বাগমারায় বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহল জব্দ, অ্যালকোহলের বেচাকেনা নিয়মিত মনিটরিং হোক
রাজশাহীতে হোমিওপ্যাথি ওষুধ ব্যবসার আড়ালে কতিপয় ব্যবসায়ী নেশাদ্রব্য হিসেবে অ্যাকোহলের ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। ওইসব অ্যালকোহল পান করে বিষক্রিয়ায় প্রায়ই মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া যায়। কিন্তু হোমিওপ্যাথি ওষুধের আড়ালে অ্যালকোহর বিক্রি বন্ধ হয়নি। ৪ সেপ্টেম্বর জেলার বাগমারা উপজেলার ভবানীগঞ্জ বাজারে র্যাব-৫ এর সদস্যরা অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমাণ অ্যালকোহণসহ এক ব্যবসায়ীকে গ্রেফতার করেছে। এ সংক্রান্ত একটি প্রতিবেদন সোনার দেশ পত্রিকায় প্রকাশিত হয়েছে। ধৃত আসামী আস্তানুর রহমানের গুদামঘর থেকে ৫ হাজার ৫২০ বোতল অ্যালকোহল জব্দ করা হয়। এসব অ্যালকোহল সাধারণত নেশাদ্রব্য হিসেবেই ব্যবহার হয়। এলাকার তরুণরাই বেশি অ্যালকোহলে আসক্ত হয়ে থাকে। একই সাথে অ্যালকোহল পানের কারণে মৃত্যুর ঘটনাও ঘটে। র্যাব সূত্র জানায়, আস্তানুরের ড্রাগ লাইসেন্সের মেয়াদ প্রায় আড়াই বছর আগে শেষ হয়ে গেছে। এরপর থেকে তিনি সুকৌশলে অবৈধভাবে অ্যালকোহল বিক্রি করে আসছিলেন।
বাংলাদেশে অ্যালকোহল পানের নির্দিষ্ট মৃত্যুহার নির্ণয় করা কঠিন। তবে ভেজাল অ্যালকোহল পানের কারণে মৃত্যুর অনেক ঘটনা ঘটে থাকে, যা প্রায়শই সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত হয়। গত কয়েক বছরে ঢাকাসহ বিভিন্ন জেলায় ভেজাল অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত অ্যালকোহল পানের ফলে একাধিক মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। বাংলাদেশে অ্যালকোহল পানের কারণে মৃত্যুর একটি সুনির্দিষ্ট ও সার্বিক পরিসংখ্যানগত তথ্য পাওয়া যায় না, কারণ এক্ষেত্রে বেশিরভাগ ঘটনাই ঘটে ভেজাল অ্যালকোহল বা অতিরিক্ত মদ্যপানের ফলে।
সংবাদ মাধ্যম সূত্র থেকে জানা যায়, বিশ্বব্যাপী মদ সেবনের ক্ষতিকর প্রভাবে প্রতি বছর মারা যায় ৩০ লাখ মানুষ। মদের ক্ষতিকর প্রভাবে দুশো ধরনের রোগ ও ইনজুরিতে আক্রান্ত হয় মানুষ। ৩ দশমিক ২০ থেকে ৩৯ বছর বয়সী যারা মারা যায় তাদের মধ্যে সাড়ে ১৩ শতাংশই মদ্যপানজনিত কারণে মারা যায়। মদ সেবনের প্রতিক্রিয়ায় অনেকের মধ্যেই মানসিক ও আচরণগত সমস্যা দেখা দেয়।
বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সীদের শূন্য দশমিক আট শতাংশ মানুষ মদ পান করে। এর মধ্যে পুরুষের সংখ্যাই সিংহভাগ। মদ্যপানের কারণে যেসব রোগ বা সমস্যায় আক্রান্ত হওয়ার প্রবণতা বেশি তার মধ্যে রয়েছে লিভার সিরোসিস ও ক্যানসার। যদিও বাংলাদেশে মদের বিষয়ে বেশ কড়াকড়ি আইন আছে। বিয়ার, ওয়াইন, হুইস্কি কিংবা ভদকার মতো মদের ওপর উচ্চ হারে শুল্কের বিধানও আছে।
চাইলেই যেখানে সেখানে মদ বিক্রি করা যায় না এমন কী মদ সেবনেও বিধিনিষেধ আছে। তবে মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা খুবই দুর্বল। ফলে দেশের সর্বত্রই অ্যালকোহল হাতের নাগালের মধ্যেই পাওয়া যায়। অপেক্ষাকৃত দাম কম হওয়ায় তরুণ রা অ্যালকোহলে আসক্ত হচ্ছেন। ফলে অ্যালকোহলপান জনিত মৃত্যুর হার বাড়ছেই।
অ্যালকোহল পানের কারণে মৃত্যুর একটি সুনির্দিষ্ট ও সার্বিক পরিসংখ্যানগত তথ্য থাকা বাঞ্ছনীয়। একইভাবে অ্যালকোহলের বেচাকেনার ক্ষেত্রে নিয়মিত মনিটরিং ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হবে।
মাদক নিয়ন্ত্রণ অধিদফতরের কর্মকর্তাদের দাবি, দেশজুড়ে বিদেশি মদের ক্ষেত্রে কিছুটা কড়াকড়ি সম্ভব হলেও দেশীয়ভাবে বিভিন্ন জায়গায় তৈরি মদ প্রতিরোধে কিছুটা শিথিলতা রয়েছে।
যদিও এর কারণ সম্পর্কে তারা কোনো মন্তব্য করতে রাজী হননি। আর যারা মদ সেবন করেন তাদের কারও কারও লাইসেন্স থাকলেও অনেকেরই মদ কেনার কোনো অনুমতি নেই।
মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদফতর মাঝে মাঝে বিভিন্ন ক্লাব ও পানশালায় অভিযান চালিয়ে মদ বাজেয়াপ্ত করছে, এমন খবরও গণমাধ্যমে মাঝে মধ্যেই প্রকাশিত হয়।