রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

ভেজাল বা মানহীন পণ্যে বাজার সয়লাব, বাধ্যতামূলক মান সনদেও আওতা বাড়াতে হবে

WP Import ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১৮ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

বাংলােেদশে এ গল্প বেশ জনপ্রিয় যে, ভেজাল বা মানহীন পণ্যে বাজার সয়লাব। মানহীন পণ্যের সাথে জনস্বাস্থ্যের বিষয়টি অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। স্বাস্থ্যহানির জন্য অধিক ক্ষেত্রেই ভেজাল পণ্যকেই দায়ি করা হয়। কিন্তু বাজারে ভেজাল বা মানহীন পণ্য বাজারজাতের বিরুদ্ধে উল্লেখযোগ্য পদক্ষেপ নেয়া সম্ভব হয় না। সুস্থ ও সবল জাতিগঠনে মানসম্মত পণ্যেও গুরুত্ব অপরিসীম।
পণ্যের মানের আওতা না বাড়ানো গেলে এই পরিস্থিতির উন্নতি হবে না বলেই দাবি করা হচ্ছে। এই পদক্ষেপের দুর্বলতা বাজারে নকল ও নি¤œমানের পণ্যের ছড়াছড়ি হবে। নির্দিষ্ট কিছু পণ্যের জন্য বাধ্যতামূলক মানসনদের অভাব এবং পর্যাপ্ত তদারকির অভাব মূলত এর অন্যতম কারণ। এছাড়া, বাণিজ্যিক স্বার্থ, দুর্নীতি ও কালো টাকার প্রভাবও এর জন্য দায়ী।
পণ্যের মান প্রণয়নে বাংলাদেশ স্ট্যান্ডার্ডস অ্যান্ড টেস্টিং ইনস্টিটিউশন (বিএসটিআই) দায়িত্ব পালন করে থাকে। কিন্তু সরকারি এই প্রতিষ্ঠানটির দুর্বলতা কাটছেই না। যদিও নানা সীমাবদ্ধতার মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠানটি পরিচালিত হয়।
সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়- দেশে বৈচিত্র্যপূর্ণ পণ্যের সম্ভার যেভাবে বাড়ছে, তাতে পণ্যের সংখ্যা কয়েক হাজার হবে। শুধু খাদ্যপণ্যের সংখ্যায়ই হাজার ছাড়াবে। সব মিলিয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যের প্রকৃত সংখ্যা অনেক। সেগুলো বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতায় না থাকায় অথবা কোনো মান না থাকায় উৎপাদনের সময় যচ্ছেতাই উপাদান ব্যবহার হয়, যা ভোক্তার জন্য ক্ষতিকর। যেখানে দেশে হাজার হাজার পণ্য সেখানে বর্তমানে বাধ্যতামূলক মানসনদের আওতাভুক্ত পণ্য রয়েছে ৩১৫টি। এরমধ্যে খাদ্যপণ্য ১১৫টি, ক্যেমিক্যাল ৭৫টি, যন্ত্র ৪৪টি, পাট ও বস্ত্র পণ্য ৩১টি, ইলেকট্রিক ও ইলেকট্রনিক্স পণ্য রয়েছে ৫০টি।
যেসব পণ্যের মান বাধ্যতামূলক করতে পারছে না বিএসটিআই, যেগুলোর মান তৈরি করছে তারা। সংস্থাটি বলছে, এখন প্রণীত মানের সংখ্যা সাড়ে চার হাজার, যেখানে খাদ্যপণ্য ৬৯১টি।
অর্থাৎ ১৯৮৫ সালে প্রতিষ্ঠিত বিএসটিআই চার দশকে সাড়ে চার হাজারের মতো পণ্যের মান নির্ধারণ করতে পেরেছে। যার মধ্যে মাত্র ৩১৫টি পণ্য বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। বাকি পণ্যগুলো স্বেচ্ছামূলক পণ্য হিসেবে সনদ দেওয়া হয়েছে।
বাজারের বেশিরভাগ পণ্যের গুণগত মান তদারকির অভাব রয়েছে। নকল ও নি¤œমানের পণ্য সহজেই বাজারজাত করা যায়। আবার অনেক প্রতিষ্ঠান লাভের আশায় পণ্যের মান নিয়ে যথেষ্ট গুরুত্ব দেয় না।
পর্যাপ্ত জনবল এবং কারিগরি সহায়তার অভাব মান নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রমকেও বাধাগ্রস্ত করে। এসব সীমাবদ্ধতা কাটিয়ে ওঠার ক্ষেত্রে পদক্ষেপ দরকার। বাধ্যতামূলক মান সনদেও আওতা বাড়াতে হবে।