ঈশ্বরদীতে তুচ্ছ ঘটনায় দুই গ্রামবাসীর মধ্যে অস্ত্রের মহড়া, ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:
পাবনার ঈশ্বরদীতে তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে দুই গ্রামবাসীর মধ্যে ধাওয়া পাল্টা ধাওয়া, ভাংচুর ও দুই দিন ধরে পাল্টাপাল্টি ভাবে প্রকাশ্যে অস্ত্রের মহড়া চলছে। শুক্রবার (৩ অক্টোবর) দুপুরে দ্বিতীয় দিনের মত চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েকশ’ গ্রামবাসীদের লাঠিসোটা ও দেশি অস্ত্র উঁচিয়ে বিক্ষোভ মিছিল করতে দেখা গেছে। এসব মিছিলের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে।
জানা গেছে, উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাঁশেরবাদা ও চরগড়গড়ি গ্রামের দুই যুবক একটি ভ্যানে চেপে আওতাপাড়া হাটে আসার সময় ভ্যান থামিয়ে কালক্ষেপণ করা নিয়ে তাদের মধ্যে কথাকাটাকাটি ও বাগ্বিতন্ডা হয়। এসময় তারা একে অন্যের গ্রাম নিয়ে অশ্লীল ও বাজে মন্তব্য করে বলে অভিযোগ করা হয়। এ নিয়ে তারা নিজ নিজ গ্রামে গিয়ে তাদের প্রতিবেশীদের জানালে দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে। এ নিয়ে আওতাপাড়া হাটে দোকানপাট ভাংচুর ও ধাওয়া পাল্টা ধাওয়ার ঘটনা ঘটে বিরোধে জড়িয়ে পড়া দুই গ্রামবাসীদের মধ্যে। পরে তা ব্যাপকভাবে ছড়িয়ে পড়লে উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়ে দুই গ্রামে।
এক পর্যায়ে সাহাপুর ইউনিয়নের ৯নং ওয়ার্ডের ইউপি মেম্বার মো: সান্টু বাঁশেরবাদা গ্রামের এবং মক্কেল মৃধা চরগড়গড়ি গ্রামের গ্রামবাসীদের এই বিক্ষোভের নেতৃত্বে প্রকাশ্যে আসে। গত দুই দিন দফায় দফায় এই দুই গ্রামে লাঠিসোটা ও অস্ত্র সস্ত্র নিয়ে মিছিল করে গ্রামবাসী। বৃহস্পতিবার বাঁশেরবাদা গ্রামে ও গতকাল শুক্রবার চরগড়গড়ি গ্রামে কয়েকশ’ গ্রামবাসী লাঠিসোটা ও দেশী অস্ত্র উঁচিয়ে বিক্ষোভ মিছিল বের করে গ্রামের নাম উল্লেখ করে বিভিন্ন স্লোগান দেয়। খবর পেয়ে পুলিশ ওই দুই গ্রামে গিয়ে অবস্থান নিলে পরিস্থিতি প্রাথমিকভাবে শান্ত হলেও ফের উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়েছে।
এ বিষয়ে ইউপি মেম্বার মো: সান্টু বলেন, চরগড়গড়ি গ্রামের লোকজন আমাদের গ্রামের নাম ধরে বাজে মন্তব্য করে শ্লোগান দিয়েছে আমরা গ্রামবাসী তা বরদাস্ত করতে পারি না। অপরদিকে চরগড়গড়ি গ্রামের গ্রামবাসীর নেতৃত্বে থাকা মক্কেল মৃধা বলেন, আমরা আমাদের গ্রামের নামে বদনাম ছড়ানো বাঁশেরবাদা গ্রামবাসীকে ছাড় দিবো না।
এ বিষয়ে সাহাপুর গ্রামের বাসিন্দা পাবনা জেলা বিএনপির আহবায়ক ও বিএনপি চেয়ারপার্সনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব জানান, বিবাদমান দুই গ্রামের নেতৃত্ব পর্যায়ের লোকজনের সঙ্গে আমরা কথা বলেছি। উভয় গ্রামের গ্রামবাসীদের নিয়ে আজকালের মধ্যে এই বিবাদ মিমাংসা করে শান্তি শৃঙ্খলা ফিরিয়ে আনার ব্যবস্থা করা হবে। ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর বলেন, তুচ্ছ ঘটনাকে কেন্দ্র করে গ্রামবাসীদের মধ্যে সৃষ্ট বিরোধ নিরসনে আমরাও উদ্যোগ নিয়েছি। দ্রুত এ বিরোধের সমাধান করা যাবে বলে আমরা আশাবাদী।