রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

এইচএসসি পরীক্ষার ফল পকাশ, উত্তীর্ণদের প্রতি শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন

WP Import ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১৭ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৪৬ পূর্বাহ্ন

বৃহস্পতিবার এইচএসসি ও সমমান পরীক্ষার ফল প্রকাশ করা হয়েছে। এবার ৯টি সাধারণ শিক্ষা বোর্ড, মাদরাসা ও কারিগরি শিক্ষা বোর্ড মিলিয়ে গড় পাসের হার ৫৮ দশমিক ৮৩ শতাংশ। গত বছরের তুলনায় এ বছর পাসের হার কমেছে ১৮ দশমিক ৯৫ শতাংশ।
এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় ২০০৪ সালের পর এবারের ফলকে বাজে হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে। ফল দেখল বাংলাদেশ। এরচেয়ে বাজে ফল হয়েছিল ২০০৪ সালে। সেবার ৪৭ দশমিক ৮৬ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করেছিল। তার পরের বছর, অর্থাৎ ২০০৫ সালে পাসের হার ছিল ৫৯ দশমিক ৭৪ শতাংশ।
এরপর পাসের হার প্রতি বছরই ধীরে ধীরে বাড়তে থাকে। ২০১৯ সাল পর্যন্ত তা ৬৫ থেকে ৭৮ শতাংশের মধ্যে ঘোরাফেরা করে। ২০২৪ সালে সাতটি বিষয়ে পরীক্ষা নেয়ার পর বাকিগুলো আর নেয়া সম্ভব হয়নি ছাত্র-জনতার আন্দোলন এবং সরকার পতনের পরের ঘটনাপ্রবাহের কারণে। যে পরীক্ষাগুলো হয়নি, সেগুলোর ক্ষেত্রে এসএসসির নম্বর বিবেচনায় নিয়ে সাবজেক্ট ম্যাপিংয়ের মাধ্যমে করা হয় মূল্যায়ন। পাসের হার দাঁড়ায় ৭৭ দশমিক ৭৮ শতাংশ। ২০২০ সালে মহামারীর কারণে পরীক্ষা হয়নি। জেএসসি ও এসএসসির ফলের ভিত্তিতে মূল্যায়নে সবাই পাস করে। মহামারী করোনার কারণে বিলম্বিত হয়েছিল ২০২১ সালের এইচএসসি পরীক্ষাও। কম বিষয়ে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসের পরীক্ষায় পাসের হার ছিল ৯৫ দশমিক ২৬ শতাংশ। ২০২২ সালের এইচএসসি পরীক্ষা কোভিড মহামারি আর বন্যার কারণে বিলম্বিত হয়েছিল। সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে হওয়া সেই পরীক্ষায় ৮৫ দশমিক ৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী পাস করে। কোভিড মহামারির পর ২০২৩ সালের এইচএসসি পরীক্ষায় প্রথমবার পূর্ণ নম্বর ও পূর্ণ সময়ে পরীক্ষা হয়েছিল। সেবার পাস করে ৭৮ দশমিক ৬৪ শতাংশ শিক্ষার্থী।
চলতি বছরের এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলে শিক্ষার্থীরা সব চেয়ে বেশি ফেল করেছেন ইংরেজিতে। ফেল করেছেন পাঁচ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী। আবার জিপিএ-৫ পাওয়া শিক্ষার্থীর সংখ্যাও ব্যাপক হারে কমেছে। ফল বিপর্যয়ের নেপথ্যে রয়েছে ইংরেজিতে ফেল। এবার অধিকাংশ শিক্ষা বোর্ডে ইংরেজিতে পাসের হার ৬০ শতাংশের মধ্যে। শুধু ঢাকা ও বরিশাল বোর্ডের শিক্ষার্থীদের ইংরেজিতে পাসের হার ৭০ শতাংশের ঘরে।
উত্তীর্ণ শিক্ষার্থীদের সামনের লড়াইটিও চ্যালেঞ্জিং। উচ্চ শিক্ষার জন্য এখন থেকেই প্রস্তুতি শুরু হবে। বিভিন্ন বিশ^বিদ্যালয়ে ভর্তি যুদ্ধের সম্মুখিন হতে হবে। অনেকেই পছন্দের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে ভর্তি হতে পারবে। অন্যরাও কোনো না কোনো শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে তাদের উচ্চ শিক্ষার যাত্রা অব্যাহত রাখবে। উত্তীর্ণ সকল শিক্ষার্থীকে শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানাই। তারা আরো বৃহত্তর পরিসরে শিক্ষায়-সফল হয়ে দেশ ও জাতির সেবায় নিজেদের নিয়োজিত রাখবেন। আর যারা অনুত্তীর্ণ হয়েছে তারা যেন মনোবল না হারায় সেই প্রত্যাশাই করবো। জীবনের জন্য যা কিছু ভাল তা অর্জনের জন্য সময় শেষ হয়ে যায় না। প্রয়োজন হবে দৃঢ় মনোবল এবং সময়কে কাজে লাগানোর। আজ সফলতা আসেনি কিন্তু আগামীতে চেষ্টা ও অধ্যবসায় সহায় হলে সাফল্য আসবেই। অভিভাবকগণ অনুত্তীর্ণ শিক্ষার্ষীদের সাহস ও উৎসাহ যোগাবেন সেটাই প্রত্যাশিত।