রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পাকদের বিরুদ্ধে প্রত্যাশিত জোড়া সাফল্য আসেনি, ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় স্বপ্ন ভেঙেছে

WP Import ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২৭ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:১৩ পূর্বাহ্ন

ইনিংসের তখনও এক বল বাকি। টিভি স্ক্রিনে এল লিটন দাসের মুখ। হতাশ, ব্যাথিত ও সব হারানোর ছবি তার মুখাবয়বে স্পষ্ট। দলের জন্য শেষে কিছুই করতে পারলেন না। ইনজুরির কারণে টানা দুটি ম্যাচ সাইডলাইনে বসে থাকতে হলো তাকে। বাইরে থেকেই এশিয়া কাপের অভিযানের ইতি দেখলেন লিটন। পাকিস্তানের বিপক্ষে মাত্র ১১ রানে হেরে ফাইনালে ওঠার স্বপ্ন শেষ হয় বাংলাদেশের। পাকিস্তানের দেওয়া ১৩৬ রানের লক্ষ্য ছুঁতে পারেনি তারা। থামতে হয়েছে ৯ উইকেটে ১২৪ রানে। ইনিংসের শুরুর চার ব্যাটারের চারজনই ব্যর্থ হওয়ায় রান তাড়ায় পেরে উঠেনি বাংলাদেশ। বাংলাদেশ দল হেরেছে। এটা কোন খবর নয়। বাস্তবতা!!! মানতে কষ্ট হয়। আমরা বাঙালিরা অনেক বেশি আবেগ প্রবণ এটা ঠিক। তার চেয়ে বড় কথা ক্রিকেট মিশে আছে আমাদের প্রাণে। এই ক্রিকেট আমাদের নিয়ে আসে এক জায়গায়। মুসলিম হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিস্টান সব ধর্মের মানুষ এক হয়ে যায় এই ক্রিকেটেই। তখন না কোন দল থাকে না বিরোধী দল। তখন সবাই বাংলাদেশ। হ্যাঁ একটা সময় ছিল হারটা চোখের অশ্রু হয়ে পরত। রাত জেগে খেলা দেখতাম শুধু একটা জয় দেখব বলে। কিন্তু এশিয়া কাপে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে ব্যাটিং ব্যর্থতায় ফাইনালে উঠতে না পারায় স্বপ্নটা ভেঙে গেছে। ম্যাচটা ছিল ভিন্ন রকম, যে দল বেশি ছক্কা মেরেছে, তারাই হেরেছে। পাকিস্তান যেখানে মেরেছিল মাত্র পাঁচটি ছক্কা, বাংলাদেশ ইনিংসের দশম ওভারেই পাঁচটি ছক্কা মারে, তবে শেষ পর্যন্ত তাদের ছক্কার সংখ্যা দাঁড়ায় সাত। আরও বড় শট খুঁজতে গিয়ে, বারবার ক্যাচ দিয়ে আউট হয়েছে বাংলাদেশ। দিনের শুরুতে পাকিস্তানের ব্যাটাররাও একই ধরনের ভেঙে পড়া ব্যাটিংয়ের শিকার হয়েছিলেন। তবে মোহাম্মদ হারিস ও মোহাম্মদ নাওয়াজ কিছুটা লড়াই করে দলকে নিয়ে যান ১৩৫ রানে। সেই সংগ্রহই দিনের শেষে যথেষ্ট প্রমাণিত হয়, ১১ রানের জয় নিশ্চিত করে পাকিস্তান। তানজিদ তামিম একাদশে ছিলেন না। পারভেজ হোসেন ইমন তার জায়গায় নিজেকে মেলে ধরতে ব্যর্থ। প্রথম ওভারেই বড় শট নেওয়ার চেষ্টায় কোন রান করার আগেই ফিরলেন। ইমনের অহেতুক ব্যাট চালানো দেখলেন কিন্তু তা থেকে শিক্ষা নিলেন কই তাওহিদ হৃদয়। আমাদের অতিরিক্ত আশা করা এবং ক্রিকেটারদের দায়িত্ব জ্ঞানহীনতা। আমরা যারা দর্শক আছি তারা কখন ও গঠনমূলক সমালোচনা করি না। ক্রিকেটারদের মানসিক দিকটা ভাবি না। আমরা শুধু বাংলাদেশের ক্রিকেটে একটু প্রত্যাশা বেশি রাখি। সবার চেয়ে বেশি নাকি জানি না। কিন্তু বেশি প্রত্যাশা করি। আশা রাখি ক্রিকেটাদের দায়িত্বজ্ঞান একটু হলেও বাড়াবে।
অন্যদিকে বৃহস্পতিবার (২৫ সেপ্টেম্বার) একই দিনে কলম্বোয় সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপ ফুটবলে পাকিস্তানের বিপক্ষে খেলল বাংলাদেশ। সেই লড়াইয়ে পাকিস্তানকে ২-০ গোলে হারিয়ে ফাইনালে পৌঁছে গেছে বাংলাদেশ। এই ম্যাচের পর সাফ অনূর্ধ্ব-১৭ চ্যাম্পিয়নশিপের সেমি-ফাইনালে নেপালের বিপক্ষে ভারত পেল প্রত্যাশিত জয়। তাতে গতবারের মতো আবারও শিরোপা লড়াইয়ের মঞ্চে দেখা হচ্ছে বাংলাদেশ ও ভারতের। গত বছর ফাইনালে তাদের কাছে ২-০ গোলে হেরে স্বপ্ন গুঁড়িয়েছিল ছেলেদের। এবার আর স্বপ্ন ভঙ্গের হতাশায় ডুবতে চায় না আমরা।