রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির ব্যাবহার কমিয়ে বিনা-১৯ ও ২১ ধান চাষাবাদের তাগিদ

WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৯ অপরাহ্ন
WP Import ৩১ আগস্ট ২০২৫ ১০:২৯ অপরাহ্ন
বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির ব্যাবহার কমিয়ে বিনা-১৯ ও ২১ ধান চাষাবাদের তাগিদ
বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির ব্যাবহার কমিয়ে বিনা-১৯ ও ২১ ধান চাষাবাদের তাগিদ

চাঁপাইনবাবগঞ্জ প্রতিনিধি:


ভূ-গর্ভস্থ পানির সংকটে থাকা বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বিনা উদ্ভাবিত বিনা-১৯ ও বিনা-২১ জাতের ধান চাষাবাদের আহ্বান জানিয়েছেন গবেষক ও কৃষি কর্মকর্তারা।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার ইসলামপুর ইউনিয়ন লক্ষীনারায়ণপুর পোড়াগ্রাম ও দেবিনগর ইউনিয়নের গ্রামে পৃথক দুটি মাঠদিবসে উচ্চ ফলনশীল জাত চাষাবাদের গুরুত্ব তুলে ধরেন তারা।

রোববার (৩১ আগস্ট) বিকেলে বাংলাদেশ পরমানু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বিনা উদ্ভাবিত খরা সহিষ্ণু, উচ্চ ফলনশীল স্বল্পমেয়াদি ধানের জাত বিনা-১৯ ও বিনা ধান-২১ এর চাষাবাদ বৃদ্ধি ও সম্প্রসারণে মাঠ দিবস অনুষ্ঠিত হয়েছে। সদর উপজেলা কৃষি অফিসের সহযোগিতায় মাঠ দিবসের অনুষ্ঠান বাস্তবায়ন করে বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বিনা উপকেন্দ্র চাঁপাইনবাবগঞ্জ।

মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে কৃষক-কৃষণীদের উদ্দেশ্যে কৃষি কর্মকর্তা ও বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তারা বলেন, খরাপ্রবণ এলাকা হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জের বরেন্দ্র অঞ্চলের জন্য উপযোগী বিনা-১৯ ও বিনা ধান-২১। বিভিন্ন মাঠে এই ধানের চাষাবাদ করে ৯৫-১০০ দিনের মধ্যেই ভালো ফলন পাওয়া গেছে। আগামীতে কৃষকদের মাঝে নতুন জাতের এই ধানের বীজ সরবরাহের আশ্বাস দেন তারা।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী বলেন, বরেন্দ্র অঞ্চলে পানির তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। ভূ-গর্ভস্থ পানির ব্যবহার কমাতে কৃষকদের বিকল্প ফসল চাষাবাদে উৎসাহ দেয়া হচ্ছে। এই অঞ্চলের জন্য সবচেয়ে চাষাবাদ উপযোগী ধানের ফসল হতে পারে বিনা-১৯ ও বিনা-২১ ধান। কারণ এই জাতের ধান তুলনামূলক কম পানিতে চাষাবাদ করা যায়। এছাড়াও এই জাতটি অপেক্ষাকৃত খরা সহিষ্ণু ও উচ্চ ফলনশীল হওয়ায় বাড়তি সুবিধা রয়েছে।

তিনি আরো বলেন, সার প্রয়োগে আরও বেশি সতর্ক হতে কৃষক ভাইদের। অতিরিক্ত বা মাত্রাতিরিক্ত সার ব্যবহার করা যাবে না। উপ সহকারী কৃষি কর্মকর্তা বা কৃষি অফিসের পরামর্শ নিয়ে সঠিক মাত্রায় সার প্রয়োগ করতে হবে। কারন প্রয়োজনের অতিরিক্ত সার প্রয়োগের কারনে জমির গুণাগুন নষ্ট হয়। এসময় নদী তীরবর্তী নিম্নঞ্চলের প্লাবিত হওয়া ফসলের ক্ষতিপূরণে সহায়তার আশ্বাস দেন তিনি।
মাঠ দিবসের অনুষ্ঠানে ভিডিও কনফারেন্সের মাধ্যমে প্রধান অতিথির বক্তব্য রাখেন, বাংলাদেশ পরমাণু কৃষি গবেষণা ইন্সটিটিউট-বিনা’র মহাপরিচালক ড. মো. আবুল কালাম আজাদ।

চাঁপাইনবাবগঞ্জ বিনা উপকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ড. মো. আজাদুল হকের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথির বক্তব্য রাখেন, বিনা’র গবেষণা কার্যক্রম শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের প্রকল্প পরিচালক ড. মো. মাহবুবুল আলম তরফদার, উপ-প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আশিকুর রহমান, চাঁপাইনবাবগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক ড. মো. ইয়াছিন আলী, সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা সুনাইন বিন জামান।