মঙ্গলবার, আগস্ট ২৫, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে হতদরিদ্রদের চাল বণ্টন নিয়ে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ

WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন
WP Import ০১ অক্টোবর ২০২৫ ১২:২৪ পূর্বাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় হতদরিদ্রদের জন্য সরকার নির্ধারিত ১৫ টাকা কেজি দরের চাল বণ্টন নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বিএনপি’র দুই গ্রপের মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। সোমবার (২৯ সেপ্টেম্বর) বিকেলে উপজেলার সাহাপুর ইউনিয়নের বাবুলচরা এলাকায় দফায় দফায় এ সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন যাবত খাদ্য বান্ধব কর্মসূচির আওতায় বাবুলচরা এলাকায় চাল বিতরণ করেন সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক ও (ডিলার) লিটন মাস্টার। স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাহাবুল হোসেনের কাছে স্থানীয় কিছু হতদরিদ্র মানুষ অভিযোগ করে জানান, লিটন মাস্টার ও তার অনুসারীরা হতদরিদ্র সবাইকে ৩০ কেজির স্থলে ২৫-২৬ কেজি করে চাল দিচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে সাহাবুল হোসেন একাধিকবার লিটন মাস্টারকে অবগত করেও কোনো সমাধান হয় নি।

গত সপ্তাহে আবারো চাল বিতরণের সময় হতদরিদ্র এসব মানুষকে তিন থেকে চার কেজি করে চাল কম দেওয়ার অভিযোগে সাহাবুল হোসেনের সমর্থকদের সঙ্গে লিটন মাস্টারের সমর্থকদের বাগ্বিতন্ডা হয়। এরই সূত্র ধরে লিটন মাস্টারের ভাই কলম কে মারধর করে স্থানীয় জনতা। পরে লিটন মাস্টারের সমর্থকরা সাহাবুল হোসেনের অফিস ভাঙচুর করে। এ নিয়ে সোমবার বিকালে আবারো সাহাবুল হোসেন ও লিটন মাস্টারের সমর্থকদের মধ্যে কয়েক দফায় সংঘর্ষ হয়। তবে সংঘর্ষে উভয় পক্ষের বেশ কযেকজন আহত হলেও গুরুতর আহত হয়নি কেউ।
এ বিষয়ে স্থানীয় ওয়ার্ড বিএনপি’র সাধারণ সম্পাদক সাহাবুল হোসেন জানান, দলের নাম ভাঙিয়ে কেউ অপকর্ম করলে তার দায় আমাদের তৃণমূলের নেতাকর্মীদের গায়ে আসে। লিটন মাস্টারকে একাধিকবার বলার পরও সে সংশোধন হয়নি। ফলে সাধারণ মানুষ তার উপর ক্ষিপ্ত হয়ে তার ভাইকে মেরেছে।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন মাস্টার জানান, চালের বস্তা খোলা বা ওজনে চাল কম দেয়ার মত কোন ঘটনা ঘটেনি। মূলত সাহাবুল হোসেন ডিলারশিপের অর্ধেক অংশীদার হতে চেয়েছিলেন। তাকে অংশীদার না করায় আমাদের বিরুদ্ধে যড়যন্ত্র করছে, আমার আপন ভাই ভাতিজাকে হত্যার উদ্দেশ্যে পিটিয়ে জখম করেছে সাহাবুল হোসেনের লোকজন।

এ বিষয়ে পাবনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক কর্মকর্তা হাসান আল নাঈম জানান, খাদ্যবন্ধব কর্মসূচির আওতায় দেওয়া ৩০ কেজি চাউলের বস্তা খোলার কোন নিয়ম নেই এবং ওজনে ৩০ কেজির কম দিলে তা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। কোন ডিলার যদি এ ধরনের কাজ করে থাকে তার বিরুদ্ধে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেয়া হবে।

সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপি’র সভাপতি হামিদুর রহমান হামদু মেম্বার জানান, ভুল বোঝাবুঝি থেকে এমন ঘটনা ঘটেছে। দু’পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করে বিষয়টি সমাধানের চেষ্টা চলছে। তবে তদন্ত করে কেউ দোষী হলে তার বিরুদ্ধে সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ ঘটনায় সাহাপুর ইউনিয়ন বিএনপি সাংগঠনিক সম্পাদক লিটন মাস্টারের লোকজন ঈশ্বরদী থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেছে।
অভিযোগের বিষয়টি নিশ্চিত করে ঈশ্বরদী থানার অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আ.স.ম. আব্দুন নূর জানান, একটি পক্ষ অভিযোগ দিয়েছে। তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।