুপেয় পানিতে পরিণত করা যায়। আশার কথা হলো, বিগত এক দশকে ডিস্যালাইনেশন প্রসেসের ব্যবহার দ্বিগুন হারে বেড়েছে।
মঙ্গলবার (৪ নভেম্বর) মধ্য আফ্রিকার দেশ চাদের একটি গ্রামে পানি নিয়ে দু’পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে অন্তত ৩৩ জন নিহত হয়েছে।
চাদের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যম ওনামা জানিয়েছে, সাহেল কাউন্টির পশ্চিমে প্রতিবেশী বাহর-আল-গাজেল এবং হাদজের-লামিস প্রদেশের দুই সম্প্রদায়ের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে।
ইরানের রাজধানী তেহরানের বাসিন্দাদের জন্য প্রধান পানীয় জলের উৎস আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে শেষ হয়ে যেতে পারে। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এ তথ্য জানিয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি জানিয়েছে, দেশটিতে দীর্ঘদিন ধরে চলা ঐতিহাসিক খরার কারণে এই পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
তেহরানকে পানীয় জল সরবরাহকারী পাঁচটি ড্যামের মধ্যে একটিতে বর্তমানে মাত্র ১ কোটি ৪০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে, যা এর মোট ধারণক্ষমতার মাত্র ৮ শতাংশ বলে জানিয়েছেন রাজধানীর পানি সরবরাহ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক বেহজাদ পারসা।
পারসা জানিয়েছেন, এই মাত্রায় ড্যামটি সর্বোচ্চ দুই সপ্তাহ তেহরানকে পানি সরবরাহ করতে পারবে।
দেশটি কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ খরার মধ্যে রয়েছে।
অন্যদিকে, ২০৩০ সালের মধ্যে কাবুলের সব পানির উৎস শুকিয়ে যেতে পারে । জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের তথ্য অনুযায়ী, কাবুলের প্রায় অর্ধেক গভীর নলকূপ এরইমধ্যে শুকিয়ে গেছে। আর পয়ঃনিষ্কাশনের বর্জ্য, আর্সেনিক ও অতিরিক্ত লবণাক্ততার কারণে শহরের ৮০ শতাংশ ভূগর্ভস্থের পানিই দূষিত। বিশ্বের প্রথম পানিশূন্য আধুনিক শহর হতে চলেছে আফগানিস্তানের রাজধানী কাবুল। আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে শহরের সব পানির উৎস শুকিয়ে যাবে বলে সতর্ক করেছে দাতব্য সংস্থা মার্সি কর্পস।
বাংলাদেশও পানি সমস্যার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। রাজশাহীর ৪৭ ইউনিয়নকে সংকটাপন্ন এলাকা ঘোষণা, ভূগর্ভস্থ পানি তোলায় নিষেধাজ্ঞা দেয়া হয়েছে। উত্তর-পশ্চিমাঞ্চল ও চট্টগ্রামের কয়েকটি এলাকা পানি সংকটাপন্ন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করেছে সরকার। পানি ব্যবস্থাপনা ও ভূগর্ভস্থ জলাধার রক্ষায় অনুসন্ধান ও জরিপের ভিত্তিতে গত ২৮ অক্টোবর এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
আন্তর্জাতিক এবং অভ্যন্তরীণ পানি সঙ্কটের তথ্য বিবেচনায় বাংলাদেশে উচ্চমাত্রার সতর্কতার সময় হয়েছে। পানি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত বিষয়টি হালনাগাদ করা এবং একটি আধুনিক ও প্রযুক্তি নির্ভও সময়োপযোগী ব্যবস্থাপনার দিকে যাওয়ার এখনই সময়।