বাদশা কেন ‘দুস্থদের ভগবান’ জানেন?
নাইট দলে বাংলাদেশি পেসার মুস্তাফিজুর রহমানকে নেওয়ায় জোর বিতর্কের পড়েছেন শাহরুখ খান। শুনতে হচ্ছে ‘দেশদ্রোহী’ খোঁটাও! এই অবশ্য প্রথম নয়, এর আগেও ‘খান’ পদবীর জেরে পদে-পদে তাঁর নামের পাশের ‘দেশবিরোধী’ তকমা সাঁটা হয়েছে। কিন্তু কোনওদিন পালটা শব্দাঘাতে জবাব ছোড়েননি! বরং নিঃশব্দেই মানুষের পাশে থেকে বুঝিয়ে দিয়েছেন কেন তিনি দুস্থদের ভগবান হওয়ার পাশাপাশি সচ্চা দেশভক্ত।
সিনেমার পর্দায় একাধিকবার দেশপ্রেমের গাঁথা বুনেছেন শাহরুখ। কিন্তু বাস্তবজীবনেও ‘জননায়কে’র থেকে কম কিছু নন তিনি। কখনও বন্যাবিধ্বস্ত গ্রাম দত্তক নিয়েছেন তো কখনও বা আবার কোভিডকালে দুস্থদের মুখে ভাত তুলে দিয়েছেন মাসের পর মাস। তবে সবটাই নিঃশব্দে। কোনওরকম ঢক্কা নিনাদ ছাড়া। শাহরুখের দেশভক্তির সেরকমই কিছু নিদর্শন রইল।
২০০৯ সালে ওড়িশার একটা আস্ত গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন কিং খান। কেন? না, অন্ধকারে ডুবে থাকে সেই গ্রামকে আলোয় আলোকিত করার জন্য। শুধু তাই নয়, একবার আইপিএল-এর গোটা পুরস্কারমূল্যই তুলে দিয়েছিলেন ক্যানসার আক্রান্তদের চিকিৎসার জন্য।
২০১২ সালে ১২টি গ্রাম দত্তক নিয়েছিলেন সেখানকার উন্নতিসাধনের জন্য। মনমোহন সিং প্রধানমন্ত্রী পদে থাকাকালীন সুনামির ত্রাণ তহবিলে ২৫ লক্ষ টাকা অনুদান দেন শাহরুখ খান।
শুধু তাই নয়, নানাবতী হাসপাতালে শিশুরোগ চিকিৎসার জন্য আস্ত একটা ওয়ার্ড গড়ে তুলতে টাকা দিয়েছিলেন শাহরুখ। যেখানে ক্যানসার চিকিৎসাও হয় বলে জানা গিয়েছে। যেখানেও আজও শয়ে শয়ে রোগী চিকিৎসা করাতে আসেন রোজ।
২০১৪ সালে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অর্থনৈতিক কাঠামো ঠিক করার জন্য মোট ২৫ কোটি টাকা অনুদান দিয়েছিলেন কিং খান। পরের বছরই চেন্নাইয়ের বন্যা ত্রাণ তহবিলে ১ কোটি টাকা এবং ১০ কোটি টাকা দিয়েছিলেন উত্তরাখণ্ডের রাজ্য সরকারের তহবিলে।
এছাড়াও বাবার নামে শুরু করা শাহরুখের মীর ফাউন্ডেশনে অ্যাসিড আক্রান্তদের বিনামূল্যে চিকিৎসা পরিষেবা দেওয়ার পাশাপাশি যে কোনওরকম আইনি সহায়তাও করা হয়।
কোভিডকালে গোটা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ৫০ হাজার পিপিই কিট পাঠান কিং খান। গতবছর বন্যাবিধ্বস্ত পাঞ্জাবের ১৫০০ পরিবারের ভরণপোষণের দায়িত্ব নিয়েছিলেন শাহরুখ খান। আর বরাবর প্রচারের অন্তরালেই রেখেছেন নিজের দানধ্যানের কথা। সেইজন্যেই শাহরুখ খান আজ বিশ্বের লক্ষ লক্ষ অনুরাগীদের মনের বাদশা।
তথ্যসূত্র: সংবাদ প্রতিদিন অনলাইন