রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বালোচ লিবারেশন আর্মিকে জঙ্গি তকমা, আমেরিকার দ্বিচারিতায় পাকিস্তান হতাশ

WP Import ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৫০ পূর্বাহ্ন

স্বাধীনতাকামী বালোচদের নিয়ে পাকিস্তান বিব্রতকর পরিস্থিতির মধ্যে আছে। একই সাথে বালোচিস্তানদের নিয়ে চিনের স্বার্থের টানাপোড়েন কম নয়। বালোচ লিবারেশন আর্মি পাকিস্তানের অধীনতা অস্বীকার করছে এবং একটি স্বাধীন সার্বভৌম বালোচিস্তান প্রতিষ্ঠার শপথ নিয়ে পাকিস্তানের বিরুদ্ধে জনযুদ্ধ চালিয়ে যাচ্ছে। প্রায় সময়ে পাকিস্তান সেনাবাহিনি ও বলোচ লিবারেশন আর্মির মধ্যে সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। বালোচিস্তানে চিনের বিপুল পরিমাণ বিনিয়োগ আছে। প্রধান বিনিয়োগ চিন-পাকিস্তান অর্থনৈতিক করিডোর (ঈচঊঈ) প্রকল্পের অংশ- যেখানে গোয়াদর বন্দরকে কেন্দ্র করে অবকাঠামোগত উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক জোরদার করা হচ্ছে। তবে, এই বিনিয়োগ স্থানীয় বালোচ জনগণের মধ্যে অসন্তোষ সৃষ্টি করেছে এবং বালোচ বিদ্রোহীদের হামলার লক্ষ্যবস্তু হওয়ায় নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়িয়েছে। এই অস্থিরতার কারণে চিনের বিনিয়োগের ভবিষ্যত নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
পাকিস্তানের সাথে আমেরিকার ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলে তারা বালোচিস্তানে চিনের বিনিয়োগ ভাল চোখে দেখছে না। সম্প্রতি ট্রাম্প প্রশাসনের ট্যারিফ আরোপকে কেন্দ্র করে চিন- আমেরিকার সম্পর্ক একেবারে তলানিতে এসে পৌঁছেছে। যে আমেরিকা মাসখানেক আগেই পাকিস্তানের মন রেখে বালোচ আর্মিকে জঙ্গি তকমা দিয়েছিল। সেই আমেরিকাই এখন দ্বিচারিতা দেখাচ্ছে। বৃহস্পতিবার (১৮ সেপ্টেম্বর) সেই একই দাবি জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে খারিজ করে দিল আমেরিকা। উল্লেখ্য, বালোচ আর্মিকে জঙ্গি তকমা দেয়ার আর্জি নিয়ে নিরাপত্তা পরিষদের দ্বারস্থ হয়েছিল পাকিস্তান এবং চিন। কিন্তু সেই আর্জি খারিজ হয়ে গিয়েছে।
সংবাদ মাধ্যমের তথ্যমতে, জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে পাকিস্তানের পক্ষে আবেদন করা হয় যে, বালোচ লিবারেশন আর্মি এবং তার আত্মঘাতী স্কোয়াড ‘মাজিদ ব্রিগেড’কে জঙ্গি গোষ্ঠি বলা হোক। সীমান্ত সন্ত্রাস চালাতে আফগানিস্তানের মদতে অন্তত ৬০টি ক্যাম্প চালাচ্ছে বালোচরা, এমনটাই দাবি পাকিস্তানের। নিরাপত্তা পরিষদের স্থায়ী সদস্য চিনও এই প্রস্তাবে সহমত পোষণ করে। কিন্তু আমেরিকা, ব্রিটেন এবং ফ্রান্স এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। আপাতত এই তিন দেশের যুক্তি, বালোচ আর্মিকে জঙ্গি তকমা দেয়ার পর্যাপ্ত প্রমাণ নেই।
দ্বিচারিতাই আমেরিকার অন্যতম নৈতিক ভিত্তি। দেশটি তাদের স্বার্থ উদ্ধারে যে কোনো মিত্র দেশকে ছুঁড়ে ফেলতে মোটেও কার্পণ্য করে না। এমন দৃষ্টান্ত ভুরি ভুরি। যে কারণে আমেরিকা সম্পর্কে এমন কথা বলা হয় যে, আমেরিকা যার বন্ধু তার শত্রুর আর প্রয়োজন হয় না। এর বড় প্রমাণ খোদ পাকিস্তানই। পাকিস্তান- আমেরিকার দ্যোতানা ৭৮ বছরের কিন্তু পাকিস্তান অর্থনৈতিকভাবে মেরুদ- সোজা করে দাঁড়াতে পারেনি। একটি ভঙ্গুর রাষ্ট্র হিসেবে বিশ^ব্যাপি পরিচিতি পেয়েছে। আমেরিকা প্রয়োজন মত পাকিস্তানকে শুধু ব্যবহারই করেছে, পাকিস্তানকে অর্থনৈতিকভাবে শক্তিশালী করতে কার্যকর পদক্ষেপ কখনই নেয়া হয়নি।