রবিবার, আগস্ট ২৩, ২০২৬

রোহিঙ্গা শরণার্থী প্রত্যাবসনে পশ্চিমের ১১ দেশ, শরণার্থী সমস্যা আর যাতে বিশ^ রাজনীতি অংশ না হয়!

WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন সম্পাদকীয়
WP Import ২৬ আগস্ট ২০২৫ ১২:৩০ পূর্বাহ্ন

বিশ্ব নেতাদের অনেক প্রতিশ্রুতি ছিল, কিন্তু তার প্রতিপালন হয়নি। ওরা কেউ কথা রাখে নি। অথচ ৮ বছর পার হয়েছে। বাংলাদেশে আশ্রয়ী রোহিঙ্গারা স্বদেশে ফিরতে পারে নি। মানবিক বিপর্যায়ের মধ্যেই তাদের জীবন-জীবিকা চলছে। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দেয়ার জন্য বিশ্ব নেতৃত্ব বাংলাদেশকে আশ্বস্ত করেছিল- সব ধরনের সাহায্য সহযোগিতা দেয়া হবে, আশ্রয়ী রোহিঙ্গারা শিগগিরই স্বভূমে ফিরে যাবে। বর্তমানে সহায়তায় বড় ধরনের কোপ পড়েছে, রোহিঙ্গা প্রত্যাবসন নিয়ে শুধুই অনিশ্চয়তা। বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা ছিল আন্তর্জাতিক, কিন্তু এই মুহূর্তে এটা বিশ্বাস করার যখেষ্ট কারণ আছে যে, সমস্যা বাংলাদেশের, বাংলাদেশের দিকেই ঠেলে দেয়া হচ্ছে।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনির হত্যা ও নির্যাতনের মুখে ২০১৭ সালে লাখ লাখ রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। রোহিঙ্গাদের আশ্রয় দিয়ে এর মধ্যেই অর্থনীতি ও নিরাপত্তা নিয়ে বাংলাদেশের উদ্বেগ চরমে উঠেছে। আট বছরেও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন না হওয়ায় কক্সবাজারের স্থানীয়রা শঙ্কিত। কারণ দীর্ঘ মেয়াদে বিপুল সংখ্যক রোহিঙ্গার অবস্থান সামাজিক, অর্থনৈতিক ও নিরাপত্তা ঝুঁকি বাড়াচ্ছে। তাদের অপরাধ কর্মকান্ডের কারণে সেখানের পরিবেশ পরিস্থিতি নষ্ট হচ্ছে। স্থানীয় বাসিন্দারা দ্রুত রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের দাবি জানিয়েছেন। কারণ তারা মনে করেন, তারা ফেরত গেলে সংকট সমাধান এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাপন সহজ হবে।
জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও কক্সবাজার শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনারের (আরআরআরসি) কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্পে বর্তমান নিবন্ধিত রোহিঙ্গার সংখ্যা সাড়ে ১২ লাখ। এর মধ্যে আট লাখ এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পরের কয়েক মাসে। ইতোমধ্যে সীমান্ত পেরিয়ে ২০২৪ সালের জানুয়ারি থেকে গত জুন পর্যন্ত রোহিঙ্গা ক্যাম্পগুলোতে আরো দেড় লাখ রোহিঙ্গা আশ্রয় নিয়েছেন। সবমিলিয়ে ১৪ লাখের বেশি রোহিঙ্গা কক্সবাজারে অবস্থান করছেন। বিশ্বের সর্বাধিক শরণার্থী অধ্যৃষিত দেশ বাংলাদেশ। গত আট বছরে একজন রোহিঙ্গাকেও মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো যায়নি।
রোহিঙ্গা সংকটকে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আরো জোরালোভাবে তুলে ধরতে রোববার (২৪ আগস্ট) থেকে কক্সবাজারে শুরু হয়েছে তিন দিনের আন্তর্জাতিক সংলাপ ‘স্টেকহোল্ডার্স’ ডায়ালগ: টেকঅ্যাওয়ে টু দ্য হাই-লেভেল কনফারেন্স অন দ্য রোহিঙ্গা সিচুয়েশন’। এই সংলাপ আয়োজন নতুন করে আশা জাগাচ্ছে।
রোহিঙ্গারা যাতে তাদের দেশে প্রত্যাবর্তন করতে পারে, সেইপথ খুঁজে বের করার অঙ্গীকার জানিয়েছে পশ্চিমা বিশ্বের ১১টি দেশ। রোহিঙ্গা সংকটের আট বছর পূর্তিতে সোমবার ঢাকায় দেশগুলোর মিশন এক যৌথ বিবৃতিতে এ সমস্যার সমাধানে বাংলাদেশের পাশে থাকারও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে।
ফ্রান্স দূতাবাস তাদের এক্স হ্যান্ডেল ও ফেইসবুক পেইজে ওই যৌথ বিবৃতি প্রকাশ করেছে। ফ্রান্স ছাড়াও বিবৃতিদাতা দেশগুলোর মধ্যে আছে অস্ট্রেলিয়া, ইতালি, যুক্তরাজ্য, কানাডা, নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, ডেনমার্ক, সুইডেন, সুইজারল্যান্ড ও ফিনল্যান্ড।
এই প্রতিশ্রতি কতটুকু বাস্তবায়িত হবে তার জন্য আমাদের অপেক্ষা করতে হবে। তবে প্রতিশ্রুতি যথাসম্ভব রক্ষা করা হবে সে সে ব্যাপারেও বাংলাদেশকে আশাবাদী হতে হবে। ১১ টি দেশের প্রতিশ্রতি এই সাক্ষ্য দেয় যে বাংলাদেশের শরণার্থী সমস্যা শুধু বাংলাদেশের নয়- এটা আন্তর্জাতিক সমস্যা। শরণার্থী সমস্যা যাতে বিশ^ রাজনীতির অংশ না হতে পারে সে ব্যাপারে বাংলাদেশ এবং প্রতিশ্রুতি দেয়া দেশগুলোকে সতর্ক থাকা বাঞ্ছনীয় হবে।