রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

আজ রাকসু নির্বাচন, শান্তি ও সৌহার্দের অঙ্গীকার হোক

WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১৬ অক্টোবর ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

আজ রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (রাকসু) নির্বাচন। ৩৫ বছর পর এই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। বিশ^বিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ইতোমধ্যেই নির্বাচনের সব প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছেন। মঙ্গলবার রাত ১২ টা থেকে সব ধরনের প্রচার-প্রচারনাও শেষ হয়েছে। বুধবার প্রচারণা বন্ধ ছিল। আজ রাকসু নির্বাচনে ২৩টি পদের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ২৪৭ জন প্রার্থী। এর মধ্যে ভিপি পদে ১৮, জিএস পদে ১৩ এবং এজিএস পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন ১৬ জন। ছাত্রদল ও শিবির সমর্থিতসহ মোট ১১টি প্যানেল ঘোষণা করা হয়েছে। এছাড়া সিনেট ছাত্র প্রতিনিধি নির্বাচনের ৫টি পদে ৫৮ জন প্রার্থী এবং হল সংসদ নির্বাচনের ১৫টি পদের বিপরীতে ১৭টি হলে মোট ৫৯৭ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।
রাকসু ও সিনেট নির্বাচনে মোট ভোটার সংখ্যা ২৮ হাজার ৯০১ জন। এর মধ্যে নারী ভোটার ১১ হাজার ৩০৫ এবং পুরুষ ভোটার ১৭ হাজার ৫৯৬ জন। ২৮ হাজার ৯০১ জন ভোটারের জন্য ২৮ হাজার ৯০১টি ব্যালট পেপার ছাপানো হয়েছে। পুনর্বিন্যস্ত তফসিল অনুযায়ী আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৪টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। ভোটগ্রহণ শেষ হওয়ার পর গণনা শেষে ১২-১৫ ঘন্টার মধ্যে ফলাফল ঘোষণা করা হবে বলে ইতোমধ্যেই জানিয়েছেন উপাচার্য অধ্যাপক ড. সালেহ হাসান নকীব। সে অর্থে শুক্রবার ভোরের দিকে ফলাফল ঘোষণা হতে পারে।
উল্লেখ্য, ১৯৬২ সালে প্রতিষ্ঠার পরে এখন পর্যন্ত মোট ১৪ বার রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছে। পদাধিকার বলে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য রাকসু -এর সভাপতি হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। সদস্যরা সরাসরি ভোট দিয়ে সহসভাপতি (ভিপি), সাধারণ সম্পাদক (জিএস) এবং অন্যান্য পদ নির্বাচন করেন। রাকসু সূত্রে জানা যায়, সর্বশেষ ১৯৮৯ সালে শেষ নির্বাচনটি অনুষ্ঠিত হয়। মুক্তিযুদ্ধের সময়, ১৯৭০ থেকে ১৯৭২ সাল পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়নি। এছাড়া সামরিক শাসনের জন্য ১৯৭৫-১৯৮০ এবং ১৯৮১-১৯৮৮ সাল পর্যন্ত নির্বাচন স্থগিত ছিল। ১৯৮৯ সালের পর থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত রাকসু নির্বাচন স্থগিত রাখা হয়েছে।
আজ নির্বাচনের দিন নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে ক্যাম্পাসে দুই হাজারের বেশি পুলিশ সদস্যের পাশাপাশি ছয় প্লাটুন বিজিবি ও ১২ প্লাটুন র‌্যাব মোতায়েন থাকবে। এছাড়া গোয়েন্দা সংস্থা, বিএনসিসি ও স্কাউট সদস্যরাও নিরাপত্তা কার্যক্রমে অংশ নেবেন।
নেতৃত্বের প্রধান গুণ সহিষ্ণুতা, ভবিষ্যতমুখিনতা, জ্ঞান ও প্রজ্ঞা এবং সিদ্ধান্ত নেয়ার ক্ষমতা। ছাত্র রাজনীতির মধ্য দিয়ে এসব গুণ অর্জন করা সম্ভব হয়। আর এই কারণেই ছাত্ররাজনীতির গুরুত্ব ও তাৎপর্য অপরিসীম। কেননা ক্যাম্পাসের এই রাজনৈতিক চর্চার মধ্য দিয়েই ভাবষ্যত রাজনৈতিক নেতা তৈরি হয়, যে নেতারা হয়ে উঠেন দেশ ও দেশের মানুষের কণ্যাণের রূপকার। আর এটা নিখাদ দেশপ্রেম ছাড়া সম্ভব হয় না। ৩৫ বছর পর রাকসু নির্বাচনের এই পথচলাকে আমরা স্বাগত জানায় এবং একই সাথে এই প্রত্যাশাও খুবই যৌক্তিক যে, নির্বাচনের ধারাবাহিকতা আর যেন বন্ধ না হয়। রাকসু নির্বাচনের অব্যাহত ধারাকে এগিয়ে নিতে রাকসুর মূল স্টেকহোল্ডার ছাত্রদের দায় অনেক বেশি। যারাই জয়ী হোক না কেন তাদের কাছ থেকে ছাত্র-স্বার্থ সুরক্ষা এবং ক্যাম্পাসে স্থিতিশীলতা রক্ষা করাই প্রধান অঙ্গীকার হতে হবে। নিশ্চয় রাকসু নির্বাচন শান্তি ও সৌহার্দপূর্ণ ভাবে সম্পন্ন হবে- এই প্রত্যাশা রইল।