রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

পুঁজি হারাতে বসেছেন আলু ব্যবসায়ীরা, সরকারি ঘোষণার দ্রুত বাস্তবায়ন হোক

WP Import ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৫ ১২:৩৮ পূর্বাহ্ন

রাজশাহী অঞ্চলের আলুচাষি ও ব্যবসায়ীরা এমন প্রতিকূল পরিস্থিতির মুখে এর আগে সম্ভবত পড়েন নি এর আগে। সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- হিমাগারে আলু সংরক্ষণ করে লাভের মুখ দেখা তো দূরের কথা এবার পুঁজি হারাতে হচ্ছে। স্বাভাবিকভাবেই সংশ্লিষ্টদের মাথায় হাত।
কৃষি মন্ত্রণালয় গত ২৭ আগস্ট, ২০২৫ আলুর ন্যায্য মূল্য নিশ্চিত করতে ও কৃষকদের ক্ষতি থেকে বাঁচাতে কোল্ড স্টোরেজ গেট পর্যায়ে প্রতি কেজি আলুর সর্বনিম্ন দাম ২২ টাকা নির্ধারণ করেছে। এর পাশাপাশি, সরকার ৫০ হাজার মেট্রিক টন আলু নিজস্ব উদ্যোগে ক্রয় করে হিমাগারে সংরক্ষণ করবে, যা পরবর্তীতে অক্টোবর-নভেম্বর মাসে বাজারে বিক্রি করা হবে। ১২ দিন অতিবাহিত হলে সরকারের ওই ঘোষণা বাস্তবায়নের কোনো উদ্যোগ নেয়া হয় নি। রোববার (৭ সেপ্টেম্বর) পর্যন্ত হিমাগার ফটকে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু। বরং চাষি ও ব্যবসায়ীরা বলছেন, হিমাগারে আলুর দাম কেজিতে ১ টাকা কমে গেছে। কয়েকদিন আগেও ১৪ থেকে ১৫ টাকা বিক্রি হলেও রোববার তা ১৩ থেকে ১৪ টাকায় বিক্রি করতে হয়েছে। এই পরিস্থিতি চাষি ও ব্যবসায়ীরা মূলধন বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন। আলু এখন তাদের গলার কাঁটা হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে এখনো ৭০ ভাগ সংরক্ষিত আলুর মজুত রয়ে গেছে।
রাজশাহী, বগুড়া ও রংপুর অঞ্চলের হিমাগারগুলোতে আগের দামেই বিক্রি হচ্ছে আলু। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে নভেম্বরের শেষের দিকে আগাম নতুন আলু উঠবে। তখন পুরাতন আলুর চাহিদা অনেক কমে যাবে। তাই সরকারের গৃহীত পদক্ষেপ অনুযায়ী আলু বিক্রি না হলে ব্যবসায়ী, কৃষক ও হিমাগার মালিকদের পুঁজি হারিয়ে পথে বসতে হবে। সরকার যে পদক্ষেপ নিয়েছে সেটাও বাস্তবায়িত হলে ক্ষতির পরিমাণ কিছুটা লাঘব করা যাবে। এই মুহূর্তে যেটা দরকার তা হলো সরকারের ঘোষণা বাস্তবায়ন করা। সরকারি পর্যায়ে ৫০ হাজার টন আলু ক্রয় এবং হিমাগারের আলুর কেজি ২২ টাকা নিশ্চিত করা সময়ের দাবি।