সোমবার, আগস্ট ২৪, ২০২৬

ঈশ্বরদীতে আধিপত্য ও পূর্ব বিরোধের জেরে যুব ও স্বেচ্ছাসেবক দলের সংঘর্ষে গোলাগুলি, আহত ৭

WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৫ অপরাহ্ন
WP Import ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১০:২৫ অপরাহ্ন

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি:


পাবনার ঈশ্বরদীতে যুবদল কর্মী শামিনুর রহমান বাপ্পি ও স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা রাসেল পারভেজের মধ্যে এলাকায় আধিপত্য ও পূর্ব বিরোধের জের ধরে সংঘর্ষ, ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া এবং পুলিশের উপস্থিতিতে দুই পক্ষের মধ্যে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে। শনিবার (১৩ সেপ্টেম্বর) রাত ৮টার দিকে উপজেলার সাহাপুর মসজিদ মোড় এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অন্তত ৭জন আহত হয়েছেন।

আহতরা হলেন, সাহাপুর ইউনিয়ন স্বেচ্ছাসেবক দলের আহবায়ক রাসেল পারভেজ, কর্মী নুরুন্নবী, যুবদল কর্মী শামিনুর রহমান বাপ্পি, শাহিন সরদার, রুহুল আমিন রাহুল, শুভ্র হোসেন ও মো. জিত। আহতদের মাথা, হাত-পা ও শরীরের বিভিন্ন অঙ্গ ক্ষত-বিক্ষত অবস্থায় তাদের ঈশ্বরদী, পাবনা ও রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে গুলিবিদ্ধ হয়নি কেউ। ঘটনাস্থল থেকে গুলির খোসা উদ্ধার করা হয়েছে।

স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শী, পুলিশ, বিবাদমান দুই পক্ষের একাধিক জনের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, পূর্ব বিবাদের জের ধরে শনিবার দুপুরে স্কুল ছাত্র রুহুল আমিন রাহুলকে শামিনুর রহমান বাপ্পির দোকানে ডেকে নিয়ে রকি ও শান্তসহ কয়েকজন মিলে মারপিট করে। এ ঘটনার বিচার করার জের ধরে ওই রাস্তা দিয়ে মোটর সাইকেলে যাওয়ার সময় দুই পক্ষের কয়েকজন কর্মীর মধ্যে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটে। এসময় যুবদল কর্মী বাপ্পির মোটর সাইকেল ভাঙচুর করা হয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। এক পর্যায়ে সেখানে এক পক্ষ ককটেল ও গুলিবর্ষণ করে আতঙ্ক সৃষ্টি করে। খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ এলে পুলিশের সামনেই রাসেল বাপ্পিকে মারপিট করে বলে অভিযোগ করে এক পক্ষ।

জানা গেছে, ঈশ্বরদীতে বিএনপির দুটি গ্রুপের এক পক্ষের নেতা হাবিবুর রহমান হাবিবের পক্ষে বাপ্পি এবং অন্য গ্রুপের নেতা জাকারিয়া পিন্টুর পক্ষে রয়েছেন রাসেল। বাপ্পি এবং রাসেলের মধ্যে উপজেলার সাহাপুর এলাকায় রাজনৈতিক আধিপত্যের জের ধরে এ ঘটনার সূত্রপাত বলে জানান এলাকার লোকজন।

সংঘর্ষের এক পর্যায়ে আরিয়ান, সোহাগ, নবী ও শাহীন নামের কয়েকজনকে আটক করে পুলিশের হাতে তুলে দেওয়া হলেও পুলিশ তাদের ছেড়ে দেয় বলে অভিযোগ করা হয়েছে। তবে পুলিশ জানিয়েছে তাদের আটক করা হয়নি। ঈশ্বরদী থানায় শামিনুর রহমান বাপ্পি ১১ জনকে আসামী করে লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

এ ঘটনা সম্পর্কে এক পক্ষের স্থানীয় নেতা উপজেলা ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক তানবির সুমন (আমেরিকান সুমন) বলেন, ছোটদের মধ্যে মারামারি ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে, আমরা মিমাংসা করার চেষ্টা করছি। অন্যপক্ষের স্থানীয় নেতা রাসেল পারভেজ জানান, আমরা রাজনৈতিক ও আইনগতভাবেই সমস্যার সমাধান করবো। ঘটনাস্থলে উপস্থিত ঈশ্বরদী থানার পরিদর্শক (পাকশী ফাঁড়ির ইনচার্জ) মনিরুল ইসলাম বলেন, সংঘর্ষের সময় পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিল। থানায় দায়ের করা লিখিত অভিযোগ তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ঈশ্বরদী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আসম আব্দুন নূর বলেন, ঈশ্বরদী থানায় এক পক্ষ মামলা দায়ের করেছেন। মামলা এখনো তদন্তনাধীন রয়েছে। তবে এখনো কোন আসামীকে গ্রেপ্তার করা যায়নি।