আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে চায়না কমলার সম্ভাবনা
আমের রাজধানী চাঁপাইনবাবগঞ্জে এবার সম্ভাবনার নতুন বিদেশি ফল চায়না কমলা। আমদানি নির্ভর এ ফল স্থানীয়ভাবে চাষ করে লাভবান হচ্ছেন কৃষকেরা। এতে একদিকে যেমন কৃষকের আয় বাড়ছে; অন্যদিকে কমছে বিদেশি কমলা আমদানির ওপর নির্ভরতা।
সদর উপজেলার রানিহাটি ইউনিয়নের রামচন্দ্রপুরহাট গ্রামে সফলভাবে চায়না কমলা চাষ করছেন কৃষক সায়েম আলী। আমের ব্যবসায় লোকসান গুনে ২০২২ সালে বিকল্প হিসেবে কমলা চাষ শুরু করেন তিনি। দুই বছরের মধ্যেই ঘুরে দাঁড়িয়েছেন এই কৃষক।
তিনি বলেন, ‘কৃষি বিভাগের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত পরিচর্যা করেছি। ফলন অনেক ভালো হয়েছে। ২০২৪ সালেই আমার সব খরচ উঠে গেছে। এবার ৩ বিঘা জমিতে চাষ করে প্রায় ৮ লাখ টাকার কমলা বিক্রির আশা করছেন তিনি।
প্রতিদিনই বিভিন্ন এলাকা থেকে কৃষক, উদ্যোক্তা ও আগ্রহী মানুষ আসেন তার বাগান দেখতে। অনেকেই কমলার ফলন, গাছের পরিচর্যা ও চাষপদ্ধতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
স্থানীয় কৃষক আজিজুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা আগে ভাবতাম কমলা শুধু পাহাড়ি এলাকায় হয়। এখানে এত ভালো ফলন দেখে আমরাও চাষে আগ্রহী হচ্ছি।
উদ্যোক্তা তারেক রহমান বলেন, ‘বাজারে এই কমলার চাহিদা ভালো, দামও পাওয়া যাচ্ছে। বাণিজ্যিকভাবে চাষ করা গেলে বড় সম্ভাবনা আছে এ নতুন জাতের কমলায়।
কৃষি বিভাগ বলছে, চাঁপাইনবাবগঞ্জের মাটি ও জলবায়ু কমলা চাষের জন্য বেশ উপযোগী। পরিকল্পিতভাবে চাষ বাড়ানো গেলে জেলায় বিদেশি ফল উৎপাদনে নতুন দিগন্ত তৈরি হবে।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা মো. সুনাইন বিন জামান জাগো নিউজকে বলেন, ‘এ অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া চায়না কমলা চাষের জন্য উপযোগী। কৃষকেরা আগ্রহী হলে আমরা প্রযুক্তিগত সহায়তা দিচ্ছি। এতে উৎপাদন আরও বাড়ানো সম্ভব।’
জেলায় কমলার আবাদ বাড়াতে কৃষি বিভাগ কাজ করছে বলে জানিয়েছেন জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের অতিরিক্ত উপপরিচালক (উদ্ভিদ সংরক্ষণ) আমির আব্দুল্লাহ মো. ওয়াহিদুজ্জামান। তিনি বলেন, ‘স্বাদ ও বাজারমূল্য ভালো হওয়ায় চাঁপাইনবাবগঞ্জে কমলার চাষ দিন দিন বৃদ্ধি পাচ্ছে। এ ফসল কৃষকের আয় বৃদ্ধির পাশাপাশি বিদেশি ফল আমদানি কমাতে সহায়ক হবে।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে জেলায় প্রায় ১৬৫ হেক্টর জমিতে কমলার চাষ হয়েছে। আমের রাজধানীতে এই জেলায় বিদেশি ফল কমলা এখন নতুন সম্ভাবনার প্রতীক ও কৃষকের আস্থার ফসল হিসেবে নতুন করে যাযগা করে নিয়েছে।