খাদ্যপণ্যে প্লাস্টিক ব্যাগের ব্যবহার, আইনের বাধ্যবাধকতা মানা হচ্ছে না কেন?
১৯টি পণ্যের মোড়কিকরণে পাটের বস্তা ব্যবহারে বাধ্যবাধকতা আছে। কিন্তু বাস্তবতা ভিন্ন। কিছু ব্যবসায়ী বাধ্যবাধকতা মানছেন না। চাল আমদানির ক্ষেত্রে এবং রাইস মিলগুলো দেদারসে প্লাস্টিকের ব্যাগ ব্যবহার করছে, যা ‘পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার আইন, ২০১০-এর আওতায় পণ্যে পাটজাত মোড়কের বাধ্যতামূলক ব্যবহার বিধিমালা, ২০১৩-এর স্পষ্ট লঙ্ঘন। বছর আটেক আগে এ বিষয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেয়ার জন্য বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডকে (এনবিআর) আবেদন করেছিল, যাতে প্লাস্টিকের বস্তায় চালের আমদানি বন্ধ করা হয়। কিন্তু বিষয়টির কোনোই সুরাহা হয়নি। তবে খাদ্য মন্ত্রণালয়ের অনুরোধে পাটের বস্তায় চাল আমদানির বাধ্যবাধকতার নিয়ম শিথিল করা হয়েছিল। এর ফলে ব্যবসায়ীরা প্লাস্টিকের বস্তায় চাল আনতে পারত। কিন্তু অলিখিতভাবেই সেই সুযোগ শুধু ২০১৭-এর ডিসেম্বর পর্যন্ত ছিল। ওই সুযোগ এখনও ‘সুযোগ’ হিসেবেই গন্য করা হচ্ছে। বিষয়টি আইনের স্পষ্ট ব্যত্যয় হলেও প্লাস্টিক ব্যাগে চাল আমদানি অব্যাহত আছে। দেশের বাজারেও প্লাস্টিক বস্তায় চাল বিকিকিনি হচ্ছে।
শুক্রবার (১২ সেপ্টেম্বর) সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত একটি প্রতিবেদন থেকে জানা যায়, চাল বাজারজাতকরণে পাটের বস্তা বাধ্যতামূলক হলেও চাঁপাইনবাবগঞ্জের চালকল মালিকেরা সে আইন মানছেন না। জেলার অটো রাইস মিলগুলোতে প্রতিদিন গড়ে প্রায় ১৭ হাজার মেট্রিক টন চাল উৎপাদন হয়। এসব চাল প্লাস্টিকের বস্তায় প্যাকেটজাত হয়ে রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে যায়।
তবে চালকল মালিকদের দাবির যুক্তিযুক্ততা আছে বলে মনে করেন তারা। তারা বলছেন, প্লাস্টিকের বস্তায় চাল বাজারজাত করলে খরচ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। একটি ৫০ কেজির পাটের বস্তার দাম রকমভেদে ৫০ থেকে ৫৭ টাকা, অথচ প্লাস্টিকের বস্তা পাওয়া যায় ২৫ থেকে ৩০ টাকায়। ফলে খরচ বাঁচাতে তারা প্লাস্টিকের বস্তাই বেছে নিচ্ছেন। এই বক্তব্য প্রমাণ করে যে, প্লাস্টিক ব্যাগ দেশের বাজারেই পাওয়া যায়। যা বাজারে সহজলভ্য ও সুলভে পাওয়া যায় এবং তা যদি উৎপাদন ব্যয় কমায়- সেক্ষেত্রে ব্যবসায়ীদের বিকল্পটাই বেছে নেয়াটা অস্বাভাবিক কিছু নয়। বাজারে প্লাস্টিক ব্যাগ বিক্রি আইনের পরিপন্থি, একই ভাবে প্লাস্টিকের ব্যাগ আমদানি ও তার ব্যবহারও বেআইনি। এই পরিস্থিতি এক ধরনের স্ববিরোধী প্রবণতার সৃষ্টি করেছে।
বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় থেকে প্রচারিত সতর্কিকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, পলিথিন ব্যাগ ও কৃত্রিম তন্তু দিয়ে তৈরি ডব্লিউপিপি মোড়ক মাটির গুণাগুণ নষ্ট করে এবং শত বছরেও পচে না। অপরদিকে, পাটের বস্তা বারবার ব্যবহারযোগ্য, সহজে পচনশীল, পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যসম্মত। পরিবেশবিদরা মনে করেন, প্লাস্টিকের ব্যবহার শুধু পরিবেশ নয়, কৃষিজমির উর্বরতাকেও হুমকির মুখে ফেলছে। দীর্ঘমেয়াদে এর প্রভাব ভয়াবহ হতে পারে।
নিষিদ্ধ প্লাস্টিক ব্যাগে চাল ও অন্য খাদ্য সামগ্রী আমদানি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে সুলভ মূল্যে ও সহজপ্রাপ্য হওয়ায় এর চাহিদা আছে। প্রকৃতঅর্থে প্লাস্টিকের ব্যবহার বন্ধে আইনের যথার্থ ও কঠোর প্রয়োগ নিশ্চিত করতে হবে। একইভাবে পাটের বস্তার দাম প্লাস্টিক ব্যাগের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হওয়া বাঞ্ছনীয়।