মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ঈশ্বরদীর সাঁড়া চরাঞ্চলে অস্ত্রের আস্তানা উচ্ছেদ ও পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

WP Import ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০১ অপরাহ্ন
WP Import ০৯ অক্টোবর ২০২৫ ০৯:০১ অপরাহ্ন
ঈশ্বরদীর সাঁড়া চরাঞ্চলে অস্ত্রের আস্তানা উচ্ছেদ ও পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন
ঈশ্বরদীর সাঁড়া চরাঞ্চলে অস্ত্রের আস্তানা উচ্ছেদ ও পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দাবিতে মানববন্ধন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীর পদ্মা নদীর সাঁড়া চরাঞ্চলে সন্ত্রাসীদের অস্ত্রের আস্তানা উচ্ছেদ ও পদ্মা পাড়ের বাসিন্দাদের নিরাপত্তার দাবিতে নদীর পাড়ে মানববন্ধন করেছেন এলাকাবাসী। এসময় তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে প্রায় ২ হাজার গ্রামবাসী পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর গণস্বাক্ষরযুক্ত আবেদন করেন।

বৃহস্পতিবার (৯ অক্টোবর) পদ্মা নদীর সাঁড়া ৫ নং ঘাট এলাকায় ‘পদ্মা নদী পাড়ের সাধারণ জনগণ ও ব্যবসায়ীবৃন্দ’র ব্যানারে এসব কর্মসূচীর আয়োজন করেন গ্রামবাসী। এসময় ভূক্তভোগী গ্রামবাসীরা বলেন, পদ্মা নদীতে বালু ও খাজনা আদায়কে কেন্দ্র করে নদীর চরে সন্ত্রাসীদের অভয়ারণ্যে পরিণত হয়েছে। প্রায়ই নৌকা ও স্পীডবোটে করে চর থেকে সন্ত্রাসীরা নদী পাড়ে এসে গোলাগুলি করে।

এই গোলাগুলির মধ্যে স্থানীয় সাধারণ গ্রামবাসী গুলিবিদ্ধ হয়। গত সোমবারও (৬ অক্টোবর) একজন কৃষক ও একজন শিক্ষাথী গুলিবিদ্ধ হয়। পদ্মা পাড়ের বাড়ি ঘরে গুলি এসে ঘরের টিনের চালা ও বেড়া ফুটো হয়ে যায়। এসময় ক্ষতিগ্রস্থ ও গুলিবিদ্ধ লোকজনের পরিবারের সদস্যরা এসব ঘটনার বর্ননা করতে গিয়ে কান্নায় ভেঙ্গে পড়েন। তাদের জীবনের নিরাপত্তার দাবি জানিয়ে প্রায় ২ হাজার গ্রামবাসী গণস্বাক্ষর করে পাবনা জেলা প্রশাসক বরাবর লিখিত আবেদন করেছেন। বিক্ষুব্ধ গ্রামবাসী এসব ঘটনায় ব্যবস্থা গ্রহণ না করার অভিযোগ তুলে উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামানকে দায়ি করে তাকে অপসারন করার দাবি করে শ্লোগান দেয়।

প্রসঙ্গত: সাঁড়া ঘাট এলাকায় গত ২৬ মে প্রথম দিনে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে ৭ জন গুলিবিদ্ধ হয়। তার পর থেকে গত সোমবার পর্যন্ত ১০/১২ জন সাধারণ কৃষক ও গ্রামবাসী সন্ত্রাসীদের গোলাগুলিতে গুলিবিদ্ধ হন বলে জানান ক্ষতিগ্রস্থ পরিবারের সদস্যরা।

আয়োজিত মানববন্ধনে বক্তব্য দেন বলোরাম কুমার, চিন্তকুমার, ইউনুস আলী, শরিফুল ইসলাম, লিটন হোসেন, শংকর কুমার, ফাইমা খাতুন, গীতা রানী, উর্মিলা রানী, মিনতি রানী, ফরিদ হোসেন রাজুসহ ক্ষতিগ্রস্থ গ্রাবাসীরা।

চরাঞ্চলে গোলাগুলি, সন্ত্রাসীদের আস্তানা, অস্ত্রসহ সাম্প্রতিক সংঘঠিত এসব বিষয়ে ঈশ্বরদী উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মনিরুজ্জামান বলেন, পদ্মাপাড়ে গোলাগুলিতে যে দুজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন তাদের বিষয়ে নৌ-পুলিশকে মামলা করতে নির্দেশ দিয়েছি এবং দ্রুততম সময়ে চরাঞ্চলে অভিযান চালানোর বিষয়ে জেলা প্রশাসককে অবহিত করা হয়েছে। পরবর্তীতে যেন এ ধরনের কোন ঘটনা না ঘটে সে বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহনের জন্য আইনশৃঙ্খলা বাহিনীকে সতর্ক থাকার জন্য বলা হয়েছে।