রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে কীটনাশকের ব্যবহার, জনস্বাস্থ্যের সাথে ভূ-প্রকৃতিরও বিপদ বাড়ছে

WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৪৫ পূর্বাহ্ন

সংবাদ মাধ্যমের তথ্য বলছে- বাংলাদেশে পাঁচ দশকে কীটনাশকের ব্যবহার ৪০ হাজার মেট্রিক টন বৃদ্ধি পেয়েছে। ১৯৭২ সালে দেশে কীটনাশকের ব্যবহারের পরিমাণ ছিল ৪ হাজার মেট্রিক টন, সেখানে ২০২২ সালে তা বেড়ে ৪০ হাজার মেট্রিক টনে দাঁড়িয়েছে। ধান, শাকসবজি ও ফলমূল উৎপাদনে এসব কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে। শুধু গত ৫ বছরের মধ্যে এর ব্যবহার বেড়েছে ৮১ দশমিক ৫ শতাংশ। ৯ সেপ্টেম্বর রাজধানীতে অনুষ্ঠিত জার্নালিস্ট ওয়ারিয়েন্টেশন ওয়ার্কশপ অন পেস্টিসাইড রিস্ক রিডাকশন শীর্ষক কর্মশালায় এই তথ্য জানান হয়। বলা হচ্ছে- কীটনাশকের ব্যবহার পোকা-মাকড় নিয়ন্ত্রণের জন্য হলেও এটি মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর।
কৃষি এখনো বাংলাদেশের অর্থনীতির অন্যতম চালিকা শক্তি। সেই কৃষিই এখন এক কঠিন বাস্তবতার মুখোমুখি। জমিতে লাগামহীন কীটনাশক ব্যবহারের ফলে জনস্বাস্থ্য তো বটেই ভূ-প্রকৃতিতে ভারসাম্যহীতারও সৃষ্টি করছে- যা টেকসই উন্নয়ন ধারণার পরিপন্থি।
কৃষিখাতে সারা বছরই উৎপাদন কর্মযজ্ঞ চলে। অথচ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি নির্ভর জ্ঞান কৃষকদের মধ্যে নেয়া সম্ভব হয় নি। এই ব্যর্থতার বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয় কিন্তু সমস্যা নিরসনের কোনো কার্যকর পদক্ষেপ লক্ষনীয় নয়। কৃষককে এই একবিংশ শতাব্দিতে এসে মাত্রাজ্ঞানসম্পন্ন করে কীটনাশক ও রাসায়নিক সার ব্যবহারের উপযোগী করে তোলা যায় নি। অধিকাংশ কৃষক সঠিক নিয়ম না জেনে কীটনাশক প্রয়োগ করেন, আবার অনেকে একাধিক কীটনাশক একসঙ্গে মিশিয়ে ব্যবহার করেন, যার ফলে খাদ্যে থেকে যায় বিপজ্জনক মাত্রায় রাসায়নিক অবশিষ্টাংশ। এসব বিষাক্ত পদার্থ খাদ্যচক্রে প্রবেশ করে মানুষের শরীরে জমা হয়ে সৃষ্টি করছে ক্যান্সার, কিডনি রোগ, হরমোনজনিত জটিলতা ও প্রজনন সমস্যার মতো কঠিন রোগব্যাধি।
শুধু তাই নয়, বিশেষজ্ঞরা বলছেন- অতিরিক্ত কীটনাশক ব্যবহারের ফলে মাটির স্বাভাবিক উর্বরতা কমে যাচ্ছে এবং ভূগর্ভস্থ ও ভূ-পৃষ্ঠের পানির মানও দিন দিন খারাপ হচ্ছে। একই সঙ্গে মাছ, মৌমাছি, গবাদিপশু ও অন্যান্য উপকারী প্রাণীর জীবনও এই বিষক্রিয়ার কারণে হুমকির মুখে পড়েছে, যা দেশের মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের জন্য বড় ধরনের সংকট ডেকে আনছে।
যদিও দেশে কীটনাশকের ব্যবহার নিয়ন্ত্রণে আইন আছে, কিন্তু বাস্তবে এর সঠিক বাস্তবায়ন খুবই দুর্বল। আইনের প্রয়োগসহ প্রশিক্ষিত কৃষক সমাজই পারে পরিবেশবান্ধব কৃষি পদ্ধতির বাস্তবায়ন ও প্রসার ঘটাতে। এরজন্য সরকারের সদিচ্ছা, সমন্বিত পরিকল্পনা-কৌশল এবং কার্যকর পরিবীক্ষণ ব্যবস্থা নিশ্চিত করা।