শুক্রবার, আগস্ট ২৮, ২০২৬
বদলগাছীতে খাজনার নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং

ইউএনও’র বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০২ অপরাহ্ন রাজশাহী অঞ্চল
বদলগাছী (নওগাঁ) প্রতিনিধি ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:০২ অপরাহ্ন
ইউএনও’র বিরুদ্ধে ভুক্তভোগীকে তুলে নিয়ে গিয়ে মারধরের অভিযোগ

নওগাঁর বদলগাছী উপজেলায় জমির খাজনা আদায়ের নিয়ম পরিবর্তনের দাবিতে মাইকিং করার অভিযোগে এক ব্যক্তিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) কার্যালয়ে তুলে নিয়ে গিয়ে গালিগালাজ ও মারধরের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।


বুধবার (১ এপ্রিল) বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে উপজেলা ভূমি অফিসে এ ঘটনা ঘটে বলে জানা গেছে। ভুক্তভোগী হোসাইন মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান টুটুল অভিযোগ করেন, একই খতিয়ানের আওতাধীন মোট জমির ওপর খাজনা দেওয়ার বাধ্যবাধকতার বিরুদ্ধে সচেতনতা তৈরি করতে তিনি মাইকিং করছিলেন। এ সময় তাকে জোরপূর্বক ইউএনও কার্যালয়ে নিয়ে যাওয়া হয় এবং সেখানে গালিগালাজ ও শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয়।


ভুক্তভোগী টুটুল উপজেলার কোলাহাট ইউনিয়নের কয়াভবানীপুর গ্রামের বাসিন্দা এবং রজনীগন্ধা ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান। তিনি জানান, তার নামে মাত্র ৫ কাঠা জমি থাকলেও খতিয়ানের মোট প্রায় ৯ একর জমির খাজনা পরিশোধ না করলে ভূমি অফিস খাজনা গ্রহণ করে না। এই নিয়মের প্রতিবাদ জানিয়ে এবং সাধারণ মানুষকে সচেতন করতে তিনি ভূমি অফিসের সামনে ভ্যানে মাইকিং করছিলেন। 


তিনি আরও অভিযোগ করেন, এ সময় এসি-ল্যান্ডের ড্রাইভার সুমন হোসেন তাকে ধরে ইউএনও’র কক্ষে নিয়ে যান। সেখানে ইউএনও তাকে অকথ্য ভাষায় গালিগালাজ করেন এবং ওয়েট পেপার ছুঁড়ে মারেন, যা তার বুকে আঘাত করে। পরে ড্রাইভারও তাকে ঘুষি মারেন বলে অভিযোগ করেন তিনি। ঘটনার পর অসুস্থ হয়ে পড়লে টুটুল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসা নেন।


প্রত্যক্ষদর্শী সাদেকুল ইসলাম উজ্জ্বল বলেন, “ওই ব্যক্তি ভূমি অফিসের সামনে মাইকিং করছিলেন। পরে তাকে ভ্যানসহ ইউএনও অফিসে নিয়ে যাওয়া হয়। পরে শুনেছি তাকে মারধর করা হয়েছে। কোনো বিষয়ে প্রতিবাদ করলেই যদি এভাবে দমন করা হয়, তাহলে আমরা কোন দেশে বাস করছি?” এদিকে ভ্যানচালক ফাহিম জানান, তাকেও আটক রাখা হয়েছিল এবং পরে ছেড়ে দেওয়া হলেও মাইকটি রেখে দেওয়া হয়।


অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে এসি-ল্যান্ডের ড্রাইভার সুমন হোসেন বলেন, “আমি শুধু গাড়ি চালাই। পুলিশ তাকে নিয়ে আসে, আমি শুধু নিয়ে গেছি। মারধরের অভিযোগ সত্য নয়।” 


বদলগাছী থানার অফিসার ইনচার্জ লুৎফর রহমান বলেন, “ওই সময় সেখানে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা করা হচ্ছিল। এসি-ল্যান্ড, পুলিশ ও ড্রাইভার উপস্থিত ছিলেন। সেখান থেকেই তাকে নিয়ে যাওয়া হয়।” তবে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) পলাশ উদ্দিনের সঙ্গে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি সাড়া দেননি।


উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ইসরাত জাহান ছনি মারধরের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, “তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য অফিসে ডাকা হয়েছিল। তিনি কার প্ররোচনায় মাইকিং করছিলেন, সেটি জানতে চাওয়া হয়। আইনটি ইউএনও বা এসি-ল্যান্ড তৈরি করেনি। পরে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।” 


ঘটনার পর এলাকায় ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়েছে। স্থানীয়রা ঘটনার সুষ্ঠু তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানিয়েছেন। একই সঙ্গে খতিয়ানের মোট জমির পরিবর্তে ব্যক্তিগত মালিকানার অংশ অনুযায়ী খাজনা গ্রহণের নিয়ম চালুর দাবি তুলেছেন ভুক্তভোগীসহ এলাকাবাসী।