কক্সবাজার মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান রুট, চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় কঠোর পদক্ষেপ চাই
মিয়ানমার সীমান্ত ক্রমশই বাংলাদেশের জন্য ভয়ঙ্কর হয়ে উঠছে। সেটা হলো অবৈধ মাদক ও অবৈধ অস্ত্র চোরাচালানের প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে প্রতিবেশি দেশটি- যা বাংলাদেশের স্থিতিশীলতার জন্য খুবই ঝুঁকিপূর্ণ। এ কথা বাংলাদেশ বর্ডার গার্ড- বিজিবি-ই বলছে। সীমান্ত সুরক্ষায় নিয়োজিত সংস্থাটি বলছে- বাংলাদেশে মাদক চোরাচালানের জন্য কক্সবাজার সীমান্ত প্রধান রুট হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে। এর মধ্যে উখিয়া-টেকনাফ সীমান্ত ও বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি সীমান্ত সবচেয়ে ঝুঁকিপূর্ণ বলে জানাচ্ছে বিজিবি।
১৫ সেপ্টেম্বর কক্সবাজারের বিজিবি সীমান্ত সম্মেলন কেন্দ্রে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বিজিবি জানায়-নাফ নদী ও সাগরপথ হয়ে মহেশখালী, বাঁশখালী, কুতুবদিয়া, আনোয়ারা ও কুয়াকাটা দিয়ে ইয়াবা, ক্রিস্টাল মেথসহ বিভিন্ন ধরনের মাদক দেশে প্রবেশ করছে। ধারণা করা হয়, মোট মাদকের প্রায় ৮০ শতাংশ আসছে সাগরপথে। আগে এটি শুধু অনুমান ছিল, বর্তমানে ডিজিটাল ফুটপ্রিন্টের মাধ্যমে এ রুট ব্যবহারের প্রমাণ মিলেছে।
ওই সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, শুধু মাদক নয়, এ সময়ে বিপুল অস্ত্র ও গোলাবারুদও উদ্ধার করেছে বিজিবি। এর মধ্যে রয়েছে দেশীয় এক নলা বন্দুক ৬টি, একে-৪৭ রাইফেল, এসএলআর, জি-৩ রাইফেল, বিদেশি রিভলবার ও গ্রেনেডসহ বিভিন্ন অস্ত্র রয়েছে। আটক হয়েছে পাঁচ অস্ত্রধারী আসামি। এসব অস্ত্র ও গোলাবারুদের মূল্য ২২ লাখ টাকার বেশি।
সংবাদ মাধ্যম সূত্রর উদ্বেগজনক তথ্য হলো- মিয়ানমার সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে মাদক চোরাচালানে সহযোগিতা করছে দেশটির রাখাইন রাজ্যের সশস্ত্র বিদ্রোহী গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। মাদকের পাশাপাশি প্রচুর অস্ত্র আসছে। সীমান্তরক্ষীদের কাছে কিছু ধরা পড়লেও বেশির ভাগ মাদক-অস্ত্রই ঢুকছে রোহিঙ্গা শিবিরে। আরাকান আর্মি এবং বাংলাদেশে আশ্রয়ী রোহিঙ্গা শরণার্থীরা বাংলাদেশের জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করেছে। যদিও বিজিবি সীমান্ত এলাকায় নিয়মিত টহল, আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার, স্থানীয় জনগণের সহযোগিতা এবং জনসচেতনতা সৃষ্টির মাধ্যমে মাদক ও চোরাচালান দমনে চেষ্ট চালিয়ে যাচ্ছে। তারপরও মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান বন্ধ করা যাচ্ছে না।
বিশ^জুড়েই অবৈধ মাদক ও অস্ত্র ব্যবসা হাত-ধরাধরি করে চলে। সাধারণত মাদক চোরাচালানপ্রবণ এলাকায় মাদকের পাশাপাশি অবৈধ অস্ত্রের চোরাচালানও হয়ে থাকে। মাদক ও অস্ত্র চোরাচালানের নেপথ্যে আন্তর্জাতিক সাফিয়া গোষ্ঠি এবং মাদকের রাজনীতিও আছে। সংবাদ সূত্রের খবর, আরাকান আর্মির অর্থের বড় উৎস্যই হলো মাদক ও অস্ত্র চোরাচালান। যা বাংলাদেশের জন্য হুমকি স্বরূপ। ফেব্রুয়ারিতে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। নির্বাচনকে কেন্দ্র করে দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি করা অসম্ভব কিছু নেই। ফলে অবৈধ অস্ত্রের চালান যাতে বাংলাদেশে প্রবেশ করতে না পারে সেই পদক্ষেপই জরুরি।