শ্বাসের সাথে ৬৮ হাজার ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণার ঝুঁকি! প্লাস্টিকের বিকল্প খুঁজে নিতে হবে
মানুষের জীবন-যাপনকে সহজ করে তোলা প্লাস্টিকপণ্য এখন সারা বিশ্বের জন্য প্রকট সমস্যা। এই সমস্যা দিন দিন এতো ভয়ঙ্কর বিপদের সম্মুখিন করেছে যা বিশ^ মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে। এর একটি টেকসই সুরাহা না হলে পরিবেশ ও প্রাণ প্রকারের সর্বনাশ ঘটে যাবে।
প্লস ওয়ান নামের একটি সাময়িকীতে প্রকাশিত নতুন গবেষণা প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, মানুষ তাদের বাড়িতে বা গাড়িতে প্রতিবার নিঃশ্বাস নেয়ার সময় সম্ভবত উল্লেখযোগ্য পরিমাণে মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা গ্রহণ করে। এই কণা ফুসফুসের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। সংবাদ মাধ্যমে এই গবেষণার তথ্য উঠে এসেছে। গবেষণায় অনুমান করা হয়েছে যে, মানুষ প্রতিদিন ৬৮ হাজার পর্যন্ত ক্ষুদ্র প্লাস্টিক কণা শ্বাসের মাধ্যমে নিতে পারে। এর আগের গবেষণাগুলোতে বায়ুবাহিত মাইক্রোপ্লাস্টিকের বৃহৎ টুকরো চিহ্নিত করা হয়েছিল। তবে এগুলি স্বাস্থ্যের জন্য তেমন হুমকিস্বরূপ নয় বলা হয়েছিল। কারণ এগুলো বাতাসে দীর্ঘক্ষণ ভেসে থাকে না বা ফুসফুসতন্ত্রের গভীরে চলে যায় না।
নতুন গবেষণা প্রতিবেদনের লেখকরা জানিয়েছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের কণাগুলো ১ থেকে ১০ মাইক্রোমিটারের মধ্যে অথবা মানুষের চুলের পুরুত্বের প্রায় এক-সপ্তমাংশ। এগুলো স্বাস্থ্যের জন্য আরো হুমকিস্বরূপ। কারণ এগুলো সহজেই সারা শরীরে ছড়িয়ে যেতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র টুকরো যা ইচ্ছাকৃতভাবে ভোগ্যপণ্যে যোগ করা হয়, অথবা বৃহত্তর প্লাস্টিকের তৈরি পণ্য যা ভেঙে যায়। কণাগুলোতে ১৬ হাজার প্লাস্টিক রাসায়নিক রয়েছে, যার মধ্যে অনেকগুলো গুরুতর স্বাস্থ্য ঝুঁকি তৈরি করে।
এই তথ্য জনস্বাস্থ্যের ওপর বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির ইঙ্গিত দিচ্ছে। একই সাথে বিশ^বাসীকে এই সতর্কতা জানাচ্ছে যে, সমস্যা নিয়ে গভীর ভাবনার সময় এখনই। প্লাস্টিক পণ্য শুধু যে স্বাস্থ্যিঝুঁকি তৈরি করেছে তাই নয়- প্রাকৃতিক এবং সামাজিকভাবেই সমস্যাকে প্রকট করে তুলেছে।
প্লাস্টিক নিয়ে প্রতিনিয়ত আশঙ্কা ও উদ্বেগের কথাই বলছেন পরিবেশ বিজ্ঞানীরা। দূষণজনিত ক্ষতি নিয়ে কারো কোনো দ্বিমত নেই। প্লাস্টিক নানা বিঘœ ঘটাচ্ছে মানুষের দৈনন্দিন জীবনধারায়। প্লাস্টিক বর্জ্য দেশের বড় বড় শহরের ড্রেনেজ ব্যবস্থা অচল করে দিচ্ছে। বাংলাদেশে পলিথিনবিরোধী আন্দোলন শুরু হয়েছিল মূলত এ কারণেই। পলিথিনের উৎপাদন এবং ব্যবহার নিষিদ্ধ করে আইন করা হয়েছে। তাতেও ফল হয়নি। কেননা প্লাস্টিক পণ্য মানুষের অভ্যাসের মধ্যে এমন ছাপ ফেলেছে যে, তা জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। প্লাস্টিক পণ্য ও পলিথিনের ব্যবহারে কোনো কোনো ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হলেও এর বিকল্প কিছুই মানুষের সামনে আনা সম্ভব হয় নি। যা মানুষের জন্য সুলভ, সহজ ও বহনযোগ্যরূপে ব্যবহার হবে। শুধু আমাদের দেশে কেন, বিশ্বের কোনো দেশই পারেনি প্লাস্টিক-পলিথিন থেকে শতভাগ বের হয়ে আসতে। তবে অধিকাংশ দেশই সঠিক ব্যবস্থাপনায় এর ক্ষতি কমিয়ে এনেছে। ওইসব দেশের অভিজ্ঞতাগুলো বাংলাদেশে প্লাস্টিক ও পলিথিন ব্যবহার সংকোচনে অনুশীলন করা যেতে পারে।
প্লাস্টিক কণা থেকে মুক্তি পাওয়ার জন্য, প্লাস্টিকের ব্যবহার কমিয়ে পুনরায় ব্যবহারযোগ্য বিকল্প যেমন কাপড়ের ব্যাগ, স্টিল বা কাঁচের বোতল ব্যবহার করা যেতে পারে। খাদ্যাভ্যাসে ফাইবার-সমৃদ্ধ খাবার ও সবজি বাড়ানো এবং প্লাস্টিক পণ্যের সঠিক পুনর্ব্যবহার ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে প্লাস্টিক দূষণ কমানো সম্ভব।